ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ অকার্যকর কমিটি বিলুপ্ত করা ও নতুন কমিটি’র দাবিতে বিক্ষোভ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি ।।।

ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ অকার্যকর কমিটি বিলুপ্ত করা ও নতুন কমিটি’র দাবিতে বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ অকার্যকর কমিটি বিলুপ্ত করা ও নতুন কমিটি’র দাবিতে বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম মহানগরের আওতাধীন সকল কলেজ, থানা ও ওয়ার্ড সমূহের উদ্যোগে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ, গঠনতন্ত্র বিরোধী, অছাত্র, বিবাহিত, অকার্যকর কমিটি বিলুপ্ত করা ও নতুন কমিটি’র দাবিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পাদদেশে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ছাত্রলীগের কার্যালয় দারুল ফজল মার্কেটের সামনে ছাত্রলীগ নেতা ইমরান আলী মাসুদের সভাপতিত্বে ছাত্রনেতা এবং এস. এম হুমায়ুন কবির আজাদের পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত মিছিলোত্তর সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ছাত্রলীগ নেতা মুনির চৌধুরী, রায়হানুল কবির শামীম, নাছির উদ্দিন কুতুবী, রাশেদুল আলম চৌধুরী, ইসমাইল হোসেন শুভ, অরভিন সাকিব ইভান, ওসমান গনি, আবু সায়েম, সৈকত দাশ, রিদওয়ানুল কবির সজীব, ফাহাদ আনিস, নুরুল হক মনির, নেওয়াজ খান, ওমর ফারুক সুমন, বোরহান উদ্দিন গিফারী, সাখায়াত পেয়ারু, আমিনুল ইসলাম শাওন, আবদুল্লাহ আল রুবেল, জালাল আহমেদ রানা।

এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন সরকারী কর্মাস কলেজ ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট ছাত্রলীগ, বাকলিয়া সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম সরকারী মহসিন কলেজ ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম আইন কলেজ ছাত্রলীগ, হাজেরা-তজু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগ, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, পোর্ট সিটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, ইউ.এস.টি.সি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, আই.এইচ.টি. ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড সমূহের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি কেন্দ্র থেকে ২০১৩ সালের ৩০ অক্টোবর দীর্ঘ ১০ বছর পর সম্মেলন বিহীন ২৪ জনের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন কলেজ, ওয়ার্ড থানার মেধাবী ছাত্রনেতাদের কমিটিতে স্থান না পাওয়ায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন কলেজ, ওয়ার্ড ও থানার ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দরা চট্টগ্রামে বিক্ষোভ করেন। প্রায় ৮ মাসের ঊর্ধ্বে রাজপথে আন্দোলন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের নিকট কমিটি বাতিলের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রামে এসে নেতৃবৃন্দদের সাথে বৈঠক করে ৬ মাসের মধ্যে নতুন কমিটি করার ঘোষণা পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে। পরবর্তীতে উক্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটিও গঠনতন্ত্র মানা হয়নি। কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে ঘোষিত ৬ মাসের মধ্যে নতুন কমিটি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ব্যর্থ হয়।

বর্তমান নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয় ও কোচিং সেন্টারে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে প্রকাশ্যে সিসি ক্যামরায় ভিডিও ফুটেজে চিহ্নিত হওয়ার কারণে কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক বহিস্কৃত হয়। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব প্রাপ্তির পূর্বে শিপিং ব্যবসায় টেন্ডারবাজি করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক বহিস্কৃত হন। বর্তমান ছাত্রলীগের সভাপতি বিবাহ করার কারণে ছাত্রলীগের কোন কর্মকান্ডে উপস্থিত থাকেন না ও উনার বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগ রয়েছে। মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি এ পর্যন্ত ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোন কলেজ কমিটি দিতে ব্যর্থ হয়। নগর ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি প্রায় ৭ বছরেও কোন ওয়ার্ড এবং থানায় সম্মেলনের আয়োজন করতে পারেনি।

বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন টেন্ডার ও দখলদারীত্ব চাঁদাবাজীর বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে যা সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমান ছাত্রলীগের কমিটির মধ্যে অধিকাংশই বিবাহিত এবং অছাত্র। তাঁরা কোন সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনায় উপস্থিত থাকেন না। বর্তমান কমিটি সঠিক সময়েও বর্ধিত সভা আয়োজনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। কেন্দ্র ঘোষিত ছাত্রলীগের বয়স ২৯ বছর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করায় বিভিন্ন কলেজ, থানা এবং ওয়ার্ডের ছাত্রলীগের মেধাবী নেতৃবৃন্দরা ছাত্রলীগ করা থেকে বিমুখ হয়ে যাচ্ছেন।

আপনার মতামত দিন....

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.