নাটকীয় পেনাল্টি শুট-আউটে ক্রোয়েশিয়ার জয়

সোমবার, ২ জুলাই ২০১৮

নাটকীয় পেনাল্টি শুট-আউটে ক্রোয়েশিয়ার জয়

খেলা ডেস্ক : বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে একদল জিতবে, একদল হারবে। ডু অর ডাই ম্যাচে এমনটাই ফল হবে সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু ক্রোয়েশিয়া ও ডেনমার্কের মতো ম্যাচ কি কেউ কোনো সময় কল্পনা করেছিল!

প্রতিটি মুহূর্তে ছিল উত্তেজনা। প্রতিটি সেকেন্ডে বুক কেঁপেছে। পেন্ডুলামের মতো ঝুলেছে ম্যাচ। কখনো এগিয়ে ক্রোয়েশিয়া, কখনো ডেনমার্ক। তীব্র উত্তেজনা, শিহরণ জাগানো রোমাঞ্চ। এ যেন কল্পনাকেও হার মানায়।

বিধাতার পরম মায়ায় শেষ হাসিটা হাসে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া ক্রোয়েশিয়া। ফ্রান্সের বিপক্ষে ওই বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল হারের পর নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে তৃতীয় হয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। ১৯৯১ সালে স্বাধীন হওয়া দেশটি এরপর জাপান/কোরিয়া, জার্মানি ও ব্রাজিল বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডেই উঠতে পারেনি।

এবার রাশিয়ায় এসে পুরোপুরি পাল্টে গেল দলটি। তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ষোলোয় ক্রোয়েশিয়া। এখন শেষ ষোলো থেকে শেষ আটে ক্রোয়েটরা। রোববার রাতে ডেনমার্ককে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ক্রোয়েশিয়া। স্কোরশিট খুব সহজ মনে হলেও এতটা সহজে জিতেনি তারা।

নির্ধারিত সময়ের ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত মিনিটে। দুই অর্ধে অতিরিক্ত ১৫ মিনিটের লড়াইও অমীমাংসিত। টাইব্রেকারে গড়ায় ম্যাচ। নাটকের শুরুটা সেখানেই।

কী আশ্চর্য, দুই দলের প্রথম দুটি শটই রুখে দেন গোল রক্ষকরা। প্রথমে ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বল বারে লাগার আগে ক্রোয়েশিয়ার গোল রক্ষক সুবাসিচের হাতে হাল্কা স্পর্শ পায়। অসাধারণ দক্ষতায় ক্যাসপার স্মেইকেল রুখে দেন ক্রোয়েশিয়ার মিলান বাদেলির শট।

দ্বিতীয় রাউন্ডে গোলের স্বাদ পায় দুই দল। ডেনিশ অধিনায়ক সিমোন ক্যার গোল করেন প্রথমে। পরবর্তীতে ক্রামানিক এসে লক্ষ্যভেদ করেন। তৃতীয় রাউন্ডে দুই দলের হয়ে গোল করেন ক্রন-ডেলি ও লুকা মড্রিচ। চতুর্থ রাউন্ডে আবার নাটকীয়তা। প্রথমে লাস শোনের শট রুখে দেন সুবাসিচ। পুরো চাপ তখন স্মেইকেলের কাঁধে। ডেনমার্ককে ম্যাচে রাখতে শেষ মুহূর্তেও দরকার ছিল একটি সেভ। কাজের কাজটা করে দেন স্মেইকেল। জোসেফ পিভারিচের শট রুখে দেন।

২-২ ব্যবধানে ম্যাচ তখন সাডেন ডেথে। রূপকথার গল্পের মতো ঠিক ওই মুহূর্তে নায়ক হয়ে আসেন সুবাসিচ। ক্রোয়াট গোল রক্ষক ডেনমার্কের পঞ্চম শট ঠেকিয়ে দেন। নিকোলাই হার্গেনসনের নেওয়া শটে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে শেষ রক্ষা করেন সুবাসিচ। পরের শটে গোল করলেই ক্রোয়েশিয়া ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো শেষ আটে। দলকে সেই টিকিট পাইয়ে দেন রাকিতিচ। এবার আর পারলেন না স্মেইকেল।

অবশ্য এ নাটক তৈরি হয়েছে স্মেইকেলের জন্যই। ১১৬ মিনিটে আন্তে রেবিককে ডি বক্সের ভেতরে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ক্রোয়েশিয়া। তখন খেলা শেষ হতে মাত্র ৪ মিনিট বাকি। রেফারি ডেনমার্কের বিরুদ্ধে কঠিনতম সিদ্ধান্ত দিতেও পিছু পা হননি। জোগারসনকেও দেখান হলুদ কার্ড। সব কিছুই পক্ষে এসেছিল ক্রোয়েটদের। কিন্তু সব কিছুর সর্বনাশ করে দেন ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক। লুক মড্রিচ হাল্কা শট নেন স্পট কিকে। দেখেশুনে বাম দিকে ঝাঁপিয়ে বল রুখে দেন স্মেইকেল। তাতেই ম্যাচ অমীমাংসিত থাকে ১-১ গোলে।

ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে এমন গোল মিস করে বিমর্ষ লাগছিল মড্রিচকে। কিন্তু কয়েক মিনিটের ব্যবধানে অমলিন মুখে ফুটে মলিন হাসি । আজ অনেকটাই আড়ালে ছিলেন মড্রিচ। সতীর্থরা এগিয়ে এসে সেই শূন্যস্থান পূরণ করেছেন। রাশিয়ার বিপক্ষে শেষ আটের লড়াইয়ে হয়তো চিরচেনা মড্রিচকেই পাওয়া যাবে।

এর আগে ম্যাচের শুরুর মিনিটেই এগিয়ে যায় ডেনমার্ক। ডি বক্সের ভেতরে জটলার মধ্যে বল পেয়ে মাটিয়া ইয়োরগেনসেন ক্রোয়েশিয়ার জালে বল পাঠান। তিন মিনিট পর ঠিক একইভাবেই ডেনমার্কের ডি বক্সে বল পান মারিও মানজুকিচ। শট নিয়ে মানজুকিচ ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরায়।

প্রথম চার মিনিটে দুই গোলের পর পরের ১১৬ মিনিটে দুই দল একটি গোলও করতে পারেনি। একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও ফিনিশিংয়ের অভাব ছিল স্পষ্ট। তবুও দুই দল যে প্রতিদ্বন্দ্বীতা এবং লড়াকু মনোভাব দেখিয়েছে তাতে মন ভরেছে ফুটবল প্রেমিদের। ধ্রুপদী ম্যাচে শেষ পর্যন্ত জয় হয়েছে অসাধারণ ফুটবলের।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.