কর্ণফুলীতে সিডিএ নালা বন্ধ করে বন্দি পানিতে করছে মাছ চাষ

কতৃপক্ষের নজর নেই কর্ণফুলীতে সাড়ে তিন কিঃ মিঃ পানি নিষ্কাশনের নালা প্রভাবশালীদের দখলে

শুক্রবার, ২৫ জানুয়ারি ২০১৯

কর্ণফুলীতে সিডিএ নালা বন্ধ করে বন্দি পানিতে করছে মাছ চাষ

জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে ডিসি রোড প্রচলিত নাম সিডিএ সড়কের দুপাশ স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরধারী না থাকায়, রাতারাতি মাটি ভরাট করে গড়ে তোলা হচ্ছে বানিজ্যিক ভবন, স্থাপনা ও ঘরবাড়ি। যেন দেখার কেউ নেই।

বর্তমানে পুরাতন ব্রীজঘাট টু মইজ্জ্যারটেক সিডিএ সড়কের প্রায় সাড়ে তিন কিঃ মিঃ এলাকা জুড়ে দুপাশের নালা ( খাই যা পানি চলাচলের গর্ত) অনেকটা ভরাট করে রেখেছে দখলদারেরা। ফলে বর্ষা মৌসূমে চরপাথরঘাটা ও চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের অনেক ঘরবাড়ি পানির তলে ডুবে থাকে।

এ বিষয়ে কোন প্রতিকার কিংবা ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃপক্ষ কিংবা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের। যদিও তথ্যমতে, এখানে রয়েছে চরলক্ষ্যা-শিকলবাহা খাল, চরলক্ষ্যা-চরফরিদ খাল, লেইঙ্গা খাল, মামা ভাগিনার খাল, চরলক্ষ্যা-খোয়াজনগর খাল, চরলক্ষ্যা-বালুরচর খাল। এসব খালে নালার পানি পড়েনা। বরং সবদিকে খাই দখল করে নেওয়ায় প্রতিবন্ধকতায় আটকে রয়েছে খালে পানি আসা। ফলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে চরপাথরঘাটা ও চরলক্ষ্যার অনেক নালা ও শাখা খালে।

সুত্রে জানা যায়, অতীতে চউক নির্মাণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী কয়েকবার মাটি ভরাট করণের কাজ বন্ধে স্থানীয় থানাকে ব্যবস্থা নিতে চিঠি প্রেরণ করেও কোন সুফল পায়নি জনগণ। তবে সিডিএ এর জায়গা দখল বেদখল ও ভরাট নিয়ে নানা অভিযোগ স্থানীয় পরিষদে সালিশী বৈঠক ও থানায় অভিযোগ ও মামলা হয় বলে জানা যায়।

অপরদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, মইজ্জ্যারটেক টু ব্রীজঘাট নয়াহাট সেতুর পাশ হতে প্রায় সাড়ে তিন কিঃ মিঃ সড়কটির দুপাশের সিডিএ নালা (খাই) দিয়ে পানি সরছে না কোথাও। যার বাড়ির সামনে খাই পড়েছে সেই দখলদার মাটি ভরাট করে গড়ছে দোকান ঘর কিংবা বাড়ি সাথে সংযুক্ত করছে সরকারি নালা। ফলে সরকারি সম্পদ চলে যাচ্ছে অবৈধ দখলদারদের হাতে।

গতকাল তোলা ছবিতে দেখা যায়, কর্ণফুলী উপজেলার উত্তর চরলক্ষ্যার ৩নং ওয়ার্ডে পাকা সড়কের পাশের নালা দিয়ে পানি সরছে না। অপর পাশে ট্রাকে করে মাটি এনে ফেলছে নালা (খাই) ভরাট করতে।

