জুবায়েরের ঘূর্ণী বেল্কিতে আবাহনীর ৭ উইকেটে জয়, মিরপুরে মেহেদি হাসানের সেঞ্চুরীতে চালকের আসনে গাজী

ডিপিএলের উদ্বোধনী খেলায়

শুক্রবার, ২২ এপ্রিল ২০১৬

জুবায়েরের ঘূর্ণী বেল্কিতে আবাহনীর জয়, মেহেদি হাসানের সেঞ্চুরী

জুবায়ের হোসেন লিখনের লেগ স্পিন ঘূর্ণীতে বিধ্বস্ত মাশরাফির কলাবাগান

ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) মাশরাফির কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের মুখোমুখি হয় তামিম ইকবালের আবাহনী লিমিটেড। আজকের ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন কলাবাগানের অধিনায়ক মাশরাফি।

ব্যাট করতে নেমে আবাহনীর তাসকিন আহমেদের করা ইনিংসের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই কট বিহাইন্ড হন কলাবাগানের ওপেনার সাদমান ইসলাম। সাদমানকে শুন্য রানে ফেরায় তাসকিন।

উইকেট হারালেও ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকদজার ব্যাটে ভর করে ভালই জবাব দিচ্ছিল কলাবাগান। বিশেষ করে আরেক বোলার আবুল হাসানের বলে হাত খুলে খেলতে থাকে মাসাকাদজা ও তিন নম্বরে নামা জশিমুদ্দিন।

কিন্তু ষষ্ট ওভারে আবুল হাসানের বলে সাকলাইন সজীবের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১৬ রানে আউট হন জশিম। উইকেট হারালে ক্রিজে আসেন তাসামূল হক।

এরপর কোন উইকেট না হারিয়ে ১৫ ওভার শেষে কলাবাগানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭৭ রান ২ উইকেটের বিনিময়ে। কলাবাগানের ভরসা মাসাকাদজা ভালোই খেলছিল। কিন্তু জুবাইর হোসেন লিখনের ঘূর্ণিতে সরাসরি বোল্ড ৪১ রানের সাজঘরে ফেরেন এই জিম্বাবুইয়ান।

তখন মাত্র শুরু করেছিল এই তরুন লেগ স্পিনার। এরপর মেহরাব হোসেন জুনিয়র, শারিফুল্লাহ ও তানভির হায়দারকে একে একে সাজঘরে ফেরান লিখন। ২৫তম ওভারে আঘাত হানে সাকলাইন সজীব। তুলে নেন ভালো খেলতে থাকা তাসামুল হকের উইকেট। ৩৭ রান আউট হন তিনি।

কলাবাগানের স্কোর তখন ১১৬ রান ৭ উইকেট হারিয়ে। উইকেট পতন ক্রিজে আসেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। কিন্তু বেশীক্ষণ স্থায়ী হয়নি মাশরাফির ইনিংস। সাকলাইনের বলে লেগ বিফরের ফাঁদে পড়ে ১ রান করে আউট হন তিনি।

৩০তম ওভারে ড্রিঙ্কস বিরতির ঠিক আগেই আবারো আঘাত হানেন লিখন। আব্দুর রাজ্জাককে নিজের পঞ্চম শিকার হিসেবে আউট করেন তিনি। পরবর্তীতে নিহাদুজ্জামানকে নিজের ষষ্ট শিকার বানিয়ে কলাবাগানের ইনিংসের ইতি টানেন জুবাইর হোসেন লিখন।

আবাহনীর হয়ে জুবাইর হোসেন ৯.১ ওভার বল করে মাত্র ৩৪ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করেন। ফলে ৩৩তম ওভারে ১৪০ রানে থামে কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের ইনিংস।

জয়ের জন্য আবাহনী ১৪১ রান তাড়া করতে নেমে এ রির্পোট লিখা পর্যন্ত ২২ ওভার শেষে ১০৫ রান সংগ্রহ করেছে ৩ উইকেট হারিয়ে।

