আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ‘ধ্রুপদী’ লড়াই

আর্জেন্টিনা_ব্রাজিল ‘ধ্রুপদী’ লড়াই

বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৫

স্পোর্টস ডেস্ক |||

brazil vs argentina

সিটিজবার্তা২৪ডটকম ঃ  লিওনেল মেসি, সার্জিও আগুয়েরো ও কার্লোস তেভেজকে ছাড়াই বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ঘরের মাঠ বুয়েন্স আইরেসে নেইমারদের আতিথ্য দিবে আলবিসেলেস্তেরা।

Argentina vs Brazil

ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বৃহস্পতিবারের ধ্রুপদী লড়াইটি বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর ছয়টায় শুরু হবে। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে সনি কিক্স ও সনি সিক্স এইচডি।

একইদিন মাঠে নামবে চিলি, উরুগুয়ে ও কলম্বিয়ার মতো দলগুলো। রাশিয়ার বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচে বৃহস্পতিবার চিলি-কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে-ইকুয়েডর মুখোমুখি হবে। পেরু খেলবে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে আর বলিভিয়ার প্রতিপক্ষ ভেনেজুয়েলা।

Brazil vs Argentina world cup qualifying 2015

ক্রিকেটে যেমন ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি লড়াইয়ে উত্তেজনা ও রোমাঞ্চ ছড়ায়, ঠিক তেমনি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মুখোমুখি লড়াইয়েও থাকে তুঙ্গস্পর্শী উত্তেজনা। ম্যাচের প্রতিটি পরতে পরতে সাজানো থাকে রোমাঞ্চ, ঝাঁঝ, আবেগ ও উত্তেজনা।

মেসি, আগুয়েরো ও তেভেজের অনুপস্থিতিতে সাদা চোখে দেখলেই মনে হবে আর্জেন্টিনা হয়তো কিছুটা পিছিয়ে থেকে শুরু করবে। তবে দুই দলের ক্লাসিকো ম্যাচে কারো না থাকাতে ম্যাচ থেকে উত্তেজনা ও রোমাঞ্চ হারিয়ে যায় না। ফলে জমজমাট লড়াইয়ের অপেক্ষায় গোটা ফুটবলবিশ্ব।

Neymar_goal_agaist_Argentina

২০১৮ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের শুরুটা খুবই ‘জঘন্য’ হয়েছে আর্জেন্টিনার। প্রথম দুই ম্যাচ থেকে মাত্র এক পয়েন্ট অর্জন করে তারা। প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে ২-০ গোলের ‘লজ্জাজনক’ পরাজয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে প্যারাগুয়ের সঙ্গে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে মেসিহীন আর্জেন্টিনা। খাদের কিনারায় থাকা সেই দলটি মেসি-আগুয়েরোদের ছাড়াই ব্রাজিলকে কীভাবে সামলায় সেটিই দেখার বিষয়।

অন্যদিকে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের শুরুটা ভালো হয়নি ব্রাজিলেরও। প্রথম ম্যাচে চিলির কাছে হারার পর দ্বিতীয় ম্যাচে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় পায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে ব্রাজিলকে ভরসা জোগাচ্ছে নেইমারের ফিরে আসাটা। চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আর্জেন্টিনা ম্যাচেই ফিরছেন বার্সেলোনা সুপারস্টার। নিজের প্রত্যাবর্তনের জন্য এর চেয়ে আদর্শ ম্যাচ আর হতে পারে না নেইমারের জন্য।

মেসি-আগুয়েরো ও তেভেজের অনুপস্থিতিতে আর্জেন্টিনাকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলার মূল দায়িত্ব এসে পড়ে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার কাঁধে। প্যারিস সেন্ট জার্মেই’র (পিএসজি) এই মিডফিল্ডার রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। দলের সেরা কয়েকজন খেলোয়াড়কে ছাড়াই ব্রাজিল-বাধা অতিক্রম করার আশাবাদ শোনান তিনি।

ডি মারিয়া বলেন, ‘আমি প্যারিসের লিগে এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে যেভাবে খেলছি তাতে করে আমি অন্যন্ত খুশি। আশা করি আমি দেশের হয়ে সেই ফর্ম অব্যাহত রাখতে পারবো। আমরা বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা মিস করছি। বিশেষ করে লিও (লিওনেল মেসি) ও কুন (সার্জিও আগুয়েরো)। আমরা ব্রাজিল কলম্বিয়ার বিপক্ষে তিন পয়েন্ট পাওয়ার জন্য নিজেদের সামর্থ্যে সবটুকু ঢেলে দিবো। আমি মনে করি এটি (দুই ম্যাচ থেকে ছয় পয়েন্ট পাওয়া) সম্ভবও।’

