একজন গল্পের ফেরিওয়ালা

FB_IMG_1471786233122

জেনিফার আলম: তারুণ্যের শক্তি বা উদ্যম নিয়ে আমরা সবসময়ই প্রত্যাশী। যুগে যুগে তারুণ্যের জয়গান শুধু মানুষের কন্ঠেই নয় শুধু, বরং এরই সাথে ইতিহাসের পাতা ও সময়ের স্রোত পরতে পরতে সাক্ষী হয়ে এসেছে। এই বাংলার মাটিতেও তারুণ্যের শক্তি  এসেছে বার বার নিজস্ব শক্তি, স্বকীয়তা ও উদ্যমের সাক্ষর রেখে। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি, হচ্ছে না আর হবেও না। এমনই এক তারুণ্যের পথচারী “সাদাত হোসাইন”।

হ্যা, আমাদের আজকের লেখাটি সেই সাদাত হোসাইন কে নিয়ে, যে একাধারে আলোকচিত্রী, লেখক হিসেবে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। একই সাথে সুশীল সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে সক্ষম হয়েছেন।

 

জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সাদাত এর অন্যতম একটা গুন হল ওর নিরহংকার। কি? অতিরঞ্জন মনে হচ্ছে!!!! আচ্ছা চলুন ঘুরে আসি সাদাত হোসাইন এর একটা সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের একটা ঘটনা থেকে।

Junior Chamber International এর Ten Outstanding Young Person in Bangladesh (TOYP Bangladesh) Award-2013 এর মনোনীত দশজন উইনার এর মধ্যে একজন সাদাত হোসাইন। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানটি হয় ঢাকার “দ্যা ওয়েস্টিন” হোটেল এ। সেই অনুষ্ঠানে তার দেয়া বক্তব্য আর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকে তার প্রকাশিত স্ট্যাটাসে বোঝা যায় কতখানি সহজ, সরল, স্বপ্নবাজ একজন তরুন সাদাত হোসাইন। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মাঝে নিজেকে একেবারেই সাদামাটা আর সাধারন হিসেবে তুলে ধরার মাঝেই সাদাত হোসাইনের ব্যক্তিত্বের পরিচয় কিছুটা হলেও উঠে আসে। সাদাত স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসতেন। স্বপ্ন আর ইচ্ছা একজন মানুষকে কতখানি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে তা তার চলার পথের অনুকরনে সহজেই অনুমেয় হয়। গ্রামে থেকে বড় হওয়া সাদাত আজ শহুরে অহঙ্কারী নিষ্কর্মাদের অনুসরনীয় এবং অনুকরনীয় একজন ব্যক্তিত্বে পরিনত হয়েছেন।

রেডিও, টেলিভিশন অর্থাৎ ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া বিহীন একটি গ্রামে জন্ম সাদাত হোসাইন এর। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া আড়িয়াল খাঁ নদী তার শৈশবকে করেছে অনেক সজীব আর প্রানবন্ত।

আলোকচিত্রের উপর ভিত্তি করে লেখা গল্পের বই আর ছবি দিয়ে লেখক হিসেবে যাত্রা শুরু সাদাত হোসাইনের। ২০১৩ সালে প্রথম বই “গল্পছবি” দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেন তরুন লেখক সাদাত হোসাইন। ছবি ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট গল্প জোড়ানো বইটি সাদাত হোসাইন কে লেখালেখি চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট অনুপ্রেরনা প্রদান করে। এর পর শুরু করেন ছোটগল্প লেখা। “জানালার ওপাশে” নামের বই নিয়ে আবার আসেন পাঠক সমাজের মন জয় করে নিতে ২০১৪ সালে। ক্রমাগত সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের বইমেলায় নতুন লেখক হিসেবে বের করেন “আরশিনগর”। প্রকাশক এবং লেখক স্বয়ং অবাক হয়ে যান এই বইটির জনপ্রিয়তায়। সবাইকে অবাক করে দিয়ে প্রথম এগারো দিনের মাথায় আরশিনগর এর প্রথম মুদ্রনের সব কয়টি কপি বিক্রয় হয়ে যায়। এখানেই থেমে থাকেনি আরশিনগর। ২০১৫ সালের মধ্যেই পুরোপুরি তিনটি মুদ্রন বিক্রয় শেষ হয় আরশিনগর এর। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের কলকাতার বইমেলাতেও আরশিনগর এর সব কয়টি বই বিক্রয় হয়। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকের মাধ্যমে বইটির কপি অনেকেই কুরিয়ারের সহায়তায় সংগ্রহ করেছেন।

 

সাদাত আরো বলেন, ছবি,লেখালেখি বা চলচ্চিত্র যে কোন মাধ্যমই হোক না কেন,পাঠক জনসাধারনের কাছে তার গল্প পৌছে দেয়াটাই তার সব কিছুর মূলে। তার স্বপ্নপ্রবণতা আর কল্পনাপ্রবণতা তাকে নানা ধরনের গল্পের মাধ্যমে পাঠক সমাজের হৃদয়ে স্থান করে নিতে অনেকখানি সাহায্য করে।

নির্মাতা হিসেবে যাত্রা শুরু “বোধ” নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দিয়ে যার দৈর্ঘ্য ছিলো পাঁচ মিনিট ৪২ সেকেন্ড। সংলাপহীন এ চলচ্চিত্র প্রকাশের সাথে সাথে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকে রীতিমত ঝড় তোলেন সাদাত হোসাইন। ২০১৩ সালে এই চলচ্চিত্রের স্বীকৃতি স্বরূপ “জুনিয়র ইন্টারন্যাশনাল এওয়ার্ড” জিতে নেন সাদাত হোসেন। গ্রামের প্রচন্ড দুরন্তপনা আর দারিদ্র্যে বেড়ে ওঠা সাদাত তার শৈশবকে নিজের জীবনের মূলধন হিসেবে গ্রহন করেন। আড়িয়ালখা নদীর পাঁড়ে বেঁড়ে ওঠা সাদাত এর স্বপ্ন ছিলো খেয়া নৌকার মাঝি হওয়া। আর একটা অদ্ভুত স্বপ্ন ছিলো ছাপার অক্ষরে নিজের নাম দেখতে পাওয়া। চতুর্থ শ্রেনীতে পড়ুয়া সেই ছোট্ট সাদাত হোসাইনের সেই স্বপ্নই মূলত আজকের সাদাত হোসাইন হয়ে ওঠার পেছনে শক্তি, সাহস আর অনুপ্রেরনা যুগিয়ে এসেছে। আর আজকের সাদাত হোসাইনই অনুপ্রেরনা যোগাচ্ছেন হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ তরুনের সাদাত হোসাইন হয়ে ওঠার পেছনে।

আমরা অনেকেই অনেক স্বপ্ন দেখি। কেউ দেখি আকাশ ছোয়ার, কেউ দেখি বিশ্ব জয়ের। কিন্তু কজনে আমরা স্বপ্ন পূরন করতে পারি? তাই বলে কি হাল ছেড়ে দিলে চলবে? অদম্য শক্তিতে এগিয়ে যেতে হবে তারুন্যের আহবানে। যেমনটা এগিয়েছেন সাদাত হোসাইন। আসুন, আমরা আরো লক্ষ কোটি সাদাত হোসাইন গড়ে তুলি। স্বপ্নময় একটা সমাজ গড়ি।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.