ব্রেকিং নিউজ:
Search

‘দায়িত্ব পালন না করলে পদ ছেড়ে দিন’

সমাবেশে কম উপস্থিতি নিয়ে নগর আ’ লীগ নেতাদের ক্ষোভ

বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারি ২০১৬

'দায়িত্ব পালন না করলে পদ ছেড়ে দিন'

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের জনসমাবেশ। ছবি: সিটিজিবার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

চট্টগ্রাম :: কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের কাঙ্ক্ষিত উপস্থিতি না পেয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ ঝেড়েছেন নগর আ’লীগের তিন শীর্ষ নেতা। দায়িত্ব পালন না করলে পদে থাকা নেতাদের পদ ছেড়ে দেবারও আহ্বান জানিয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে নগরীর শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে নগর আওয়ামী লীগের জনসমাবেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলটির নেতারা। এতে সভাপতিত্ব করেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।

কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচিতে নগর আওয়ামী লীগ শোডাউনের ঘোষণা দিলেও নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল কম। সমাবেশ উপলক্ষে শহীদ মিনারের সামনের সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। তবে কাঙ্ক্ষিত উপস্থিতি না থাকায় সমাবেশ মঞ্চের সামনে ছাড়া পুরো সড়কই ছিল ফাঁকা।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের মধ্যে মাত্র একজন সাংসদ উপস্থিত ছিলেন সমাবেশে। তিনি হলেন সংরক্ষিত আসনের নারী সাংসদ বেগম সাবিহা নাহার মুসা। হাতোগোণা দু’য়েকটি ওয়ার্ড ও থানা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দেন।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে শুধুমাত্র ওমরগণি এমইএস কলেজ এবং সিটি কলেজ থেকে পৃথক দুটি মিছিল সমাবেশস্থলে আসে। নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু উপস্থিত থাকলেও ওয়ার্ড-থানা থেকে আসেনি যুবলীগের কোন মিছিল।

বক্তব্য দিতে গিয়ে মাত্র একজন সংসদ সদস্যের উপস্থিতি নিয়ে প্রথমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা অনেককে এমপি বানিয়েছেন। আজকে দলের এত গুরুত্বপূর্ণ একটা কর্মসূচি, মাত্র একজন ছাড়া আর কোন এমপি আসেননি।

সাংসদ সাবিহা মুসাকে উদ্দেশ্য করে সুজন বলেন, একজন এমপিও আসেননি, আপনি এসেছেন। আপনাকে ধন্যবাদ।

সুজন নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, নিজের দলের দিকে তাকান। এদিক-ওদিক তাকানোর দরকার নেই। ঘরে বউ রেখে আরেকজনের দিকে তাকাবেন না। আমাদের কিছু কিছু নেতা আছেন যারা নিজের দল বাদ দিয়ে জামায়াতের দিকে তাকিয়ে থাকেন। কোনদিকে জামায়াত আছে, কিভাবে তাদের পুর্নবাসন করা যাবে সেটা চিন্তা করেন। জামায়াত বাদ দিয়ে নিজের দল নিয়ে চিন্তা করেন।

বক্তব্য দিতে গিয়ে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনও এই বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন।

মেয়র বলেন, আমরা যারা দল করছি, কে কোন পদে আছি সেটা বড় কথা নয়। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দলের জন্য কাজ করতে হবে। অনেকে পদে আছেন অথচ দায়িত্ব পালন করেন না। দলের সভা-সমাবেশে আসেন না।

মেয়র নাছির বলেন, ‘আমাদেরও তো কাজ থাকে। আমরাও তো বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করি। অথচ আমরাই সভা-সমাবেশে উপস্থিত থাকি। আমরা পারলে আপনারা পারবেন না কেন ? পদ নিয়ে বসে থাকবেন, সভা-সমাবেশে আসবেন না, এটা হবে না। শুধু মহানগরের কথা বলছি না, তৃণমূলের ওয়ার্ড-ইউনিটের নেতাকর্মীদের কথাও আমি বলছি।’

তিনি পদধারী নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, যদি দলকে ভালবাসেন, জাতির জনকের প্রতি যদি আপনাদের চুল পরিমাণ শ্রদ্ধা-আস্থা থাকে, জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি যদি আপনাদের বিন্দুমাত্র সম্মান থাকে তাহলে দায়িত্ব পালন করুন। অন্যথায় সসম্মানে অব্যাহতি নিন। পদ ছেড়ে দিন।

মেয়র বলেন, কিছুদিন পর কার্যকরী কমিটির সভা ডাকব। যারা পদ নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন না, তাদের সম্মানজনকভাবে পদ থেকে বিদায় দেব। আর যারা সংগঠনের পেছনে সময়, শ্রম দিচ্ছেন তাদের পদে মূল্যায়ন করব।

সভাপতির বক্তব্যে সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমার চলাফেরা করতে কষ্ট হয়। তবুও আমি সব সভা-সমাবেশে আসি। কষ্ট হোক, আমি বেঁচে তো আছি। যতদিন বেঁচে থাকব, দলের জন্য কাজ করে যাব। এখন দল ক্ষমতায়। সেজন্য অনেকে কর্মসূচিতে আসছেন না। তারা নিজের লাভের জন্য দল করছেন।

তিনি বলেন, দলের ভেতরে অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে। অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। তারা দলের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি করে দলকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। ছাত্রলীগের কেউ যদি অপকর্ম করে কোন ছাড় দেব না।

নগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, সংসদ সদস্য সাবিহা মুসা এবং সিডিএ চেয়ারম্যান ও নগর আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক আবদুচ ছালাম।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


CAPTCHA Image
Reload Image