আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনের লক্ষ্য পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন

আবদুর রশিদ।  বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬

আওয়ামী লীগের নেতারা ইন, আউট ও পদোন্নতি নিয়ে চিন্তিত

আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ণ প্রস্তুতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে। উক্ত সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে যে ঘোষণাপত্র পেশ করা হবে, তার আলোকেই মূলত প্রস্তুত হবে আওয়ামী লীগের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনী ইশতেহার। ২০তম সম্মেলনের সবকিছুই হবে পরবর্তী নির্বাচনকেন্দ্রীক মহড়া।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী রমজানের ঈদের আগেই একাদশ নির্বাচনের প্রস্তুতির ডাক দিয়েছেন। তখন থেকেই আমরা শুরু করেছি। সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে নির্বাচনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জোরদার করা হবে।’

সরকারী ক্ষমতায় থাকা দলটির তিনজন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং দুজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়।

তাঁদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগের সম্মেলনের সবকিছুতেই থাকবে পরবর্তী সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির ছাপ। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে ‘দিন বদলের সনদ’ স্লোগান দিয়ে ভিশন-২০২১ ঘোষণা করা হয়েছিল। এটা দলটির ১৯তম সম্মেলনের ঘোষণাপত্র থেকে নেওয়া হয়েছিল। এবারের সম্মেলনে ভিশন-২০৪১ চূড়ান্ত করা হবে। চূড়ান্ত ঘোষণায় থাকবে আকর্ষণীয় স্লোগান। তবে এখনো ওই ঘোষণা চূড়ান্ত হয়নি।

ওই নেতারা বলছেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিকল্পনা তৈরির জন্যই সম্মেলন বারবার পেছানো হয়েছে। মূলত দলটির সম্মেলনটি হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মহড়া।

তিনবার পেছানোর পর আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ২০তম ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, ‘২০তম জাতীয় সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যে ঘোষণাপত্র পেশ করা হবে, তার আলোকেই আওয়ামী লীগ একাদশ সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার প্রস্তুত করবে। গত নির্বাচনের ইশতেহারেও তা-ই হয়েছিল।’

দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর তিন সদস্য বলেন, পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে হলেও এটা নিয়ে কোনো দল থেকেই উচ্চবাচ্য হবে না। বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁরা জেনেছেন, বর্তমান সরকারের অধীনেই বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে।

তবে নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপির যে আপত্তি রয়েছে, সে সম্পর্কে সরকার সচেতন। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের মেয়াদ শেষ হবে। নতুন নির্বাচন কমিশন সবার মতামত নিয়েই গঠন করা হবে বলে তাঁরা জানান।

ওই পাঁচজন নেতার মতে, নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণে অনেক ছাড় দিতে তাঁরা প্রস্তুত। তবে বর্তমান সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে কোনো ছাড় তাঁরা দেবেন না।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এক আলোচনা সভায় বলেন, ‘যে যেভাবেই কথা বলুক না কেন, ২০১৯ সালের আগে কোনো নির্বাচন হবে না এবং নির্বাচন শেখ হাসিনার অধীনেই হবে।’ তথ্যসূত্র- প্রথম আলো

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.