ফাইন টিউনড ইউনিভার্স

আরিফুজ্জামান সুমন  । সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

ফাইন টিউনড ইউনিভার্স

ফাইন টিউনড ইউনিভার্স

#ফাইন_টিউনড_ইউনিভার্স
#থিয়েষ্ট_বনাম_এথিয়েষ্ট

জোনাস এবং ইগোর আমার অফিস মেট পুরো মাষ্টার্স এবং পিএইচডি এর সময়টাতে। প্রথম দু সপ্তাহেই আমরা জেনে গেলাম জোনাস কানাডিয়ান ক্রিশ্চিয়ান (থিয়েষ্ট), আমি বাংলাদেশী মুসলিম (থিয়েষ্ট) এবং ইগোর রাশিয়ান ক্রিশ্চিয়ান (এথিয়েষ্ট)। কিছু দিনের ভিতর আমি আর জোনাস আলোচনা করা শুরু করলাম ট্রিনিটি বনাম আল্লাহ, জিসাস কি আসলেই মারা গিয়ে জন্মেছিলেন কিনা বা মুহাম্মদ (সঃ) কি আসলেই আল্লাহ প্রেরিত নবী কিনা অথবা গসিপলে বা কুরআনে আসলেই কোন ইনকনসিসটেন্সি আছে কিনা এগুলো নিয়ে। ইগোর শুধু শুনতো। আস্তে আস্তে সে আমদের দুজনকেই ল্যাং মারা শুরু করলো। আমি আর জোনাস এক সাথে ওর সাথে আলোচনা করি সৃষ্টিকর্তা এক্সিস্ট করে না করেনা এবং বাইবেল বা কুরআন দুটাই ম্যান মেইড কিনা। আমি আর জোনাস মিলেও বেশীর ভাগ সময়েই ইগোরের সাথে পারতাম না। ওর মতো ট্যালেন্টেড পারসন আমি খুব কম দেখেছি। যার ওই বয়সেই ডঃ লওরেন্স ক্রাউস, ডঃ উইলিয়াম লেন ক্রেইগ ভাজা ভাজা তার সাথে পেরে ওঠা খুব কঠিন। জোনাস এখন কানাডাতেই একটা ইউনিভার্সিটির এসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে আছে, আর ইগোর ইউএসএ তে এমন একটা ইউনিভার্সিটিতে প্রিন্সিপাল রিসার্চ সায়েন্টিষ্ট হিসেবে আছে যেখানে দুনিয়ার সবাই শুধু স্বপ্ন দেখে ঢোকার কিন্তু পুরোন হয় মাত্র হাতে গোনা কয়েকজনের। আমরা একবার রিইউনিয়ন করেছিলাম। আমাদের আরও একটা মিল আছে। আমাদের তিন জনেরই প্রথম বাচ্চাটা মেয়ে।

আজকের টপিকসটা ওই চমৎকার আলোচনার একটা ছোট্ট ব্যাপার নিয়ে। তখন তো মনে করেন স্টুডেন্ট ছিলাম তাই অনেক কিছু ঘেটে ঘেটে ইগোরকে দেখাতাম আমরা। এখন তো আর সেই যৌবনও নাই আর কোন আলোচনাতেও যাচ্ছি না। তাই সেই ফোল্ডারটা বের করে, কয়েকটা সাইট ঘেটে সেগুলো একসাথে করে একটা জগা খিচুড়ি লেখা দিলাম। আজকের বিষয় হলো ফাইন টিউনড ইউনিভার্স। এটা একটু ইন্টারেষ্টিং। যিনি সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করেন তিনি পড়েন আর যিনি করেননা তিনিও পড়েন। আর যিনি মাঝামাঝি বা বাইরে, উনি তো পড়বেনই। হে হে হে। তারপর যত ইচ্ছা মারামারি করেন। দেখেন কে জিতে।

“ফাইন টিউনড ইউনিভার্স সিমুলেশন”

