টেকনাফের ‘ত্রাস’ খ্যাত হাকিম ডাকাতের সোর্স আনজুমা আটক

শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

টেকনাফের ‘ত্রাস’ খ্যাত হাকিম ডাকাতের সোর্স আনজুমা আটক

টেকনাফের ‘ত্রাস’ খ্যাত হাকিম ডাকাতের সোর্স আনজুমা আটক

হাফেজ মোহাম্মদ কাশেম :  মাত্র ১ সপ্তাহের ব্যবধানে টেকনাফের ‘ত্রাস’ খ্যাত রোহিঙ্গা ডাকাত আবদুল হাকিম প্রকাশ হাকিম্যা ডাকাত আবারও অস্ত্রের মুখে যুবক অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টেকনাফ পৌর এলাকা নাইট্যংপাড়ার ইসমাইলের বাড়ীর সামনে এঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, শুক্রবার ৯ ফেব্রুয়ারী গভীর রাতে জহির আহমদের বড় ছেলে জালাল আহমদকে (২২) আব্দুল হাকিমের নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের অস্ত্রধারী ডাকাত দল ধরে তুলে নিয়ে যায়। এ নিয়ে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয় অসহায় ও আতংকিত বাসিন্দাগণ আরও বড় ধরণের ঘটনার আশঙ্কা করছেন।

এদিকে শনিবার ১০ ফেব্রুয়ারী সকাল ১০টার দিকে টেকনাফ উপজেলা পরিষদের সামনে ডাকাত আব্দুল হাকিমের সহযোগী হিসাবে পরিচিত নারী সোর্স টেলিফোনে কথা বলার সময় নাইট্যংপাড়া এলাকার মোহাম্মদ রফিকের স্ত্রী আনজুমা বেগমকে (৩২) আটক করে স্থানীয় জনসাধারণ। আনজুমা বেগম বসবাস করেন নিকটস্থ নুর আহমদের ঘোনা এলাকায়। আনজুমার স্থায়ী ঠিকানা মহেশখালী উপজেলার কুতুবজুম।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাইন উদ্দিন খান বলেন,  ‘হাকিম ডাকাতের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা রুজু করা হবে। তাছাড়া অপহৃত জালাল আহমদকে উদ্ধারের কাজ চলছে’।

জানা গেছে,  শুক্রবার ৯ ফেব্রুয়ারী গভীর রাতে নাইট্যংপাড়া জহির আহমদের ছেলে জালাল আহমদকে (২২) আব্দুল হাকিমের নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের অস্ত্রধারী ডাকাত দল ধরে তুলে নিয়ে যায়। বিষয়টি টেকনাফ মডেল থানাকে অবহিত করা হয়েছে। এদিকে শনিবার ১০ ফেব্রুয়ারী সকাল ১০টার দিকে টেকনাফ উপজেলা পরিষদের সামনে ডাকাত আব্দুল হাকিমের সহযোগী হিসাবে পরিচিত টেলিফোনে কথা বলার সময় নাইট্যংপাড়া এলাকার মোহাম্মদ রফিকের স্ত্রী আনজুমা বেগমকে (৩২) আটক করে স্থানীয় জনসাধারণ। খবর পেয়ে পুলিশ দল এসে আনজুমা বেগমকে থানায় নিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, ১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে রোহিঙ্গা ডাকাত হাকিমের বন্দিশালা থেকে শিকলে বাঁধা অবস্থায় কৌশলে পালিয়ে এসেছে এক যুবক। পালিয়ে আসা যুবক ছিলেন টেকনাফ পৌর এলাকার নাইট্যংপাড়া গ্রামের মোঃ কাসেমের ছেলে নুরুল আফছার (১৮)।

ডাকাত দলের পাহাড়ী আস্তানা থেকে অপহৃত যুবক পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়।

পালিয়ে আসা যুবক সাংবাদিকদের বলেছিলেন  ‘বুধবার রাত ৯টার দিকে রোহিঙ্গা ডাকাত আবদুল হাকিমের নেতৃত্বে ৪ জন অস্ত্রধারী নাইট্যংপাড়ার নিজ বাড়ী থেকে তাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে চোখ বেঁধে অপহরণ করে গহীন পাহাড়ী আস্তানায় নিয়ে যায়। এসময় বাড়ীর লোকজনের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। নইতো আমাকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকী প্রদান করে। ডাকাতরা তাকে পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে মারধর করে এবং একটি গাছের সাথে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে। সারা রাত এঅবস্থায় থাকার পর সকাল ৮টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার কথা বললে ডাকাতরা তাকে শেকলে বাঁধা অবস্থায় জঙ্গলের একপাশে নিয়ে যায়। সেখান থেকে কৌশলে ডাকাতদের ফাঁকি দিয়ে তালাবদ্ধ শিকলসহ বাড়ীতে পালিয়ে আসি’।

