টেকনাফে অনভিজ্ঞ চালকের হাতে যানবাহন; বাড়ছে ঝুঁকি

Monday,06 August 2018

ctgbarta24.com

জেড করিম জিয়া : ঢাকা থেকে শুরু করে কক্সবাজার সহ দেশের সর্বস্তরে যখন “নিরাপদ সড়ক চাই” এর দাবী উঠেছে তখন টেকনাফের পরিবহনের মালিকগণ অনিরাপদ, অদক্ষ ও কম বয়সী চালকদের হাতে গাড়ী দিয়ে হাই তুলছেন।ফলে ঘটছে বিভিন্ন দূর্ঘটনা।

সচেতন মহলের অভিমত, সারাদেশের ন্যায় স্কুল কলেজের ছাত্রদের ধারা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আগেই টেকনাফের পরিবহন খাতের অনিয়ম সমাধান প্রয়োজন।

জানা যায়, টেকনাফ উপজেলার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মনিটরিং না থাকার বিভিন্ন সড়ক ও অলি গলিতে রেজিষ্ট্রেশন, রুট পারমিট ও ফিটনেস বিহীনভাবে চলাচল করছে হাজার হাজার যানবাহন। পাশাপাশি এ সব গাড়ীর অধিকাংশ চালকরাই আবার শিশু নয়তো অদক্ষ ।

এসব অদক্ষ চালকের করনে প্রতিনিয়ত সড়কে আশংকাজনক হারে বেড়ে চলেছে দূর্ঘটনা ও প্রাণহানি।

অভিযোগ উঠেছে, অধিকাংশ যানবাহনের মালিক দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্টদের সাথে আতাত করে এবং অলিখিত মাসিক চুক্তি করে বছর পর বছর টিকেয়ে রেখেছে নিজেদের পরিবহন ব্যবসা।এবং ট্রাফিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে এসব ফিটনেস বিহীন গাড়ী গুলো কম পারিশ্রামিক দিয়ে অদক্ষ-অনভিজ্ঞ ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালকদের হাতে গাড়ী তুলে দিয়ে পরিবহন ব‍্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন । যার কারেনে সড়কে ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও কার্যকরী পদক্ষেপ না থাকায় এসব পরিবহন সেক্টরে নৈরাজ্য বন্ধ হচ্ছে না। আর এ কারণেই ভুক্তভোগীর শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

অন্যদিকে , পরিবহনে সেক্টরের একশ্রেণীর দালালচক্র সড়কে কোন ধরনের দূর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটলেই রফদফা করতে উঠে পড়ে লাগে। ঘটনার শিকার নিহতদের পরিবার কে আইনের মারপ্যাচ বুঝিয়ে মামলা করা থেকে বিরত রাখেন তারা।

এ সুযোগে চালকরা সামান্য ভাড়ায় যাত্রী উঠানামার জন্য নিয়মিত প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকে। ফলে ওভারটেক, রাস্তার মাঝখানে অবৈধভাবে দীর্ঘসময় গাড়ী দাঁড় করিয়ে যাত্রী উঠানামা, ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অধিক যাত্রী বহনসহ নানান কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে ভয়াবহ যানজট ও সড়ক দূর্ঘটনা।

গত ৪ ই এপ্রিল হ্নীলা মোচনী গেইট সংলগ্ন এলাকায় টেকনাফের দিয়ে একটি ডাম্পার গাড়ি যাওয়ার সময় মোচনী নয়াপাড়ার ই-ব্লকের লালু মিয়ার মেয়ে ইসমত আরা (৪) কে ধাক্কা দিলে প্রধান সড়কে পড়ে রক্তাক্ত হয়। তাকে উদ্ধার করে পাশের একটি হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়। গত মে মাসে টেকনাফ জাদিমুরা এলাকায় ডাম্পারের ধাক্কায় সিএনজি উল্টে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহ–সভাপতি সিরাজুল হক বিএন ও জেলা বিএনপির সদস্য সিরাজুল হক ডালিম নিহত হন।

জানা যায়, রেজিষ্ট্রেশন, রুট পারমিট, ফিটনেস বিহীন, অদ চালক দিয়ে চলছে হাজারো মিনি বাস, মাইক্রো-হাইয়েছ, ডাম্পার, জিপ-চাঁন্দের গাড়ী, টেম্পো-ট্যাক্সি, সিএনজি, মোটর সাইকেল, নছিমন (পানির মেশিনে তৈরি গাড়ী) নানান ধরনের যানবাহন। এসব যানবাহনের অধিকাংশ চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, কোন রুট পারমিট‌ও নেই। সেই সাথে ট্রাফিক নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা করে না এসব চালকেরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়,চলাচলকারী অধিকাংশ যানবাহনের চালকরা অদক্ষ ও অনভিজ্ঞ, অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় এরা ভূয়া লাইসেন্স, রুট পারমিট সংগ্রহ করে দিনের পর দিন বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চালিয়ে যাচ্ছে। তাই তারা জানেন না যানবাহন চালানোর নিয়মনীতি।এমনকি যানবাহনে চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও এ নিয়মের ধার ধারে না এসব চালকেরা ফলে অনভিজ্ঞ ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালকের হাত ধরে উঠে আসে উত্তরসূরীরা। প্রথমে তারা বিভিন্ন যানবাহনের সহকারী হিসেবে কাজ নিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায়, গাড়ী ধোয়া-মোচার কাজ করে। সুযোগ হলে গাড়ী ষ্টার্ট দিয়ে দূর্ঘটনা ঘটায় ।কোন রকম গাড়ী চালাতে পারলে পরিবহন সেক্টরের বিভিন্ন দালালদের মাধ্যমে বিআরটিসি’র কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ভূয়া লাইসেন্স সংগ্রহ করে এসব অনিয়মের কারণে প্রতিদিন কোন না কোন সময় পথচারী ও যাত্রীরা এসব চালকদের দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, টেকনাফ উপজেলার অধিংকাংশ মিনি বাস, মাইক্রো-হাইয়েছ, ডাম্পার, জিপ-চান্দের গাড়ী, টেম্পো-ট্যাক্সি, সিএনজি, মোটর সাইকেল, নছিমন-করিমন চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অভিজ্ঞতা নেই। এসব নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে রাজনৈতিক লেভেলের শ্রমিক নেতাদের চাপের মুখে তা হয়ে উঠে না। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.