‘চাইতাম, যেন টসে হেরে যাই’

সিটিজিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম

বুধবার, ১২ মে ২০১৬

Minhajul-Abedin

বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক, এখন নির্বাচক। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর বড় পরিচয় মোহামেডানের সাবেক ক্রিকেটার হিসেবেই। আজকের আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের আগে তিনি স্মৃতিচারণা করলেন তাঁর সময়ের আবাহনী-মোহামেডান লড়াইয়ের।

Minhajul-Abedin-Nannu-Akram-Khan-and-habibul-Bashar

*আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ তো জীবনে অনেক খেলেছেন। এ রকম ম্যাচ যখন আসে, একটু কি নস্টালজিক হয়ে পড়েন?

মিনহাজুল আবেদীন: সাংঘাতিকভাবে। আজ (গতকাল) সকালেও ভাবছিলাম, কাল (আজ) এ রকম একটা হাইভোল্টেজ ম্যাচ; অথচ কোথাও উত্তেজনা নেই! পত্রপত্রিকায়ও তেমন কিছু চোখে পড়ল না। আমাদের সময় তো এই ম্যাচের দুই দিন আগে থেকে লেখালেখি শুরু হয়ে যেত। কোন দলে কে খেলবে, বিদেশি খেলোয়াড় কারা আসবে…এসব। ম্যাচের আগের দিন গভীর রাত পর্যন্ত সমর্থকেরা ক্লাবের সামনে ভিড় করে থাকত পরদিন কোন কোন বিদেশি খেলোয়াড় খেলবে তা জানতে।

*বিশেষ কোনো প্রস্তুতি থাকত এই ম্যাচের জন্য?

মিনহাজুল: পুরো মৌসুমেই প্রস্তুতি নিতাম। লিগের আগেই ঠিক করে রাখতাম বড় ম্যাচগুলোয় পঞ্চাশের বেশি রান করতে হবে।

*গ্যালারিভর্তি দর্শক থাকত তখন। সেই চাপ কীভাবে সামলাতেন?

মিনহাজুল: মনে আছে, সকাল সাতটা থেকে দর্শক লাইন ধরত বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের গেটে। ম্যাচে প্রচুর গালাগালি শুনতে হতো। মোহামেডানের অধিনায়ক থাকার সময় আমি তো মনে মনে চাইতাম যেন টসে হেরে যাই। কারণ ব্যাটিং-বোলিং যা-ই নিই, ম্যাচ হারলে সবাই আমাকেই গাল দেবে। পরের তিন-চার দিন সারা দেশের মানুষ শুধু ওই কথাই বলবে। তবে এসব আমাদের মানসিকভাবে অনেক শক্ত করে তুলেছিল।

*আর ক্লাব কর্মকর্তাদের চাপ?

মিনহাজুল: সেটাও ছিল। গালাগাল-বকাঝকা শুনতে হতো। সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল তখন আমরা কোচদের কাছ থেকে টেকনিক্যালি ভালো কোনো টিপস পেতাম না। তাঁরা একটা কথাই বলতেন, ধরে খেলো।

*স্লেজিং কেমন হতো?

মিনহাজুল: বেশ জোরেশোরেই হতো বলতে পারেন। তবে ব্যক্তিগতভাবে কোনো খেলোয়াড়কে আক্রমণ কমই করা হতো। প্রতিপক্ষ দল নিয়েই বেশি কথা হতো।

*আবাহনী-মোহামেডান দুই দলের হয়েই তো খেলেছেন আপনি। সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচ বা স্মরণীয় ইনিংস কোনটা?

মিনহাজুল: ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে আমি প্রথম আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ খেলি। ওটা ছিল দামাল-সামার ক্রিকেটের ফাইনাল। আবাহনীর হয়ে ৫৯ রান করে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছিলাম, ওটাই স্মরণীয়। তবে মোহামেডানের অধিনায়ক হিসেবে একবার আবাহনীর বিপক্ষে একই ম্যাচে সেঞ্চুরি ও ৪ উইকেট নিয়েছিলাম।

*আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ নিয়ে মজার কোনো স্মৃতি?

মিনহাজুল: অনেক আছে। একটা বলি। তখন আমি মোহামেডানে। শ্রীলঙ্কান কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গে অর্জুনা রানাতুঙ্গারও সেবার খেলার কথা আমাদের ক্লাবে। কিন্তু রানাতুঙ্গা শেষ পর্যন্ত এল না। সমর্থকেরা সেটা জানতে পেরে সে কী ক্ষুব্ধ! সমানে ঢিল মারতে শুরু করল ক্লাবের দিকে।

*এখনকার আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের সঙ্গে তখনকার ম্যাচের কোন পার্থক্যটা বেশি চোখে পড়ে?

মিনহাজুল: এখন ক্লাবের সম্পৃক্ততা কম। তখন তো মোহামেডান ক্লাবেই প্র্যাকটিস হতো। প্র্যাকটিসে ক্লাব কর্মকর্তারা থাকতেন। আর এখন কেউ খোঁজই নেয় না খেলোয়াড়েরা কীভাবে থাকছে, কোথায় প্র্যাকটিস করছে।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.