নির্বাচন মানে যুদ্ধ নই, গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজের মত পোষণ করা

বুধবার, ২৩ মার্চ ২০১৬

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম 

karরাশেদুল করিমনির্বাচন সময় এলে খুব প্রচার করা হয় অমুকের সাথে তমুকের ভোট যুদ্ধ। যুদ্ধ মানেই হাঙ্গামা, কাটাকাটি,গুলাগুলি,নিহত, আহত। অথচ নির্বাচন অর্থই নিয়মত্রান্ত্রিক উপায়ে নিজের মত প্রদান করা। গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজের পছন্দের প্রাথীকে নির্বাচিত করা। যে লোক জনমানুষের জন্য কাজ করবে। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া বরাদ্দ মানুষের জন্য খরচ করবে। সুশাসন নিশ্চিত করবে, শিক্ষিত সমাজ গড়ে তুলতে নিজে সচেষ্ট থাকবে।
 
মুলত মেম্বার বা চেয়ারম্যান হওয়া মানে ক্ষমতার আসনে আসীন হওয়া নই। এটি হচ্ছে এমন একটি চাকরি বা পদ যা জনগণের সাথে সরাসরি কমিটেড।
 
সমাজের মানুষ সকলে মিলে একজনকে তাদের প্রতিনিধি তৈরি করে যিনি কিনা সকলের জন্য নিবেদিত থাকবেন। সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকবেন এবং সর্বপরি নিজের উপর অর্পিত দায়িত্তের প্রতি নির্ভেজাল থাকবেন। বর্তমান প্রেক্ষাপট আমাদের এখন উল্টো চরিত্র প্রদর্শন করছে। এরকম হাজার উদাহরণ দেওয়া যায় নির্বাচিত হওয়ার পরে ঐ জনপ্রতিনিধির দেখা পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে। ভোটাররা রোঁদ, বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ভোট দিয়ে আসে পছন্দের প্রাথীর মিষ্টি কথার ফাঁদে পড়ে। পরে যখন সমস্যার প্রয়োজনে দরকার পড়ে তখন দেখাতে শুরু করে দ্বৈত চরিত্র!
 
একজন ব্যাক্তি যখন জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেস্টা করে তখনি বুজা যায় যে এর আসল উদ্দেশ্য কি। কাঁরও যদি আসলে উদ্দেশ্য থাকে জনসেবা করার সে নিজ উদ্যোগে সেটি বাস্তবায়ন করতে পারে কিন্তু জনবেসার জন্য যদি আরেকজনের বুকে বন্ধুক চালাতে হয় বা ব্যালট বাক্স লুট করতে হয়, তাহলে সেটি জনসেবার কোন সংজ্ঞায় পড়ে আমার জানা নেই।
 
এখন মেম্বার বা চেয়ার হতে চাইলে যুদ্ধের দামামা নিয়ে মাঠে-ময়দানে বিচরণ করতে হয়। কিরিচ আর অস্ত্র উঁচিয়ে প্রতিপক্ষের কল্লা নেওয়ার জন্য নিজেকে তৈরি করতে হয়। তাই যদি না হই তাহলে সারাদেশে নির্বাচনী সহিংসতা ঘটত না। খোদ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে গুলি করতে হত না নিজ দেশের মানুষের প্রতি, নিজ ভাইদের প্রতি অথচ এই বাহিনীর খরচ আসে এই জনগণের পকেট থেকে!
 
পরিশেষে নির্বাচন মানে যুদ্ধ নই, নির্বাচন মানে সুষ্ঠু ভাবে, নিয়মত্রান্তিক ভাবে ও গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজের মত পোষণ করা। নির্বাচনী সহিংসতায় সে সব তরতাজা প্রাণ নিভে গেল তার দায় কি কেউ নেবেন ?

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.