খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরও ৩৪টি মামলা

সোমবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

• ৪টি মামলা সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের।
• অন্য ৩০টি বর্তমান সরকার আমলের।
• বিচারাধীন ১৯টি।
• তদন্তাধীন ১২টি।
• স্থগিত ৩টি।

সাড়ে ৮ বছরে অর্ধশত বার আদালতে যান খালেদা জিয়া

ফাইল ছবি

রাজনীতি ডেস্ক : বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরও ৩৪টি মামলা রয়েছে। দুর্নীতি, যানবাহনে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা, সহিংসতা, নাশকতা ও রাষ্ট্রদ্রোহ এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে এসব মামলা হয়। এর মধ্যে ১৯টি মামলা বিচারাধীন আছে।

এই ১৯টির মধ্যে গত ৪ জানুয়ারি ১৪টি মামলা বিচারের জন্য ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ এজলাসে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি।

ওই বিশেষ এজলাসে আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বিচার শেষে ৮ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করেন আদালত। সেখানে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচার অনেকটা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে।

আদালতের নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এখন যে ৩৪টি মামলা রয়েছে, তার মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে আছে ৪টি। সেগুলো হলো জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট, নাইকো, গ্যাটকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতির মামলা। চারটি মামলায়ই সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে (এক-এগারোর সময়‍) করা।

অন্য ৩০টি মামলা ২০১৪ সালের পর বিভিন্ন সময়ে হয়েছে। মূলত রাষ্ট্রদ্রোহ, হত্যা, ইতিহাস বিকৃতি, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি, ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে এসব মামলা হয়। পুলিশ, সরকারি দলের নেতা-কর্মী ও আইনজীবীরা এসব মামলা করেছেন। এর মধ্যে ২৫টি মামলা হয়েছে ঢাকায়। কুমিল্লায় তিনটি এবং পঞ্চগড় ও নড়াইলে একটি করে মামলা রয়েছে।

নাশকতা ও বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যার অভিযোগে কুমিল্লার আদালতে থাকা দুটি মামলার মধ্যে একটি উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত আছে। অন্যটিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা আছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানহানির অভিযোগে করা একটি মামলা বর্তমানে স্থগিত। নড়াইলে মানহানির অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আছে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মানচিত্র ও জাতীয় পতাকাকে অবমাননার অভিযোগে ঢাকার আদালতে ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর মানহানির মামলা করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী। এ মামলায় ১২ অক্টোবর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এটি বিশেষ এজলাসে বিচারাধীন আছে।

১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট সাংবাদিক গাজী জহিরুল ইসলাম মামলা করেন। এ মামলায় খালেদার জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি পরোয়ানা জারিসংক্রান্ত প্রতিবেদনের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

ব্যাংকঋণ খেলাপের অভিযোগে সোনালী ব্যাংক খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ও ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে মামলা করে। আরাফাত রহমান কোকো মারা যাওয়ার পর ওই মামলায় খালেদা জিয়াকে পক্ষ করা হয়। মামলাটি ঢাকার অর্থঋণ আদালতে সাক্ষ্য পর্যায়ে বিচারাধীন আছে।

হত্যা ও নাশকতার ১৩ মামলা
২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপিসহ ২০ দলের ডাকা হরতাল-অবরোধের সময় বাসে আগুন, ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ, মানুষ হত্যাসহ বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় ঢাকায় করা ১০টি মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এসব মামলায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করা হয়। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানায় ২টি ও দারুস সালাম থানায় ৮টি মামলা রয়েছে।

এই ১০টি মামলার মধ্যে ৮টি ঢাকার বিশেষ আদালতে, অন্য ২টি মহানগর দায়রা জজ আদালতে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি পর্যায়ে রয়েছে।

এ ছাড়া ২০১৫ সালে বিএনপির ডাকা হরতাল-অবরোধ চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একটি বাসে পেট্রলবোমা ছোড়া হয়। বাসে আগুন ধরে আটজন যাত্রী পুড়ে মারা যায়। এ ঘটনায় ২টি মামলা হয়।
২টিতে খালেদা জিয়া হুকুমের আসামি। ২টি মামলায় গত বছরের ৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াসহ বিএনপি-জামায়াতের ৭৮ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ। এর মধ্যে ১টি মামলা উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত আছে।

২০১৫ সালেগুলশানে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের মিছিলে পেট্রলবোমা হামলার অভিযোগে করা ১টি মামলায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা আছে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন প্রথম আলোকে বলেন, খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার জন্য এসব মামলায় হুকুমের আসামি করা হয়।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.