সীতাকুণ্ডের এবিএম আবুল কাশেম মাস্টার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নাইলাহি…রাজিউন)

মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৫
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
 abul-kashem-master
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সীতাকুণ্ডের (চট্টগ্রাম-৪) সাবেক সংসদ সদস্য  এবিএম আবুল কাশেম মাস্টার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নাইলাহি…রাজিউন)।মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগসহ বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে এবং এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে যান। তাঁর মৃত্যুতে সীতাকুণ্ডের সর্ব্বস্তরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে মরহুমের পুত্র ও সীতাকুণ্ড উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন সংবাদমাধমকে বলেন, ‘আব্বার দু’টি কিডনি দীর্ঘ দিন ধরে অকেজো ছিল। নিয়মিত ডায়ালাইসিসের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় থাকার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে গতকাল সোমবার তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই  চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।’

মামুন আরো বলেন, ‘বুধবার সকাল ১০ টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রথম নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বাদে জোহর সীতাকুণ্ড সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ২য় জানাজা এবং বাদে আছর দক্ষিণ ছলিমপুরের নিজ বাড়িতে ৩য় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।’

আবুল কাশেম মাস্টার জাতীয় সংসদেও ১৯৯৬ ও ২০০৯ সালে দুই বারের নির্বাচিত সাংসদ ছিলেন। সাংসদ থাকাকালীন সময়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন । তাঁর বড় ছেলে আলহাজ্ব এস এম আল মামুন সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম উত্তরজেলা যুবলীগের সভাপতি। তাঁর ছোট ভাই সিআইপি আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান।

১৯৪০ সালে জন্ম নেয়া এই গুণী ব্যক্তির জন্ম সীতাকুণ্ডের দক্ষিণ ছলিমপুর গ্রামে। পিতার নাম মরহুম আব্দুল জলিল, মাতার নাম মরহুমা আমেনা বেগম। চট্টগ্রামের কাট্টলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা দিয়ে শুরু হয় জীবনযাত্রা। ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ছলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঐ সময় চট্টগ্রাম জেলা চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি ছিলেন। ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ৬৬’র ছয় দফা আন্দোলনসহ ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন।

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা পত্রটি ছলিমপুর ওয়ারলেস সেন্টারে আসলে অপারেটর আব্দুর গাফ্ফারের সহযোগিতায় সাবেক মন্ত্রী এম আর সিদ্দিকী ও জহুর আহম্মদ চৌধুরীর নিকট হস্তান্তর করেন। ১৯৭৫ সালে সীতাকুণ্ড আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের তিনি হাল ধরেন।

১৯৮৬ সাল থেকে ২০০৮ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে চার বার জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেন। ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ২ বার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদের প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ওই সময় স্পীকারের অনুপস্থিতিতে সফলভাবে স্পীকারের দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০০৮ সালে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্ণাঢ্য এই রাজনৈতিক ব্যক্তির সীতাকুণ্ডে ব্যাপক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। ২০১৪ সালে তার বদলে আওয়ামী লীগে নবাগত দিদারুল আলমকে মনোয়ন দেওয়া হয়।

আবুল কাশেম মাস্টারের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া, সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ মরহুমের আত্মার শান্তির মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তারা।

এছাড়া চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক লায়ন আসলাম চৌধুরী এফসিএ, উত্তরজেলা কৃষক দলের সভাপতি ইসহাক কাদের চৌধুরী, সীতাকু- উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তফাজ্জল হোসেন, সীতাকুন্ড প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক এম হেদায়েত, সদস্য সচিব সুমিত্র চক্রবর্তী শোক প্রকাশ করেছেন।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.