নিশি মিয়া এবং রাজীব চৌধুরী

received_m_mid_1461947851427_8f5a64649eabaf8411_0

জেনিফার আলম: আমরা অনেক সময়ই লেখকের বানানো চরিত্রের আড়ালে লেখক কে হারিয়ে ফেলি বা কখনো এমন হয় যে লেখক কেই আমরা সেই চরিত্র হিসেবে চিন্তা করি। রাজীব চৌধুরী তার লেখা চরিত্রের আড়ালে নিজেকে বিলিন করে দিতেই পছন্দ করেন আর আমরা নিশি মিয়ার আড়ালে ভুলেছি নিশি মিয়ার স্রষ্টা কে।

কে এই নিশি মিয়া?

নিশি মিয়া একজন প্রেত সাধক। নিশিমিয়ার পটভুমি উপমহাদেশের প্রেতসাধনা কে নিয়ে, উপমহাদেশে অনেক প্রাচীন কাল থেকেই তান্ত্রিক ও প্রেত সাধনা সমানতালেই হয়ে এসেছে।

এখানেই আছে কামরুপ কামাখ্যা, এখানেই আছে হরিকেল তথা আজকের চট্টগ্রাম এবং এখানেই গড়ে উঠেছিল অনেক রকমের প্রেতসাধনা। বান মারা বা ভুডু বিদ্যা-ডাকিনি যোগিনি ডাকা- এগুলোর সাথে সমান তালে চলে এসেছে নিশি ডাকা।

মরণাপন্ন কাউকে বাচানোর জন্যে একজন মানুষ একটা ডাবের মাথা কেটে মশাল জ্বেলে রাতের অন্ধকারে ঘুরতে থাকে বাড়ি বাড়ি, প্রতিটা মানুষের নাম ধরে ডাকে এবং যে ডাকে সাড়া দেয় সেই লোক সাথে সাথে মারা যায় আর আর ডাবের মুখ বন্ধ করে দেয় প্রেত সাধক। এরপর মরণাপন্ন মানুষকে ডাবের পানি খাওয়ালে সে আবার বেঁচে ওঠে। নিশি মিয়া এই রকম একজন নিশি ডাকা মানুষ, তার নাম ই হয়ে গেছে নিশিমিয়া। কিন্তু সে একজন মানুষকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয় এরপর সে নিজের মাংস নিজেই কেটে খায় হেরে যাওয়ার শাস্তি হিসেবে।

নিশিমিয়া যে একজন প্রেত সাধক সে ভাল হতে চায়, এজন্যে উপমহাদেশের প্রেতিনি “নেতা” যে কিনা মনষার বোন তাকে এই বইয়ে আনা হয়েছে এবং আনা হয়েছে খ্রিষ্টান ও মুসলমান ধর্মের উল্লেখ্য “শয়তান” এর সমপর্যায়ের “খারু” কে। আনা হয়েছে “মাহারু” বা মার যে বৌদ্ধ ধর্মে উল্লেখ্য শয়তান। ঘটনার মাঝে একেবারে আধুনিক একটি চরিত্র ডা নিতিন যে এসব বিশ্বাস করেনা এবং তার সাম্নেই নিশিমিয়াকে দাঁড় করানো হয়েছে। আনা হয়েছে “ওলা বিবি” কে, আনা হয়েছে এমন নানারকম প্রেত শক্তি যাদের উপমহাদেশ প্রাচীন কাল থেকে চেনে, আনা হয়েছে এমন নানারকম প্রেত শক্তি যাদের উপমহাদেশ প্রাচীন কাল থেকে চেনে।

নিশিমিয়া বইটি মূলত প্রথম তিন বই এ বিস্তৃত। ডা নিতিন হল প্রথম বই এর সেই ছোট্ট নিতিন, যার খালু মারা যায় আর নিশি মিয়া নিজের শরীরের মাংস খায় এবং দু নম্বর বই এ নিশিমিয়া মাহারুর কবরে পরে যায় , মাহারু নিশিমিয়াকে পালটে দেয় এবং নিশিমিয়া অনেকটা হাল্কের মত শক্তিশালী এক পশুতে পরিণত হয়। এখানে আসে জুব্বুলু নামের এক চরিত্র যে রামায়নে উল্লেখিত ভালুক রাজা জাম্বুবানের ভাই এবং সব মিলিয়ে নিশিমিয়াকে মূলত কাবু করে ফেলে। নিশিমিয়া ভাল হতে চেষ্টা করে এবং শেষে মেষ মৃত্যুবরণ করে।

received_m_mid_1461947851427_8f5a64649eabaf8411_1

এই নিশি মিয়া লিখতে যেয়ে রাজীব চৌধুরী কে ঘুরতে হয়েছে বরিশাল, কুমিল্লা,চট্টগ্রাম, বান্দরবান সহ নানা অঞ্চল. নানা ধরনের প্রেত সাধকের কাছ থেকে নিতে হয়েছে তথ্য। পড়তে হয়েছে অনেক প্রাচীন বই, কুফুরি কালাম থেকে শুরু করে তাবিজ কবজের বই পর্যন্ত।তিনি বলেন যারা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছিল তাদের জন্যে “আধোচক্র” বেশ ধাক্কা নিয়েই উপস্থিত হয়েছিল এবং অনেকেই এর পজিটিভ রিভিউ দিয়েছে। বলতে গেলে আমাকে নিজের পাঠক তৈরি করতে হচ্ছে , আমি হালের জনপ্রিয় লেখকদের মত লিখিনা বলে পাঠক শ্রেণী পুরো আলাদা এবং সেখানে আমার বই কেন পড়বে যদি ভাল না হয়?

এজন্যে যুদ্ধটা যতটা না নিজের সাথে ততবেশি পূর্বজন দের সাথে। অগ্রজ লেখকদের সাথে। আমি সস্থা জনপ্রিয়তার দিকে না তাকিয়ে নিজের মত করেই লিখে চলেছি। নিশি মিয়া র দুটো বই প্রকাশিত হয়েছে এবং তিন নম্বর বই এ চলমান গল্প শেষ হবে।

IMG_20160429_224535

 

এই মুহুর্তে কিছু অনুবাদের কাজ করছেন। অনুবাদ করছেন সদ্য নোবেল পাওয়া সভেতলানা এলেক্সিভিচ এর বই “ভয়েসেস ফ্রম চেরনোবিল” যা শিঘ্রই প্রকাশিত হবে।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.