আবাহনী লিমিটেড এর অধিনায়ক তামিম ইকবালের সাথে ওপেনিং নামেন অভিষেক মিত্র। ইনিংসের ৩.৪ ওভারে দলীয় ১১ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় আবাহনীর অধিনায়ক তামিম রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন ব্যাক্তিগত ৭ রান করে ১৫ বল মোকাবেলায়।

কলাবাগানের বোলার শরিফুল্লার চতুর্থ ওভারের প্রথম তিন বলে কোন রান সংগ্রহ করতে না পারা তামিম চার নাম্বার বলে রান সংগ্রহ করতে গেলেই বোলার শরিফুল্লাহ নিজেই ফিল্ডিং লরে রান আউটের ফাঁদে ফেলেন দেশ সেরা বাহাতি ওপেনার আবাহনীর অধিনায়ক তামিম ইকবালকে।

তিনে ব্যাটিং করতে আসেন জাতীয় দলের আরেক তারকা খেলোয়াড় লিটন দাশ। অভিশেখের সাথে ২২ রানের জুটি গড়ে ব্যাক্তিগত ১২ রান সংগ্রহ করে ২১ বলের মোকাবেলায় লিটন দাশ। কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের বোলার দেওয়ান সাব্বিরের করা নবম ওভারের তৃতীয় বলে মাসাকাদজার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে আসে লিটন দাশ।

আরেক ওপেনার অভিশেখ মিত্র ৩২ রান করে নিহাদুজ্জামানের বলে  উইকেট কিপার জসিমের স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে ফিরে আসেন।

উদয় কল ৩৫ বলে ৩২ রানে ও নাজমুল হোসেন শান্ত ৮ বলে ৬ রানে অপরাজিত আছেন।

আবাহনী লিমিটেডের জয়ের জন্য প্রয়োজন ২৮.৩ ওভারে ৩৬ এবং ৭ উইকেট।

ডিপিএলে প্রথম সেঞ্চুরী আসলো মেহেদি হাসানের ব্যাট থেকে :

জুবায়েরের ঘূর্ণী বেল্কিতে আবাহনীর জয়, মেহেদি হাসানের সেঞ্চুরী

মিরপুর শের-ই-বাংলায় প্রাইম ব্যাংক ও গাজী ক্রিকেটাস দল।

এদিকে মিরপুরের হোম অফ ক্রিকেটে গাজি গ্রুপ ও প্রাইম ব্যাংকের ব্যাংকের মধ্যকার ডিপিএলের ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন প্রাইম ব্যাংকের অধিনায়ক শুভাগত হোম।

ব্যাট করতে নেমে প্রাইম ব্যাংকের অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমানিত করে ব্যাটিং পাওয়ারপ্লেতে ৫৪ রান তুলে গাজি গ্রুপের দুই ওপেনার এনামুল হক বিজয় ও শামসুর রহমান দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন।

এই জুটি প্রথম উইকেট পার্টনারশিপে ১১৩ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হন। সাব্বিরের থ্রোতে ৬২ বলে ৫৬ রানে আউট হন শামসুর। আরেক ওপেনার এনামুল হন বিজয় ৭৬ বলে তুলে নেন নিজের অর্ধশত। কিন্তু ইনিংস লম্বা করতে পারেননি বিজয়।

৬৭ রানে নাজমুল ইসলামের বলে রুবেল হোসেনের হাতে ধরা পড়েন গাজি গ্রুপের ওপেনার। দুই ওপেনারকে হারালেও তিন নম্বরে নামা মেহেদী হাসানের অসাধারন শতকে নির্ধারিত ৫০ ওভারে গাজি গ্রুপের স্কোর দাঁড়ায় ৩০৩ চার উইকেটের বিনিময়ে।

