কোটা বাতিলের চেয়ে সংস্কারের পক্ষে অনেকে

Wednesday, 11 April 2018

ctgbarta24.com

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেয়ার প্রেক্ষিতে আলোচনা করে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের একজন যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন একথা জানান।

এর আগে বিকেলে সংসদে সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত জানান।

তার এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আন্দোলনকারীরা সংস্কারের কথা বললেও বাতিলের ঘোষণা আসায় অনেকেই বলেন এই ঘোষণায় তারা অবাক হয়েছেন। পুরোপুরি বাতিল না করে তাদের দাবী অনুযায়ী সংস্কার করার পক্ষে মন্তব্য করেন অনেকে।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কোটা পদ্ধতি থাকলেই এ ধরণের আন্দোলন হবে বার বার হবে। প্রতিবন্ধী বা ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী যারা আছেন তাদেরকে আমরা অন্যভাবে চাকরীর ব্যবস্থা করে দিতে পারবো।”

এরই প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক কোন ঘোষণা না জানিয়ে বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বললেন আন্দোলনকারীরা।সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের কিছু পর কাল সিদ্ধান্ত হবে এই ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনকারীরা সেখান থেকে চলে যান।

এক নজরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের সারাংশ:

  • কোটা পদ্ধতি থাকবে না
  • অন্যদের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলাদাভাবে চিন্তা-ভাবনা করে দেখবেন
  • ভিসির বাসায় ভাংচুরের ঘটনায় তদন্ত করে বিচার করা হবে
  • আপনারা (আন্দোলনকারীরা) ক্লাসে ফিরে যান
  • কোটা সংস্কারের দাবিগুলো কী ছিল?

    কোটা সংস্কারে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র সংরক্ষণ পরিষদ’এর ব্যানারে যে পাঁচটি বিষয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলছে সেগুলো হল –

    • কোটা-ব্যবস্থা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা (আন্দোলনকারীরা বলছেন ৫৬% কোটার মধ্যে ৩০ শতাংশই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দ। সেটিকে ১০% এ নামিয়ে অঅনতে হবে)
    • কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধাতালিকা থেকে শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া
    • সরকারি চাকরিতে সবার জন্য অভিন্ন বয়স-সীমা- ( মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে চাকরীর বয়স-সীমা ৩২ কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০। সেখানে অভিন্ন বয়স-সীমার দাবি আন্দোলনরতদের।)
    • কোটায় কোনও ধরনের বিশেষ পরীক্ষা নেয়া, যাবে না ( কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চাকরি আবেদনই করতে পারেন না কেবল কোটায় অন্তর্ভুক্তরা পারে)
    • চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার করা যাবে না।
    • বিবিসি

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.