টেকনাফে ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ীর আত্মসমর্পণ

Saturday,16 February 2019

ctgbarta24.com

নুরুল হোসাইন,টেকনাফ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ইয়াবা কারবারিরা যত বড় শক্তিশালীই হোক তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। মাদকের ব্যাপারে কাউকে ছাড় নয়। আগে দেশ বাঁচাতে হবে। সীমান্ত দিয়ে কোনো প্রকার মাদক ও অবৈধ নাগরিক যাতে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে। এজন্য বিজিবিকেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।

মাদক নির্মূলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে ও ব্যবসায় জড়িদের সামাজিকভাবে বয়কট করে সচেতনতা সৃষ্টি হবে। মাদক ব্যবসায় জড়িত আত্মসমর্পণকারীদের পূর্ণবাসন করে আইনী সহায়তা দেয়া হবে। এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান মাদক নির্মূলের শুভ সূচনা। সরকারের মাদকবিরোধী অভিযানে ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে না আসলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তাদের জন্য কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে। জঙ্গিবাদের মত মাদককে নির্মূল করতে কাজ করছে সরকার। মাদকের কোন ঠাই হবে না, ব্যবসায়ীদের তৈরী করা স্বর্ণ কমলে আর জায়গা হবে না।

আজ (শনিবার) দুপুরে কক্সবাজারের টেকনাফ পাইলট হাইস্কুল মাঠে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনের সভাপতিত্বে টেকনাফ মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত মাদক ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন- মাদক ব্যবসা ধর্মীয়ভাবে নিষেধ রয়েছে। তারপরেও যদি কেউ জড়িত থাকে তাদের পরিণতি ভাল হবে না, যে কোন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে আটকা পড়বে। ইয়াবার কারণে বাংলাদেশের হাজার হাজার কোটি টাকা মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে, এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক চাপ পড়ছে। লোক সংখ্যার চেয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা নগন্য। সবাই একযোগে কাজ করলে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা ব্যবসা বন্ধ করে দেবে। পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে ঘরে ঘুমাতে পারবেন না, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন। না হয় বঙ্গোপসাগরে থাকতে হবে। কোন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মাদকের সাথে জড়িত থাকলে তাদেরকেও ছাড় দেয়া হবে না। শ্রীঘ্রই সরকারের দেয়া ঘোষণা অনুযায়ী মাদক বন্ধে মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগ ও বর্ডার সীলগালা করে দেয়া হয়েছে। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের হুশিয়ারী করে তালিকার বাইরে নতুন কোন ইয়াবা ব্যবসায়ী না হয় সেদিকে নজর রাখবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সীমান্তের কাঁটাতারের ঘেরা ও নাফনদীতে দিনের বেলায় মাছ শিকারের অনুমতি প্রদানের দাবী সাংসদ শাহীন চৌধুরী।

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন- বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. জাবেদ পাটোয়ারী, বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন- কক্সবাজার -১ আসনের সংসদ জাফর আলম, কক্সবাজার -২ আসনের আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজার -৩ আসনের সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার -৪ আসনের শাহীন আকতার চৌধুরী, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খোন্দকার গোলাম ফারুক, বিজিবির রিজিয়ন কমান্ডার সাজেদুর রহমান, জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ, জেলা আ’লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা, টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার বিষয়ে বক্তব্য রাখেন- এনামুল হক মেম্বার ও মোঃ সিরাজ।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘সেফহোম’ থেকে শীর্ষ ইয়াবাকারবারিদের কক্সবাজারের টেকনাফে আত্মসমর্পণ মঞ্চে আনা হয়। মঞ্চের কাছে একটি দোতলা ভবনে তাদের রাখা হয়। পরে সরকারের দেওয়া নয় শর্তে ১০২ জন ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণ করেন। এসময় সাড়ে তিন লাখ পিস ইয়াবা, ৩০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৭০ রাউন্ড কার্তুক জমা দিয়েছেন। আত্মসমর্পণকারীদের দেখতে তাদের স্বজন ও এলাকার হাজারো মানুষ ভিড় জমান। তালিকাভুক্ত কয়েকজন ইয়াবা কারবারিকেও অনুষ্ঠানস্থলে দর্শক হিসেবে কাছে দেখা গেছে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী ১০২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ীর মধ্যে অন্তত ৩৫ জন গডফাদার রয়েছেন। আত্মসমর্পণকৃতদের বিরুদ্ধে ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধারের মামলা হবে।আত্মসমর্পণকারী ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দেয়া শর্তগুলো হল- আত্মসমর্পণের আগে দায়ের হওয়া মামলা ও বিচার কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলবে,মামলা প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা হবে, ইয়াবা ব্যবসায় নিজের-পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়-স্বজনের নামে-বেনামে অর্জিত সকল সম্পদ দুদক- সিআইডির মানি লন্ডারিং শাখা ও এনবিআরের মাধ্যমে যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে, যে সকল মাদক ব্যবসায়ী এখনো সক্রিয় তাদের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে হবে, মুক্ত হলে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মকান্ড করতে হবে, ভবিষ্যতে কখনো জড়িত হওয়া যাবে না।