৮৯ বলে ১০৩ রান করেন মেহেদী। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে রুবেল হোসেন মোহাম্মাদ আজিম ও নাজমুল ইসলাম একটি করে উইকেট শিকার করেন। জয়ের জন্য সাব্বির-শুভাগতর প্রাইম ব্যাংকের প্রয়োজন ৩০৪ রান।

বড় রানের স্কোর তাড়া করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড ১২ ওভারে ৬০ রান সংগ্রহে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দলটি।

টপ অর্ডারের চার ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরেছেন মুনাওয়েরা ৫ বলে ৪ রান, মেহেদী মারুফ ১৫ বলে ৭ রান করে, সাব্বির রহমান ৩০ বলে ৩১ রান করে, শুভগত ৪ বলে ৪ রানে সাজঘরে ফিরেছেন।

প্রাইম দোলেশ্বর ও ক্রিকেট কোচিং স্কুল (সিসিএস)

বিকেএসপি ম্যাচে ডিপিএলে আজকের ম্যাচে ক্রিকেট কোচিং স্কুল ও নাসির হোসাইনের প্রাইম দোলেশ্বরের মধ্যকার ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন সিসিএসের অধিনায়ক রাজিন সালেহ।

কিন্তু ব্যাট করতে নেমে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি দলটি। ব্যাটিং পাওয়ারপ্লেতেই দুই উইকেট হারিয়ে বসে সিসিএস। দলের সংগ্রহ তখন ২৯ রান।

প্রাইম দোলেশ্বরের ফাস্ট বোলার আল আমিন হোসাইনের বোলিং তোপে অল্পতেই থামে ওপেনার অমিত মজুমদার ও তিন নম্বরে নামা সাইফ হাসানের ইনিংস।

সালমান হোসেন আরেক ওপেনার পিনাক ঘোষের সাথে জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে ১৪ ওভারে দলের রান অর্ধশত পার করেন। কিন্তু নাসির হোসাইনের ঘূর্ণিতে ২০ রানে থামতে হয় তাকে।

রেজাউল করিমের বলে ৮ রানে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন রাজিন সালেহ। এক দিক থেকে ক্রমাগত উইকেট পড়লেও ওপেনার পিনাক ঘোষ একাই লড়াই করে যান।

কিন্তু রেজাউলের বাঁহাতি স্পিনে ৩৫ রানে থামতে হয় এই প্রতিভাবান ব্যাটসম্যানকে। ইনিংসের ২৫তম ওভারে সিসিএসের স্কোর দাঁড়ায় ৭৮ রান ৫ উইকেট হারিয়ে।

পরবর্তীতে সায়েদ সরকার ও প্রতিভাবান অলরাউন্ডার মোহাম্মাদ সাইফুদ্দিনের ব্যাটে ভর করে সম্মানজনক পুঁজি পথে হাঁটতে থাকে সিসিএস। কিন্তু ৩৪ রানে সায়েদ সরকার ও ৩১ রানে সাইফুদ্দিন আউট বলে সিসিএসের স্কোর ২০০ পার করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এই জুটির পর দলের আর কেউ প্রাইম দোলেশ্বরের অভিজ্ঞ বোলিং আক্রমনের সামনে দাঁড়াতে পারেনি। পরবর্তীতে ইনিংসের শেষ ওভারেই ১৭৭ রানে অল আউট হন ক্রিকেট কোচিং স্কুল।

প্রাইম দোলেশ্বরের হয়ে আল আমিন ও রেজাউল করিম তিনটি উইকেট শিকার করেন। জয়ের জন্য নাসির হোসাইনদের প্রয়োজন ১৭৮ রান।

ব্যাট করতে নেমে ইমতিয়াজের অর্ধশতক ও রনি তালুকদারের ৩৪ রানে বিনা উইকেটে ১৬ ওভারে ৯০ রান সংগ্রহ করেন। জয়ের জন্য প্রয়োজন আর ৮৭ রান ৩৩.৩ ওভারে।

আপনার মতামত দিন....

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.