Messi_injured

আর্জেন্টিনার বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে আছে ব্রাজিল। একদিকে আর্জেন্টিনা দলের সেরা খেলোয়াড়দের ইনজুরির কারণে পাচ্ছে না, অন্যদিকে ব্রাজিল দলের সেরা খেলোয়াড় নেইমারকে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা শেষে আর্জেন্টিনা ম্যাচেই পাচ্ছে। ফলে ফুরফুরে মেজাজেই থাকার করা সেলেসাওদের।

Neymar_top_scoorer_la_liga

চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন নেইমার। সর্বশেষ সাত ম্যাচে ১০ গোল করেছেন এই ব্রাজিল অধিনায়ক। এর মধ্যে গত রোববার ভিয়ারিয়েলের বিপক্ষে লা লিগা ম্যাচেই যেই অবিস্মরণীয় গোলটি করেছেন সেটি ২০১৫-১৬ মৌসুমের সেরা গোল হওয়ার দাবি রাখে।

Brazil_football_team

মেসি, আগুয়েরো ও তেভেজ না থাকলেও আর্জেন্টিনা যে যথেষ্ট সমীহ করার মতো দল সেটা মানছেন ব্রাজিল গোলরক্ষক ক্যাসিও, ‘অবশ্যই তারা সবাই বিশ্বমানের খেলোয়াড়। কিন্তু আমরা তাদেরকে (আর্জেন্টিনা) ছোট করে দেখছি না। তাদেরকে ছাড়াই তারা এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী দল।’

ইতিহাস ও পরিসংখ্যা: আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল প্রথম মুখোমুখি হয় ১৯১৪ সালে। প্রথম সাক্ষাতে ঘরের মাঠে ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে আলবিসেলেস্তেরা।

দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। ১৯৪০ সালে বুয়েন্স আইরেসে তারা ৬-১ গোলের ব্যবধানে ব্রাজিলকে পরাজিত করে। এছাড়া ১৯৩৯ সালে ব্রাজিলের মাঠে ৫-১ গোলের বড় জয় পেয়েছে ম্যারাডোনার দেশ।

Argentina_football_team

ব্রাজিল দুবার আর্জেন্টিনাকে ৬-২ গোলে পরাজিত করে। ১৯৪৫ ও ১৯৬০ সালে ঘরের মাঠ রিও ডি জেনেরোতে আর্জেন্টিনাকে ৬-২ গোলে পরাজিত করার রেকর্ড রয়েছে সেলেসাওদের। এছাড়া ১৯৬০ সালে আর্জেন্টিনাকে তাদেরই মাঠে ৪-১ গোলে পরাজিত করে সেলেসাওরা।

আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে কেউ কারো চেয়ে পিছিয়ে নেই। এর আগে দুই দল ৯৬ বার মুখোমুখি হয়েছে। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমান ৩৬টি করে ম্যাচে জয় পেয়েছে। অন্য ২৪টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। আর্জেন্টিনার ১৫১ গোলের বিপরীতে ব্রাজিল করেছে ১৪৭ গোল।

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সর্বশেষ মুখোমুখি লড়াইয়ে জয় পেয়েছে নেইমারের দেশ। গত বছরের ১২ অক্টোবর বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে পরাজিত করে সেলেসাওরা।

Arg Suporter

দুই দলের সর্বশেষ পাঁচ সাক্ষাতের ফলাফলেও এগিয়ে রয়েছে ব্রাজিল। শেষ পাঁচ ম্যাচের তিনটিতে জয় পেয়েছে ব্রাজিল। আর আর্জেন্টিনা জিতেছে দুটিতে।

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচেও মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আর্জেন্টিনার সঙ্গে ছয়বারের সাক্ষাতে তিনটি জয় পেয়েছে সেলেসাওরা। আর্জেন্টিনা জিতেছে দুটিতে। অপর ম্যাচটি ড্র হয়।

আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মধ্যকার সর্বশেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচেও জয় পাওয়া দলের নাম ব্রাজিল। ২০০৭ সালের কোপা আমেরিকা কাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা জয় করে রিকার্ডো কাকার ব্রাজিল। এছাড়া ২০০৯ সালে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে মেসির শহর রোজারিওতে আর্জেন্টিনাকে ৩-১ গোলে হারায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

Arg vs Bra

সম্ভাব্য একাদশ:

আর্জেন্টিনা (৪-৪-২ ফর্মেশন): সার্জিও রোমেরো, মার্টিন দেমিচেলিস, ফিউনেস মোরি, নিকোলাস ওতামেন্দি, ম্যাস ক্রানিভিতার, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া, পাস্তোরে, হাভিয়ের মাচেরানো, গঞ্জালো হিগুয়াইন ও এজিকুয়েল লাভেজ্জি।

ব্রাজিল (৪-৪-২ ফর্মেশন): অ্যালিসন, ডেভিড লুইস, মিরান্ডা, দানি আলভেস, ফিলিপ লুইস, ডগলাস কস্তা, এলিয়াস মেন্ডেস, অস্কার, লুইস গুস্তাভো, উইলিয়ান ও নেইমার।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.