আত্মসমর্পণকারী ইয়াবা ব্যবসায়ীরা হলেন- টেকনাফের পশ্চিম লেদা এলাকার মৃত হাজী আবুল কাশেমের ছেলে নুরুল হুদা মেম্বার (৩৮), নাজিরপাড়া গ্রামের মৃত এজাহার মিয়ার ছেলে এনামুল হক ওরফে এনাম মেম্বার (২৪), বেইগ্না পাড়া এলাকার মৃত মাস্টার ছৈয়দ আহম্মদ ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে দানু মেম্বার (৩৭), গোদার বিল এলাকার আলী আহম্মদ ছেলে আব্দুর রহমান (৩২) ও জিয়াউর রহমান (২৭), পশ্চিম লেদা এলাকার হাজী আবুল কাশেমের ছেলে নুরুল কবির (৩৫), হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়ার মৃত হাজী খায়রুল বশরের ছেলে ছৈয়দ আহম্মদ ওরফে ছৈয়তু (৫৬), নাজিরপাড়ার হাজী মো. ইসলামের ছেলে আব্দুর রহমান (৩০), টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরী পাড়ার মৃত এজাহার মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম প্রকাশ শফিক (২৯), নাজিরপাড়ার হাজী কালামিয়ার ছেলে সৈয়দ হোসেন (৫৫), নাইটং পাড়ার মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে মো. ইউনুছ (৪৮), পুরাতন পল্লান পাড়ার মৃত হাজী নুরুল ইসলামের ছেলে শাহ আলম (৩৫), আলীর ডেইলর হাজী খুইল্লা মিয়ার ছেলে জাফর আলম (৪৩), জাহাজপুরার মৃত হাজী আব্দুস শুক্কুরের ছেলে নুরুল আলম (২৬), হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়ার মৃত হাজী খায়রুল বশরের ছেলে রশিদ আহম্মদ ওরফে রশিদ খুলু (৫৪), হ্নীলা ফুলের ডেইল এলাকার মৃত ছৈয়দুল আমিনের ছেলে রুস্তুম আলী (৩৫), জুমপাড়ার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে শফি উল্লাহ (৩৮), মনতোলিয়া পাড়ার মোহাম্মদ ইসলামের ছৈয়দ আলম (৪০), উত্তর লম্বরীর মৃত মিয়া হোসেনের ছেলে আবদুল করিম মাঝি (৪০), রাজারছড়া এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে আব্দুল কুদ্দুস (২৪), জাহেলিয়া পাড়ার শামছু মিয়ার ছেলে মো. সিরাজ (২৮), কচুবনিয়ার আবদুল খালেকের ছেলে আ. হামিদ (৩৫), নাজিরপাড়া মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মো. রফিক (৩২), নতুন পল্লানপাড়ার মো. সালামের ছেলে মো. সেলিম (৩২), নাইট্যংপাড়ার আমিন শরীফের ছেলে মো. রহিমুল্লাহ (২৯), নাজিরপাড়ার নুরুল আলমের মো. হেলাল (৩২), চৌধুরী পাড়া গ্রামের মৃত মোজাহার মিয়ার ছেলে মো. আলম (৪৫), হ্নীলা পূর্ব পানখালী এলাকার মৃত আবুল হাসানের ছেলে নজরুল ইসলাম (৫২), তুলাতলী গ্রামের হাজী মোজাফফর আহম্মদের ছেলে নুরুল বশর ওরফে কালা ভাই (৪০), হাতিয়ার ঘোনার মো. ছিদ্দিকের ছেলে দিল মোহাম্মদ (৩৪), হাতিয়ার ঘোনা, করাচিপাড়ার আবদুল হাকিমের ছেলে মো. হাছন (৩২), মুন্ডার ডেইল