পটিয়ার জনসভায় ৪১ উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

Tuesday,20 March 2018

ctgbarta24.com

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । ফাইল ছবি

আগামী বুধবার পটিয়ার জনসভায় বৃহত্তর চট্টগ্রামের ৪১ উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর এবং উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিন জেলার পটিয়ায় আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি।

চট্টগ্রামের ৪১ উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য  হল,  ফ্লাইওভার, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুন:খনন প্রকল্প, কর্ণফুলী নদী খনন, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স, সেতু-সড়ক বিভিন্ন প্রকল্প। যার বাস্তবায়ন ব্যয় অন্তত কয়েক হাজার কোটি টাকা।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাবিবুর রহমানবলেন, বিভিন্ন সরকারি দফতর থেকে আমরা তাদের ভিত্তিফলক উন্মোচন ও উদ্বোধনযোগ্য প্রকল্পের তালিকা চেয়েছিলাম। তাদের তথ্য অনুযায়ী ৪২টি প্রকল্পের একটি তালিকা তৈরি করি। এর মধ্যে ৪১টি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থলে এসব প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং উদ্বোধন করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের তালিকায় আছে আক্তারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার, চট্টগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স, বোয়ালখালীর মিলিটারিপুল, পটিয়ার খোদারহাট সেতু, ফটিকছড়িতে নাজিরহাটমাইজভান্ডার সড়ক, পটিয়ায় শেখ রাসেল ভাস্কর্য ও মঞ্চএছাড়া সাতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্মিত আইসিটি সুবিধাসহ পাঁচতলা একাডেমিক ভবনও উদ্বোধণকরবেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, নগরীর বাংলাদেশ মহিলা সমিতি স্কুল এন্ড কলেজ ও হাজেরা তজু ডিগ্রী কলেজ, পটিয়ায় মীর খলিল ডিগ্রী কলেজ, বাঁশখালীতে পশ্চিম বাকলিয়া উপকূলীয় ডিগ্রী কলেজ, রাঙ্গুনিয়া মহিলা কলেজ এবং মিরসরাইয়ে প্রফেসর কামাল উদ্দীন চৌধুরী কলেজ।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনযোগ্য প্রকল্পের তালিকায় আছে চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার থেকে বিমান বন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী নদীর তীর ধরে সড়ক নির্মাণ, চট্টগ্রাম শহরের খাল পুন:খনন ও সংস্কার। এসব প্রকল্প চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করছে।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ায় ডলু নদীর তীর সংরক্ষণ নামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

আটটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হবে। এগুলো হচ্ছে নগরীর অনন্যা ও কল্পলোক আবাসিক এলাকা, মইজ্যারটেক, রহমতগঞ্জ, এফআইডিসি কালুরঘাট, অক্সিজেন, ক্ট্টালী ও মনসুরাবাদ ৩৩/১১ কেভি নতুন জিআইএস উপকেন্দ্র।

পটিয়ায় কালারপোল সেতু নির্মাণ, কেরাণীহাট-সাতকানিয়া-গুণাগরী মহাসড়ক প্রশস্তকরণ এবং পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালীটইটং আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন। দোহাজারী সড়ক বিভাগ এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

ভিত্তিপ্রস্তরের তালিকায় থাকা মিরসরাই উপজেলায় বড়তাকিয়া থেকে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল সংযোগ সড়ক নির্মাণ, বারৈয়ারহাট-হোঁয়াকো-নারায়ণহাট-ফটিকছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন, পটিয়ায় শ্রীমাই খালের উপর সেতু নির্মাণ ফটিকিছড়িতে মন্দাকিনী খালের উপর সেতু নির্মাণ, পটিয়ায় পিটিআই ভবন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে  সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন সীতাকুণ্ড টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে পাঁচতলা ভবন, চট্টগ্রাম সরকারী মহিলা কলেজে ছাত্রীনিবাস এবং পোস্তারপাড় আছমা খাতুন সিটি করপোরেশন মহিলা কলেজ ও আগ্রাবাদ মহিলা কলেজে পাঁচতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ।

চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউটে সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স স্থাপনের প্রকল্পও আছে ভিত্তিপ্রস্তরের তালিকায় বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগ।

পটিয়ায় পৌর মাল্টিপারপাস কিচেন মার্কেট নির্মাণ এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হাটিকালচার নির্মাণেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদবলেন, চট্টগ্রামবাসীর অনেক দাবি না চাইতেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পূরণ করে দিয়েছেন। চট্টগ্রামবাসী প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।

সব আছে, নেই শুধু কালুরঘাট সেতু

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর উপর রেললাইনসহ একটি সড়ক সেতু নির্মাণে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ। দাবির সমর্থনে মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ, প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচিও পালিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতারাও এই দাবিতে একাট্টা।কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে ভিত্তিপ্রস্তরের তালিকায় থাকা ২৮ প্রকল্পে নেই কালুরঘাট সেতু।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কাছে ভিত্তিপ্রস্তর হতে পারে এমন প্রকল্পের তালিকা চাওয়া হয়েছিল।সোমবার বিকেল পর্যন্ত রেলওয়ে কোন তালিকা দিতে পারেনি। এজন্য তালিকায় কালুরঘাট সেতুর স্থান হয়নি।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী সারাবাংলাকে বলেন, কালুরঘাট সেতুরকাজ অনেকটাই এগিয়েছ।

দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান অর্থ দিচ্ছে। ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ চলছে। কনসালটেন্ট নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। মাননীয়প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন না হলেও চেষ্টা থাকবে যাতে তিনি এই সেতুর ঘোষণাটা অন্ত:ত দেন।

সূত্র ঃ সারাবাংলা

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.