চার কারণে আ. লীগের মনোনয়নের ক্ষমতা শেখ হাসিনার হাতে

রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৫

সিটিজিবার্তা২৪.কম ডেস্ক  ||

ছবি: সিটিজিবার্তা২৪.কম

চার কারণে পৌরসভা নির্বাচনের মনোনয়নের ক্ষমতা নিজের কাছেই রেখেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কারণগুলো হলো, সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের উজ্জীবিত রাখা, বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকানো, মনোনয়নবাণিজ্য বন্ধ করা, পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিভক্তির শঙ্কা দূর করা। এদিকে, বিএনপির মনোনয়ন কর্তৃত্ব দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান এবং জাতীয় পার্টির মনোনয়ন কর্তৃত্ব দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নিজের কাছে রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাপার দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, এ প্রথম পৌরসভা নির্বাচন দলীয়ভাবে হতে যাচ্ছে। প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্রে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার স্বাক্ষর একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হয়ে থাকবে। এছাড়া, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া ত্রুটিমুক্ত রাখতেই মনোনয়ন দেওয়ার সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রধানমন্ত্রী নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন।

যদিও নির্বাচনি বিধিমালায় বলা আছে, দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক অথবা তাদের মনোনীত কোনও প্রতিনিধির স্বাক্ষরে পৌরমেয়র প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। বিকল্প সুযোগ থাকলেও প্রথমটিই অনুসরণ করেছেন ক্ষমতাসীনরা।

তবে, অন্য একটি সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মনোনয়ন কর্তৃত্ব নিজের কাছে রাখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ কর্তৃত্ব নিজের কাছে রেখে দেওয়ার অনুরোধ জানান। এতে অনেক ঝামেলার অবসান হবে বলেও শেখ হাসিনাকে পরামর্শ দিয়েছেন সৈয়দ আশরাফ।

অন্যদিকে, বিকল্প মনোনীত কোনও প্রতিনিধিকে এ কর্তৃত্ব না দেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে—দল মনোনীত কাউকে মনোনয়ন কর্তৃত্ব দেওয়া হলে, মনোনয়ন-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠতে পারে। সূত্র জানায়, এ সব ঝামেলা এড়াতেই শেখ হাসিনা নিজেই মেয়র প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্রে স্বাক্ষর করবেন।

মনোনয়নের দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত করতে শনিবার আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি আবেদন নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যান আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবীর কাউসার। তিনি মেয়র প্রার্থীদের মনোনয়ন কর্তৃত্ব দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে রাখার বিষয়টি জানিয়ে আসেন।

তবে, কয়েকটি সূত্র দাবি করে, মনোনয়নপত্রে শেখ হাসিনার স্বাক্ষর আওয়ামী লীগের একটি কৌশলও। এটি ভোটের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন তারা। প্রার্থীরাও উজ্জীবিত হবেন। কেন্দ্রীয় দুই নেতা জানান, গত ২৬ নভেম্বরের দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় স্বাক্ষর শেখ হাসিনার থাকবে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ত্রুটিমুক্ত রাখার ক্ষেত্রে কৌশলটি সহায়ক হবে। কেন্দ্রীয় এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভোটের বাজারে প্রার্থীরা নিজেকে বিক্রি করতে গিয়ে বলবেন, ‘আমি শেখ হাসিনার প্রার্থী।’ এতে তার মনোবল চাঙ্গা থাকবে। তিনি বলেন, এটি সবচেয়ে বড় কৌশল। সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মনোনয়ন বাণিজ্য এড়াতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে, মনোনয়ন বাণিজ্য একেবারেই বন্ধ হয়ে না। তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে মাত্র। ওই নেতা আরও বলেন, যারা বাণিজ্য করার, তারা ইতোমধ্যে বাণিজ্য করে ফেলেছেন।

জানা গেছে, প্রায় প্রতিটি পৌর এলাকায় আওয়ামী লীগের একাধিক মেয়র প্রার্থী রয়েছেন। সবাই এতদিন ধরে প্রচারণাও চালিয়ে আসছিলেন। সেখানে দল একজনকে মনোনয়ন দিলে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনা স্বাক্ষর করে মনোনয়ন দিলে অন্য কোনও নেতা প্রার্থী হওয়ার সাহসই দেখাবেন না। ফলে বিদ্রোহী প্রার্থীর আধিক্য কমবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন বলেন, মনোনয়ন কর্তৃত্ব আসলে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার হাতে নয়, এটা তৃণমূলে যে কমিটি করে দেওয়া হয়েছে, মূলত তাদের হাতে। তিনি বলেন, মনোনয়নপত্রে শুধু দলীয় সভাপতির স্বাক্ষর থাকবে। লেনিন বলেন, এতে করে মেয়র প্রার্থীদের মনের জোর বাড়বে। প্রার্থীরা বলবেন, ‘আমি শেখ হাসিনার স্বাক্ষরে মনোনয়ন পেয়েছি।’

জানতে চাইলে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, মেয়র প্রার্থীদের উজ্জীবিত করতেই মূলত এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখার কিছু নেই।

ক্ষমতাসীন দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রথমবারের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে হচ্ছে। শেখ হাসিনার স্বাক্ষরে প্রার্থীরা মনোনয়ন পেলে, সবাই সম্মানীত বোধ করবেন। এটাই বড় কারণ।

এদিকে, পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপির মনোনয়ন কর্তৃত্ব যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহানের কাছে এবং জাতীয় পার্টির মনোনয়ন কর্তৃত্ব হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নিজের কাছে রেখেছেন। কথিত আছে, এরশাদ এক্ষেত্রে নিজেকে ছাড়া আর কাউকে বিশ্বাস করেন না বলে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সূত্র বাংলা ট্রিবিউন

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.