গ্রামের মো. আব্দুর রহমানের ছেলে মো. সাহেদ রহমান নিপু (৩৩), শিলবুনিয়া পাড়ার হায়দার আলীর ছেলে কামরুল হাসান রাসেল (৩৫), ওলিয়াবাদ এলাকার মৃত এজাহার মিয়ার ছেলে আমিনুর রহমান ওরফে আব্দুল আমিন (৪১), একই গ্রামের মৃত ইব্র্রাহিম খলিলের ছেলে মারুফ বিন খলিল ওরফে বাবু (৩০), আলীর ডেইলের মৃত নজির আহম্মদের ছেলে সাহেদ কামাল (৩২), দক্ষিণ নয়াপাড়ার সোনা আলীর ছেলে নুর মোহাম্মদ (৪২), সদর কচুবুনিয়া এলাকার হাকিম আলীর ছেলে বদিউর রহমান (৪৭), চৌধুরী পাড়ার মৃত এজাহার মিয়া ছেলে ফয়সাল রহমান (২৯), চৌধুরী পাড়ার মৃত অংছেন ছার ছেলে মং সং থেইন ওরফে মমচি (৪৮), কুলাম পাড়া এলাকার মো. ইউনুচ নুরুল বশরের ছেলে নুরশাদ কাউন্সিলর (৩১), দক্ষিণ জালিয়াপাড়ার হাজী ওসমান গণির ছেলে জুবাইর হোসেন (৩০), পূর্ব লেদার মৃত লাল মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (২৮), আলী খালী এলাকার মৃত হায়দার আলীর ছেলে মো. জামাল মেম্বার (৫২), উত্তর লেঙ্গুর বিল এলাকার জাফর আহম্মদ চেয়ারম্যানের ছেলে দিদার মিয়া (৩৫), মধ্যম জালিয়া পাড়ার আ. গফফারের ছেলে মোজাম্মেল হক (২৮), মৌলভীপাড়ার ফজল আহম্মদের ছেলে একরাম হোসেন (২৫), ডেইল পাড়ার মো. আলীর ছেলে আব্দুল আমিন (৩৪), উত্তর পাড়া, ৮নং ওয়ার্ড, শাহ পরীর দ্বীপ এলাকার মৃত এবাদুল হকের ছেলে রেজাউল করিম মেম্বার (৩৪), উত্তর আলী খালী এলাকার জামাল মেম্বারের ছেলে শাহ আজম (২৮), দক্ষিণ নয়াপাড়ার মৃত মো. আব্দুল্লাহর ছেলে আলমগীর ফয়সাল ওরফে লিটন (৩০), মধ্যম ডেইলপাড়া হাজী মো. শরীফ মো. আব্দুল্লাহ (৩৬), উত্তর শীলখালী এলাকার সোনালী মেম্বারের ছেলে মো. আবু ছৈয়দ (২৫), জাদিমুরা এলাকার আবুল মঞ্জুরের ছেলে মো. হাসান আব্দুল্লাহ (৩৪), উত্তর শীলখালীর সোনালী মেম্বারের ছেলে মো. আবু ছৈয়দ (২৫), জাদিমুরা গামের আবুল মঞ্জুরের ছেলে মো. হাসান আব্দুল্লাহ (৩৪), ঝিনাপাড়ার মৃত মো. কাসেমের ছেলে আলী আহম্মদ (৩৫), মন্ডার ডেইল গ্রামের কবির আহম্মদের ছেলে মো. সাকের মিয়া ওরফে সাকের মাঝি (২৮), রাজার ছড়া এলাকার মো. কাশেমের ছেলে হোসেন আলী (২৭), দক্ষিণ নয়াপাড়ার মু. মৌলভী আলী হোসেনের ছেলে মো. তৈয়ব (৪৬), উত্তর জায়িলাপাড়ার মৃত সৈয়দ নুরের ছেলে নুরুল বশর মিজি (৫৫), নাজিরপাড়ার মৃত কালা মিয়ার ছেলে জামাল হোছাইন (৫৩), মৌলভী পাড়ার মৃত হাজী কালা মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী (৩৭), মৌলভী পাড়ার মৃত নুরুল হকের ছেলে আ. গনি (৩৩), উত্তর জালিয়াপাড়ার মৃত হাছান আলীর ছেলে মো. হাশেম ওরফে আংকু (৩৮)।

আপনার মতামত দিন....

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.