কে২-১৮বি গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম নিউজ ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৭

কে২-১৮বি গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : সৌরজগতের বাইরে স্বল্প পরিচিত একটি গ্রহে প্রাণ অর্থাৎ অ্যালিয়েন থাকার সম্ভাবনা প্রবল বলে নতুন একটি গবেষণায় দাবী করা হয়েছে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, ‘কেবি-১৮বি’ নামে পরিচিত দূরবর্তী এই গ্রহ সম্ভবত একটি ‘সুপার পৃথিবী’, পাথুরে গ্রহটি আমাদের পৃথিবীর মতোই।

‘কেবি-১৮বি’ গ্রহের অবস্থান এর নক্ষত্রের বসবাসযোগ্য অঞ্চল অর্থাৎ হেবিটেবল জোনে। আরো ভালো করে বললে, গ্রহটি তার নক্ষত্রকে যে দূরত্ব থেকে আবর্তন করে, সে স্থানের তাপমাত্রা তরল পানির অস্তিত্ব থাকার উপযোগী। জীবনের অস্তিত্বের জন্য প্রয়োজনীয় একটি মূল উপাদান হচ্ছে, তরল পানির উপস্থিতি।

ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস এবং ইউনিভার্সিটি অব মন্ট্রিলের বিজ্ঞানীদের নতুন এই গবেষণায় আরো দেখা গেছে, কেবি-১৮বি গ্রহটির প্রতিবেশী রয়েছে, যার নাম কেবি-১৮সি। বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, সৌরজগতের বাইরে নতুন আবিষ্কৃত কেবি-১৮সি গ্রহটি দ্বিতীয় ‘পাথুরে পৃথিবী’ হতে পারে, যদিও এত দূরবর্তী গ্রহে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

কে২-১৮ নামক লাল-বামন নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে উভয় গ্রহ, যা পৃথিবীর নক্ষত্রপুঞ্জ লিও থেকে ১১১ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। জার্মানির মিউনিখে অবস্থিত ইউরোপীয় সাউদার্ন অবজারভেটরিতে (এএসও) প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে নতুন এই গবেষণায়।

ইউনিভার্সিটি অব মন্ট্রিলের প্রধান গবেষক রায়ান ক্লাওটিয়ার বলেন, ‘কেবি-১৮বি এর ভর এবং ঘনত্ব পরিমাপে সক্ষম হওয়াটা অসাধারণ ছিল কিন্তু দূরবর্তী নতুন একটি গ্রহ আবিষ্কার করাটা সৌভাগ্য এবং উত্তেজনপূর্ণ একটি ব্যাপার ছিল।’

চিলির লা সিলা অবজারভেটরিতে অবস্থিত এএসও’র ৩.৬ মিটার (১২ ফুট) টেলিস্কোপ থেকে গবেষকরা ব্যবহৃত তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। কে২-১৮ নক্ষত্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল টেলিস্কোপটির প্লানেট-ফাইন্ডিং হাই অ্যাকুরেসি রেডিয়াল ভেলোসিটি প্লানেট সার্চার যন্ত্রের মাধ্যমে। নক্ষত্রটিকে পর্যালোচনার মাধ্যমেই গবেষকরা কে২-১৮বি গ্রহটির পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা করেন, যা পৃথিবীর মতোই পাথুরে গ্রহ। গবেষকদের মতে, কে২-১৮বি গ্রহটি হয়তো গ্যাসীয় বায়ুমণ্ডল সম্পন্ন পাথুরে গ্রহ যা পৃথিবীতে থেকে বড়, নয়তো তরল পানির গ্রহ যার ওপরে বরফের পুরু স্তর রয়েছে।

অন্যদিকে নতুন আবিষ্কৃত কে২-১৮সি গ্রহটি এর নক্ষত্রের কাছাকাছি অবস্থিত এবং সম্ভবত গ্রহটির পরিবেশ খুবই গরম কিন্তু এটিকেও কে২-১৮বি গ্রহের মতো ‘সুপার পৃথিবী’ হিসেবে অনুমান করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, ২০১৯ সালে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সর্বাধুনিক জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ চালু হওয়ার পর কে২-১৮বি গ্রহটি পর্যালোচনার প্রধান লক্ষ্য হতে পারে।

তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.