টেকনাফে পুলিশের গ্রেপ্তার বাণিজ্য সংবাদে ফাঁড়ির ইনচার্জ প্রত্যাহার

শনিবার,০৮ জুলাই ২০১৭

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম : কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের হয়রানি নিয়ে সংক্রান্ত গতকালের (শুক্রবার) দৈনিক কালের কণ্ঠে ‘টেকনাফে পুলিশের গ্রেপ্তার বাণিজ্য’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে ওই এলাকায় তোলপাড় হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

এদিকে গতকালই টেকনাফের হোয়াইক্যং ফাঁড়ির দায়িত্বরত উপপরিদর্শক (এসআই) মুফিজুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। টেকনাফ থানার অন্য একজন উপপরিদর্শক (এসআই) মোকতার আহমদকে ওই পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এসআই মোকতার আহমদ কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, পুুলিশের উপপরিদর্শক মুফিজুল ইসলাম গত বুধবার টেকনাফের হোয়াইক্যং ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও ক্ষুদ্র মত্স্য ব্যবসায়ী হাফেজ আহমদকে তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি বলে ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে যান। এরপর হাফেজের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ইয়াবা দেখিয়ে তাঁকে বলে টাকা না দিলে ইয়াবাসহ আদালতে পাঠানো হবে। শেষ পর্যন্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হাফেজ দেড় লাখ টাকা দিয়ে মুক্তি পান। গতকাল কালের কণ্ঠে এ ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশের পর ভুক্তভোগী অনেকেই এ প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ধন্যবাদ জানান।

টেকনাফ থানার পার্শ্ববর্তী জীপ স্টেশনের মোবাইল ফোনের দোকানি স্থানীয় অলিয়াবাদের বাসিন্দা নুরুল মোস্তফাও তাঁর হয়রানির কথা জানান। তিনি গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, গত বুধবার থানার এসআই আবদুর রহিম ও ক্যাশিয়ার গিয়ে তাঁকে দোকান থেকে ধরে থানায় নিয়ে আসেন। তাঁকে থানার তিনতলা ভবনের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। তিনতলার এ কক্ষটি ‘বন্দিশালা’ হিসেবে ব্যবহার করছে পুলিশ। পুলিশ তাঁকে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। পরে তাঁর আত্মীয়স্বজন দুই লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে বৃহস্পতিবার তাঁকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

টেকনাফের হোয়াইক্যং ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলী আকবর (৬০) জানান, ২০ রমজানের রাতে টেকনাফ থানার এসআই একরামুজ্জামানসহ একদল পুলিশ সদস্য তাঁকে ঘর থেকে ধরে নিয়ে যান। তাঁকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে ১৫ লাখ টাকা দাবি করেন তাঁরা। তাঁর স্বজনরা চার একর জমি বন্ধক রেখে সাড়ে তিন লাখ টাকা দিয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেয়।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.