এক মাসের মাথায় বিকল সোনার বাংলা এক্সপ্রেস

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম, নিউজ ডেস্ক

Railway-New-Train-Sonar-Bangla_2016-08-02-06.04.16

চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে গত শুক্রবার থেকে একটি এসি বগি ছাড়াই চলাচল করছে নতুন ট্রেন সোনার বাংলা এক্সপ্রেস। নতুন ট্রেনটি উদ্বোধন করার এক মাসের মাথায় এসে যান্ত্রিক ত্রুটিতে চলছেনা একটি এসি কোচ বগি।

নতুন ট্রেন সোনার বাংলা একটি ৫৫ সিটের এসি বগি কম নিয়ে চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে দিনে দুইবার যাতায়াত করতে হচ্ছে আর রেলওয়েকে দৈনিক লোকসান গুনতে হচ্ছে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা করে। বগিটি কবে মেরামত করে পুনরায় সচল করা হবে সুনির্দিষ্টভাবে বলতেও পারছেনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৬ জুন চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে জাতীয় পতাকা লাল সবুজের রঙ্গে নতুন এই ট্রেন উদ্বোধন করেছিলেন। উদ্বোধনীর পরদিন থেকে যাত্রী নিয়ে সুবর্ণ এক্সপ্রেসের আসলে এই ট্রেন চলাচল করে তার পরদিন থেকে। ১৬টি কোচ নিয়ে যাত্রা শুরু করা ট্রেনের একটি এসি কোচ বিকল হয়ে যায় গত শুক্রবার। আর সেই থেকে একটি কম বগি নিয়ে চলাচল করছে বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়।

রেলওয়ের বাণিজ্যিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে সোনার বাংলা ট্রেনটি ২০ মিনিট বিলম্বে চট্টগ্রাম ছেড়ে যায়। ঢাকা থেকে ১৬টি কোচ নিয়ে সকাল ৭টায় ছেড়ে আসার পর দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছলেও বিকাল ৫টায় ছাড়ার আগ মুহূর্তে ১৩০১ নম্বর এসি কোচটি অকার্যকর হয়ে যায়। এতে এই কোচটিকে কেটে রেখে যাত্রীদের অন্যান্য কোচে সমন্বয় করে বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ছেড়ে যায়।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা এসব একেকটি এসি কোচের দাম পড়েছে ৩ কোটি ৫৫ লাখ, অপরদিকে নন এসি কোচের দাম ২ কোটি ৯৬ লাখ ও পাওয়ার কারের দাম পড়েছে ৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এতো দামে কেনা এসব কোচ নির্বিঘ্নে টানা দুই বছর সার্ভিস দেয়ার কথা। কিন্তু চালুর মাত্র এক মাসের মাথায় তা বিকল হয়ে যাওয়ার পর এখনো মেরামত করতে পারেনি রেলওয়ে।

শুধু মেরামতই নয়, যেখানে মেরামত হবে (পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানা) সেই স্থানেও এই কোচটি পাঠানো হয়নি।

এখনো কোনো ইন্দোনেশিয়ান কোচ মেরামতের জন্য না পাওয়ার কথা স্বীকার করে পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানার তত্ত্বাবধায়ক মিজানুর রহমান বলেন, ‘শুনেছি একটি এসি কোচ বিকল হয়েছে।কিন্তু এই কোচ মেরামতের জন্য অবশ্যই আমাদের কারখানায় আসার কথা রয়েছে। কিন্তু তা এখনো আসেনি। আর তা মেরামতের জন্য ইন্দোনেশিয়ান প্রকৌশলীরা আমাদের কারখানায় রয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে কারখানায় ইন্দোনেশিয়া থেকে নতুন করে আসা আরো ২২টি কোচের এসেম্বেলর কাজ চলছে।

অপরদিকে কোচটিতে কোন ধরনের সমস্যা রয়েছে জানতে চাইলে সহকারী যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ইনচার্জ) আশিষ বলেন, ‘সোনার বাংলার বিকল হওয়া কোচটিতে যান্ত্রিক কোনো ত্রুটি ছিল না। এটিতে ছিল এসির সমস্যা। তাই এর জন্য যান্ত্রিক বিভাগের কোনো কাজ নেই। ইলেকট্রিক বিভাগের কাজ।’

কোচের খোঁজ নিতে জানতে চাওয়া হয় বিভাগীয় ইলেকট্রিক্যাল প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, ‘এই কোচের ইলেকট্রিক্যাল ত্রুটি রয়েছে। তাই আমরা মেরামতের জন্য পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানায় পাঠিয়েছি।’

কিন্তু পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানার তত্ত্বাবধায়ক মিজানুর রহমান বলেন, ‘কোচটি আমরা এখনো রিসিভ করিনি। আর আমাদের কারখানার ভেতরে জায়গাও নেই।’

রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, স্বাভাবিকভাবেই সোনার বাংলার কারণে রেলের লোকসান হচ্ছে। ট্রেনের ভাড়ার অতিরিক্ত ২০০ টাকা করে নিয়ে যাচ্ছে পর্যটন করপোরেশন। খাবারের নামে বাড়তি ২০০ টাকা করে নেয়ায় যাত্রীও কম হচ্ছে। তবে ধীরে ধীরে যাত্রী যখন বাড়ছে তখন একটি কোচ না থাকায় যাত্রীরা যেমন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে তেমনিভাবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও আর্থিকভাবে লোকসান গুনছে।

উল্লেখ্য, সোনার বাংলা ট্রেনে ১৬টি কোচ রয়েছে। এর মধ্যে নন এসি কোচ রয়েছে ৭টি, এসি চেয়ার কোচ ৪টি, এসি কেবিন ২টি, দুটি খাবার গাড়ি ও একটি পাওয়ার কার। এসব কোচ গত মে মাসের দিকে ইন্দোনেশিয়া থেকে চট্টগ্রামে আসে।

ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা ১৫০টি কোচের মধ্যে ১০০টি কোচ চলবে মিটার গেজ রুটে ও ৫০টি চলবে ব্রডগেজ রুটে। ১৫০টি কোচের মধ্যে এপর্যন্ত তিন দফায় পাওয়া গেছে ৫৯টি কোচ।

আপনার মতামত দিন....

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.