কীভাবে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে, জানেন না গোয়েন্দারাও

মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

কীভাবে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে, জানেন না গোয়েন্দারাও

কীভাবে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে, জানেন না গোয়েন্দারাও

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম নিউজ ডেস্ক : কিছু দিন ধরে বিভিন্ন চাকরিতে নিয়োগ ও পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। চলতি মাসে শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর তা তদন্ত করার ভার পেয়েছেন গোয়েন্দারা। তারাও এর কোনো কূলকিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না।

প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অস্বীকার করছেন। কেউ কেউ বিষয়টি স্বীকার করলেও তার দায় চাপাচ্ছেন অন্যের ওপর।

তারা বলছেন, কেন এবং কীভাবে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দারা ভালো বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এখনো জানেন না কীভাবে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। এমনকি এটা রোধে কীভাবে কাজ করা হবে, সে বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

এসএসসি পরীক্ষা শুরুর পর থেকে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রমাণসহ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এসব প্রতিবেদনে প্রশ্ন ফাঁসকারীদের ফেসবুক আইডি, ফেসবুক পেজ, হোয়াটসঅ্যাপের গ্রুপ, ফোন নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করা হয়েছে।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে গত ১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার। এদিন হয় বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা। প্রথম দিন থেকেই শুরু হয়েছে প্রশ্ন ফাঁস। যা এখনো চলছে। সর্বশেষ গতকাল সোমবার হয়েছে ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা। কালও একইভাবে হয়েছে প্রশ্ন ফাঁস।

সর্বশেষ ইংরেজি পরীক্ষাসহ চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের মোট তিনটি পরীক্ষা হয়েছে। এই তিনটি পরীক্ষারই প্রশ্ন একই কায়দায় ফাঁস হয়েছে। এভাবে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ, বিরক্ত ও শঙ্কিত।

সবচেয়ে বড় আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন সিআইডির সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ সুপার শারমিন জাহান। তিনি বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে আমাদের কাজের তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। আমরা এখনো তেমন কিছু জানি না। কীভাবে কারা প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত আমরা কিছুই জানি না।

এ বিষয়ে কাজ শুরু হচ্ছে বলে জানান সিআইডির এই কর্মকর্তা।

সিআইডির একটি সূত্র জানিয়েছে, চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রথম তিনটি বিষয়ের প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার বিষয়ে উদ্বিগ্ন তারা। এজন্য সোমবার সন্ধ্যায় প্রশ্ন ফাঁস বন্ধে তারা একটি বৈঠকেও বসেছিলেন। সেখানে প্রশ্ন ফাঁস রোধে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। এছাড়া কীভাবে প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ করা যায় তার ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনার ছক এঁকেছেন তারা। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।

এদিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বলছে, তাদের কাছে যেসব বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য বলা হয় শুধু সেগুলোই করেন। আগের বছর প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে একটি অ্যাসাইনমেন্ট তারা পেয়েছিলেন। তখন অনুসন্ধান করে প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত একজনকে হাতেনাতে তারা গ্রেপ্তারও করেছিলেন। এ বছর সংস্থাটির কাছে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে অনুসন্ধানের কোনো নির্দেশনা না থাকলেও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন তারা। পাশাপাশি জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিবিআইর একজন কর্মকর্তা বলছেন, যারা ঘোষণা দিয়ে প্রশ্ন ফাঁস করার কথা বলছেন তাদের অনেকে ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তবে প্রশ্ন যে ফাঁস হচ্ছে সে বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহেদুল খবির চৌধুরী বলেন, কারা কীভাবে প্রশ্ন ফাঁস করছেন তা জানতে আমরা সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা ও বিটিআরসির সহযোগিতা চেয়েছি। তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এখন পর্যন্ত তাদের কাজের কোনো অগ্রগতি আছে কি না তা আমাদের কাছে জানতে না চেয়ে তাদের কাছে জানতে চান। কেন তারা এই চক্রটিকে ধরতে পারছে না।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্ল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে কাজ করেছি। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে এখনো আমরা কোনো কাজ করিনি। তবে কাজ শুরু করব। সে বিষয়ে আলোচনা করতেই আমরা মিটিংয়ে বসেছি। কেবল আমরা এটা নিয়ে কাজ করার চিন্তাভাবনা করছি।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ২০ লাখ ৩১ হাজার ৮৮৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করছে। এর মধ্যে ১০ লাখ ২৩ হাজার ২১২ জন ছাত্র ও ১০ লাখ ৮ হাজার ৬৮৭ জন ছাত্রী।

১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে পরীক্ষা চলবে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা এবং দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পরীক্ষা হচ্ছে। রাইজিং বিডি

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.