অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংকট কাটাতে ডাকাতি করছে জঙ্গিরা

এনামুল কবীর রূপম । বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬

swat-militants

গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁ, শোলাকিয়া ইদগাঁ ও কল্যাণপুরের জাহাজ বাড়ির জঙ্গি হামলার ঘটনার মূলহোতা কানাডা প্রবাসী তামিম চৌধুরী নিহত হওয়ার পর অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংকটে পড়েছে জঙ্গি সংগঠন নিউ জেএমবি। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি করে পাওয়া অর্থ দিয়ে নতুন ভাবে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহের চেষ্টা করছে সংগঠনটি।

গত ৮ সেপ্টেম্বর নরসিংদীতে পুলিশের সঙ্গে ডাকাত দলের গোলাগুলির ঘটনার পর সহযোগিসহ আত্মসমর্পণ করা অপু গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানিয়েছে।

ওইদিন বাশাইল এলাকায় আহসান মঞ্জিলের মালিক মাকসুদুল কবির ফেরদৌসের কাছে বাসা ভাড়া নেয়ার কথা বলে অস্ত্রধারী চার ডাকাত বাসার লোকজনদের জিম্মি করে ফেলে। পরে ঘরের আলমিরা ভেঙে স্বর্ণ ও নগদ টাকা লুট করে।

%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a4

পরে পুলিশের সঙ্গে প্রায় ৩০ মিনিট গোলাগুলি শেষে দলের নেতা অপুসহ চার ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

নামপ্রকাশ না করে গোয়েন্দা পুলিশের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, ‘গত ২৭ অগাস্ট নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় জঙ্গি আস্তানায় ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের অভিযানে সহযোগীসহ তামিম চৌধুরী নিহত হওয়ার পর অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংকটে পড়ে যায় নিউ জেএমবির সদস্যরা। এ জন্য তারা নতুন পন্থায় অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহে নামে। নরসিংদীতে ডাকাতির ঘটনাও ছিলো এই পরিকল্পনারই অংশ।’

dakat

অপু গোয়েন্দাদের আরো জানিয়েছে, কয়েকদিন আগে উত্তরের জেলা গাইবান্ধায় চাউল বোঝাই একটি ট্রাক ছিনতাই করে ওই ট্রাকসহ তা বিক্রি করে দেয়। পরে এখান থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে তারা নিউজেএমবির উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে ২৮ লাখ টাকা দিয়ে একটি ট্রাক কিনে।

narayangonj-militant-tamim-death

এমন তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ এখন ওই ডাকাত দলটিকে আটক করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

apu

ডাকাত দলের নেতা অপুকে অাটকের পর নড়েচড়ে বসেছে শীর্ষ গোয়েন্দারা। দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদে অপু স্বীকার করেছে কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে সারাদেশেই ডাকাতি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জঙ্গিরা।

গত ২৭ অগাস্ট নারায়ণগঞ্জে ‘হিট স্ট্রং-টোয়েন্টি সেভেন’ নামের ওই অভিযানে নিহত হন হলি আর্টিজান হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী, মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি নেতা তামিম চৌধুরীসহ ৩ জঙ্গি। উদ্ধার করা হয় একে-২২ রাইফেল, গ্রেনেড, পিস্তল ও অন্যান্য গোলাবারুদ।

তামিমকে বাংলাদেশে আইএসের কথিত সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করতেন বলে একাধিক বার দাবি করে আইএস। বাংলাদেশী বংশদ্ভূত কানাডিয়ান এ নাগরিক সিলেটের শান্তি কমিটির নেতা মজিদ চৌধুরীর নাতি; ২০১৩ সাল থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। পরে তামিমকে ধরিয়ে দিতে ২০ লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করে পুলিশ সদর দপ্তর। তথ্যসূত্র- চ্যানেল আই

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.