এ যেন নিত্য দিনকার দৃশ্য কর্ণফুলীতে। যেন দেখার কেই নেই। আগামী বর্ষণে উপজেলার অধিকাংশ জায়গা ও ঘরবাড়িতে পানিতে নিমজ্জিত হবে তা নিশ্চিত। সৃষ্টি হবে অনেকটা জলাবদ্ধতা। এখানকার নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যাবে। দুর্ভোগে পড়বে মানুষ।

চরপাথরঘাটা ও চরলক্ষ্যাবাসীর অভিযোগ, ‘প্রভাবশালীরা সিডিএ নালা (খাই) দখল করে রেখেছে। কোন দিকে পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা নেই। এলাকার নালাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে থাকায় ব্যবহার্য পানি সহজে বের হতে পারছে না।

এর ফলে চারপাশে পানি জমে জলাবদ্ধতা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে। বাড়ছে শিশুদের রোগব্যাধি। এ থেকে স্থায়ী মুক্তি দাবি করেন এলাকার সচেতনমহল।

এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কর্ণফুলীর চরপাথরঘাটার অধিকাংশ এলাকা ইছানগর, খোয়াজনগর, মইজ্জ্যারটেক, চরলক্ষ্যার সৈন্যেরটেক, খ্ইুজ্জ্যারটেক সহ অনেক নিচু এলাকায় সারা বছরই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে থাকে। যার একমাত্র কারণ পানি নিষ্কাশনের কোন সঠিক ব্যবস্থা নেই। আবার থাকলেও সব নালা বন্ধ করে রেখেছে। ড্রেন ও নালা অপরিকল্পিত ভাবে তৈরী হয়েছে তাও ঘুটিকয়েক।

খাই দিয়ে চলাচল করার কথা এসব পানি। কর্ণফুলী নদীর শাখা প্রশাখা দিয়ে পরে এসব জল গড়াবে সাগরে। কিন্তু সিডিএ খাই কিংবা নালা পরিণত হয়েছে দখলদারদের মাছ চাষের ঘেরে। নালা বন্ধ করে বন্দি পানিতে করছে মাছ চাষ।

এলাকার নালার ছিদ্রগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি সরতে পারছে না। নালার পানি উপচে আশপাশের জায়গা, বাসাবাড়ি ও রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়ে বর্ষায়। তারপরেও খবর থাকেনা কারো।

কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগ করেন, খোয়াজনগরে নালায় নালায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করায় নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। উত্তর চরলক্ষ্যার নাজিম জানান, পানি নালা দিয়ে সহজে বের হতে না পারায় তাঁর এলাকার কয়েকটি জায়গা বারমাস জলাবদ্ধতায় পানি জমে থাকে।

এলাকাবাসীর পক্ষে কায়সার, নুর মোহাম্মদ, জামান, সাইদুল হক হাজী, শাহেদা বেগম ও বাদশা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন বাসা বাড়ি ও ভাড়া বাড়ি নির্মাণকালে পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবহার করা পঁচা পানি পড়ছে সিডিএ নালায়। আর নালার পানি সরছেনা। ফলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এলাকায়। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনগণকে।’

উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগ সূত্র জানা যায়, কর্ণফুলীতে ছোট বড় অনেক নালা রয়েছে। এর মধ্যে বড় নালার পরিমাণ একটু বেশি। এ ছাড়া মাঝারি ও ছোট নালা গুলো প্রতিটি ইউনিয়নকে ঘিরে রেখেছে। নালাগুলোতে ১২মাসেই কিছু মানুষ ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখায় জলাবদ্ধতা দেখা যায় বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ভোক্তভোগিদের অভিযোগে আমি গত ২০ তারিখেও পরিষদে অনেককে নির্দেশ দিয়েছি নালা (খাই) ভরাট না করতে। পানি চলাচলের নালা বন্ধ করলে জলাবদ্ধতা বাড়বে সেটা সবাইকে বুঝতে হবে।’

কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা একটি দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। আশা করি নদী নালা ও খাল ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ সহ জনস্বার্থে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।’

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.