চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে ১১২ রানে হারিয়ে শীর্ষে আবাহনী

খেলা ডেস্ক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে ১১২ রানে হারিয়ে শীর্ষে আবাহনী

মিরপুরে ম্যাচসেরা এনামুল হক বিজয়ের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ওয়ালটন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক (পলিসি, এইচআরএম অ্যান্ড এডমিন) এস এম জাহিদ হাসান ও বিসিবির পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস। পাশে উপস্থিত অন্যান্য অতিথিরা।

ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ষষ্ঠ রাউন্ডে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী-মোহামেডান আজ মিরপুর শেরে বাংলায় মুখোমুখি হয়েছিল। টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে বিজয় ও নাসিরের ফিফটিতে আবাহনী সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৫৯ রান সংগ্রহ করে। জবাবে মোহামেডান গুটিয়ে যায় ১৪৭ রানে। ১১২ রানের বিশাল জয়ে আবাহনী লিগের টানা ষষ্ঠ জয় তুলে নিল।

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে ১১২ রানে হারিয়ে শীর্ষে আবাহনী

ডিপিএলে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ। সকাল থেকেই মিরপুরে ছড়িয়েছিল কিছুটা উত্তেজনা। অন্তত দুই ক্লাবের পরিচালক ও বিসিবির কর্মকর্তাদের চোখে-মুখে ছিল উত্তেজনার ছাপ।

গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি তুলনামুলক বেশি। সেটা অবশ্য নিদাহাস ট্রফির দল ঘোষণারও জন্যও হতে পারে। কিন্তু দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ের যে পুরোনো ঐতিহ্য তা আবারও মাঠের পারফরম্যান্স হতাশ করল। দূর্বার আবাহনীর সামনে যে দাঁড়াতেই পারল না মোহামেডান। একটা পর্যায়ে অবশ্য মোহামেডান এগিয়েও ছিল। কিন্তু ব্যাটিং ধসে ম্যাচও হাতছাড়া করে বসে মতিঝিল পাড়ার দলটি।

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে ১১২ রানে হারিয়ে শীর্ষে আবাহনী

অথচ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৬তম ওভারেই শতরানের স্বাদ পায় মোহামেডান। আবাহনী শিবির তখন উইকেটের চিন্তায় অস্থির। কিন্তু সেখান থেকেই পথ হারায় মোহামেডান। বাঁহাতি উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান ইরফান শুক্কুর দলীয় ১০০ রানে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার পর মাত্র ৪৭ রান তুলতেই শেষ ৬ উইকেট হারায় মোহামেডান! এমন ব্যাটিং ধসে কি আর জয় পাওয়া সম্ভব?

শুরুতেই অবশ্য মাশরাফি আবাহনীকে এগিয়ে নেন। নিজের প্রথম ওভারের ষষ্ঠ বলে তার বলে পয়েন্টে ক্যাচ দেন জনি তালুকদার (১)। পঞ্চম ওভারে মোহামেডান শিবিরে বড় ধাক্কাটাও দেন মাশরাফি। অধিনায়ক শামসুর রহমান শুভ ৩ রানে মাশরাফির বলে এলবিডব্লিউ। ওপেনার রনি তালুকদার একপাশ থেকে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ৫ চার ও ১ ছক্কায় দ্রুত ৩৫ রানে পৌঁছে যান রনি। কিন্তু তাকে ফেরানোর অস্ত্রটাও জানা ছিল মাশরাফির। নড়াইল এক্সপ্রেসের এক কাটারে মোহামেডান হারায় তৃতীয় উইকেট।

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে ১১২ রানে হারিয়ে শীর্ষে আবাহনী

চতুর্থ উইকেটে ইরফান শুক্কুর ও রকিবুল হাসান ৩৮ রানের জুটি গড়েন। দুজনই রানের চাকা দারুণভাবে সচল রেখেছিলেন। কিন্তু সানজামুলকে তুলে মারতে গিয়ে ইরফান আউট হলে বিপদ ডেকে আনেন মোহামেডানের। শতরানে তিনি আউট হন দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪০ রান করে। সেখানেই শেষ মোহামেডানের প্রতিরোধ। রকিবুল হাসানের ব্যাট থেকে আসে ২৮ রান। শেষ দিকের পাঁচ ব্যাটসম্যান কেউই পৌঁছতে পারেননি দুই অঙ্কে।

মাশরাফি ৩৭ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজ ২৮ রানে নেন সমান ৩ উইকেট। ২ উইকেট নেন ভারতীয় মানপ্রিত সিং গোনি।

এর আগে এনামুল হক বিজয়ের ৬৩ ও নাসির হোসেনের ৬৭ রানের সুবাদে আবাহনী লড়াকু সংগ্রহ পায়। ৮১ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৬৩ রান করেন বিজয়। সর্বোচ্চ ৬৭ রান আসে নাসিরের ব্যাট থেকে। ৭৩ বলে ৭ বাউন্ডারিতে নাসির তার ইনিংসটি সাজান। এছাড়া মোহাম্মদ মিথুন ৪৭ ও নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ২৬ রান। শেষ দিকে ১৭ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় ২৬ রানের ইনিংস খেলেন মাশরাফি।

মোহামেডানের সেরা বোলার মোহাম্মদ আজিম। ২৬ রানে ৩ উইকেট নেন তিনি। ১টি করে উইকেট পান পাঁচ বোলার।

টানা দ্বিতীয়বারে মতো ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন এনামুল হক বিজয়।

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানকে ১১২ রানে হারিয়ে শীর্ষে আবাহনী

ছয় ম্যাচে ছয় জয় নিয়ে আবাহনী ১২ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে টেবিলের শীর্ষে। অন্যদিকে মোহামেডানের ষষ্ঠ ম্যাচে এটি তৃতীয় হার। প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর টানা তিন ম্যাচ জিতেছিল তারা। কিন্তু আবারও হারের স্বাদ পেল শামসুর রহমান শুভর দল।

আজকের জয়ে পরিসংখ্যান আরও শক্তিশালী হলো আবাহনীর। শেষ ১৭ ম্যাচের ১২টি জিতেছিল আবাহনী। ১১২ রানের বিশাল জয় সাফল্যের মুকুটে যোগ করল নতুন এক পালক।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.