নুরুল আফছার আরও বলেন,  ‘বছরখানেক আগেও আমার বড়ভাই তোফাইলকে এই হাকিম ডাকাত অপহরণ করেছিল। এখনো তার হদিস মিলেনি। ওই ঘটনায় হাকিম ডাকাতের বিরুদ্ধে নিখোঁজ তোফাইলের মামা জহির বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলা তুলে না নিলে তারও লাশ পড়বে বলে বাড়ীতে হুঙ্কার দিয়ে যান’।

পালিয়ে আসা নুরুল আফসারের মামা আলহাজ্ব জহির আহমদ বাদি হয়ে হাকিম ডাকাতসহ ৪ জনকে অভিযুক্ত করে টেকনাফ মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে হাকিম ডাকাত আলহাজ্ব জহির আহমদের পুত্র জালাল আহমদকে (২২) অস্ত্রের মুখে অপহরণ করেছে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী।

এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে,  ভয়ংঙ্কর রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার আবদুল হাকিমের অপরাধের শেষ নেই। দীর্ঘদিন ধরে সে টেকনাফ উপজেলা কমপ্লেক্স সংলগ্ন গহীন পাহাড়ে অবস্থান নিয়ে স্বশস্ত্র ডাকাতদল গঠন করে খুন, গুম, অস্ত্র লুঠ, ডাকাতি ও ইয়াবা ব্যবসাসহ নানা অপরাধ সংঘঠিত করে আসছে। তার বিরুদ্ধে প্রায় এক ডজনের বেশী মামলা রয়েছে। দেড় বছর আগে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের সদর ইউনিয়নের সভাপতি সিরাজুল ইসলামকে বাড়ীতে ঢুকে হত্যাসহ একাধিক হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। এছাড়া ১ ফেব্রুয়ারি পালিয়ে আসা অপহৃত আফছারের বড় ভাই তোফাইল আহমদকে বছর খানেক আগে আপহরণ করে নিয়ে যায় এই হাকিম বাহিনী। সেই থেকে নিখোঁজ রয়েছে তোফায়েল।

ইতিমধ্যে বিজিবি, র‌্যাবসহ আইনশৃংখলা বাহিনী হাকিম ডাকাতের আস্তানায় একাধিক অভিযান চালিয়ে কয়েকজন সহযোগীকে অস্ত্রসহ আটক করে কারাগারে পাঠালেও দূর্ধর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত আবদুল হাকিম এখনো অধরা রয়ে গেছে। তার বিরুদ্ধে টেকনাফ উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভায় বহুবার আলোচনা এবং আটকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

টেকনাফ উপজেলার সাধারন মানুষের কাছে এক আতঙ্কের নাম রোহিঙ্গা ডাকাত আব্দুল হাকিম। এই ডাকাত মিয়ানমারের মংডু বড় ছড়া এলাকার জানে আলমের ছেলে। মাদক পাচার, অপহরণ, ডাকাতি, হত্যা, ধর্ষণ এসব যেন তার কাছে ঠুনকো বিষয়। আর এসবের পেছনে তার ছায়া হিসেবে কাজ করেন এলাকার কিছু নেতা। কথিত নেতারা এই ভয়ঙ্কর রোহিঙ্গা ডাকাতকে নিরাপত্তা দেন বলেও জনশ্রুতি রয়েছে। অপহৃত পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এই ঘটনায় উদ্বেগ আর উৎকন্ঠা ও নিরপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানা গেছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, টেকনাফের গহীন পাহাড়ে আস্তানা আছে এই ডাকাত হাকিমের। সেখান থেকেই তার বাহিনীর লোকজন দিয়ে এসব মানুষ হত্যা, মায়ানমার থেকে বিশাল আকারের ইয়াবার চালান এনে তার আস্থাশীলদের রসদ যোগান দেন এই ডাকাত হাকিম। তার রয়েছে বিশাল অস্ত্রের ভাণ্ডার। দেশী আর বিদেশী এসব অস্ত্রের যোগান কারা দেয় এনিয়েও এখন অনেকের কাছে প্রশ্ন।

পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন,  ‘স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানতে পেরেছি ‘ভয়ঙ্কর ডাকাত হাকিমের কাছে এক থেকে দুই ট্রাকের মত বিভিন্ন অস্ত্রের মজুদ রয়েছে। আর এসব অস্ত্র দিয়ে সে তার কুকর্ম সম্পাদন করে। আর কিছু লোকজন তাকে অর্থ দিয়ে লালন পালন করে বলে জানতে পেরেছি। তাকে থামাতে না পারলে এই অঞ্চলে আরও অপরাধ ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী দলের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এই ডাকাত ও মাদক পাচারকারীকে থামাতে না পারলে মানুষের মনে স্বস্তি আসবেনা’।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.