আমি যখন প্রথম কসমোলজী নিয়ে একটু আধটু ঘাটাঘাটি শুরু করি তখন একটা জিনিষ খুব দেখতাম সেটা হলো মানুষ কিভাবে এই ইউনিভার্সের সিমুলেশন করে। মানে আমরা যে ইউনিভার্সটা দেখি কিনবা জানি এটার প্রিসাইস সিমুলেশন করা যায়। এই সিমুলেশনটা বিগ ব্যাং থেকে শুরু করে এই সময় পর্যন্ত কিভাবে কোথায় কোন গালাক্স্যীটা কখন ফর্ম করেছে, কোন গালাক্স্যীটা ধ্বংশ হয়ে গিয়েছে, কিভাবে স্টার গুলো ফর্ম করা শুরু করে এগুলো দেখায়। অদ্ভুত সুন্দর। এই সিমুলেশন করতে হলে কিছু ইনিটিয়াল প্যারামিটার ইনপুট হিসেবে দিয়ে দিতে হয়। কিছু ফিজিক্যাল ল ডিফাইন করে দিতে হয়। তাহলেই এই ১৩.৭ বিলিয়ন বছরের সময়ের সাথে সাথে এক সময় আমাদের পৃথিবীকে দেখানো শুরু করে। এই যে কিছু প্যারামিটার ইনপুট হিসেবে দিলেন এগুলোকে বলে ফিজিক্যাল কন্সট্যান্ট। প্যারামিটার বলতে যেমন মনে করেন গ্রাভিটেশনাল কন্সট্যান্ট বা ইলেকট্রনের ম্যাস ইত্যাদি। তো একটু ভাবেন, এই ইলেকট্রনের ভ্যালু মনে করেন ১ আর এটা তো একটা স্পেসিফিক ভ্যালু। এটা আপনাকে কে বলে দিলো বা কোথায় পেলেন? আবার আপনি যদি এই ভ্যালুটা ১ না দিয়ে ১.০০০০০০০০১ দেন তাহলে আর সিমুলেশন রান করলে এখন যেই ইউনিভার্সটা হবার কথা সেটা দেখাবে না। অন্য রকম একটা ইউনিভার্স দেখাবে। অন্য রকম বলতে মনে করেন সৌর জগত বলে হয়তো কিছু নেই অথবা পৃথিবী জাস্ট ঘুরে বেড়াচ্ছে রেনডমলী। কিন্তু এভাবে হলে তো জীবন বা প্রানি বলে কিছু থাকতে পারবে না। এই যে বিগ ব্যাং এর সময় এই প্যারামিটার গুলোর এতো ফাইন টিউনড একটা সিচুয়েশন যার কারনে এই ইউনিভার্সটা পাওয়া সেই শুরুর ইউনিভার্সটাকেই আপনি বলতে পারেন ফাইন টিউনড ইউনিভার্স। অন্যভাবে বললে, সেই সময়ে এই সমস্ত ফিজিক্যাল কন্সট্যান্ট গুলোর ঠিক যেই ভ্যালু দরকার ছিল একদম ঠিক ঠিক সেই ভ্যালুটাই ছিল। আর এভাবে থাকার কারনেই আজকের পৃথিবী এবং প্রানের জন্ম।

“ফাইন টিউনড উদাহরন”

এখন কয়েকটা উদাহরন দেখি কেন আমরা ফাইন টিউনড বলছি। যেমন ধরেন, এর আগের লেখায় আমি যে ৪ টা ফান্ডামেন্টাল ফোর্সের কথা বলেছিলাম সেগুলো। এই ফোর্সের ভ্যালু গুলো যদি স্লাইটলী এদিক কিনবা ওদিক হতো তাহলে কোন লাইফ ফর্ম করতো না। উদাহরন দিলে বুঝবেন। ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফোর্সটা মেইন কাজ হচ্ছে মনে করেন ক্যামিক্যাল বন্ডিং করা, মলিকিউল ফর্ম করা এবং আমাদের ডিএনএ তো এই বন্ডিং এর কারনেই হয় এবং একটা ছোট্ট মানুষ পেটের ভিতরে বাড়তে থাকে। যদি ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফোর্সটা না থাকতো তাহলে এই বন্ডিং কখনই ঘটতো না এবং কোন প্রানের জন্মও হতোনা।

বিগ ব্যাং যখন ঘটেছিল তখন কিন্তু কোন ম্যাটার ছিল না। সব হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে ভরা ছিল। এই হিলিয়াম থেকে আস্তে আস্তে কার্বন প্রডিউস হয় যেটাকে বলা হয় আমাদের জীবন ধারনের মুল উপাদান। এখন এই কার্বন ফর্ম করতে হলে স্ট্রং এবং ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফোর্সের একটা প্রিসাইস কম্বিনেশন দরকার হয়। অর্থাৎ, যদি এই কম্বিনেশনটা না থাকতো তবে কার্বন ফর্ম করতো না এবং আমরা যেই পৃথিবীকে জানি যেখানে প্রানের অস্তিত্ব আছে সেটা কখনই হতো না। একটুও যদি কম বা বেশী হতো তাহলে এই পৃথিবীটা আর বসবাসের যোগ্য হতো না।

নেচার বা ইউনিভার্সের ল গুলোর কথা ভাবেন। গ্রাভিটী তো একটা ল। এটার মুল কথা হলো যদি কোন অবজেক্টের ম্যাস থাকে তাহলে সে গ্রাভিটী ক্রিয়েট করবে এবং আসে পাশের অন্য অবজেক্ট গুলোকে নিজের দিকে টানতে শুরু করবে। এইবার ভাবেন বিগ ব্যাং এর সিচুয়েশন। যদি এই ল টা না থাকতো বা গ্রাভিটেশনাল কন্সট্যান্টের ভ্যালু একটু অন্য রকম হতো তাহলে কোন স্টার বা গালাক্স্যী বিগ ব্যাং এর পরে ফর্ম করতো না কারন কোন ম্যাটার তো কাউকে নিজের দিকে টানতো না। আর টানলেও যদি একটু বেশী বা কম হতো তাহলে হয় সবাই সবাইকে বেশী জোরে টানত বা কম জোরে টানত। ফলাফল দেখা যেতো একটা ইউনিভার্স যেখানে সবাই রেনডমলী ঘুরে বেড়াচ্ছে বা একজন আর একজনের সাথে ধাক্কা লেগে ধংশ হয়ে যাচ্ছে। সেটা কি হয়?

এরকম আরও অনেক উদাহরন আছে। আমি আর উদাহরণের ভিতর দিয়ে গেলাম না কারন আমি মনে করি এটা বোঝান সম্ভব হয়েছে যে কিছু কিছু জিনিষের ভ্যালু একটু এদিক ওদিক হলেই আসলে আর এই ইউনিভার্স এমন হতো না।

“আমি এবং জোনাস – থিয়েস্ট লজিক”

উপরে যেগুলো বললাম এটা হলো যারা থিয়েস্ট তাদের লজিক যে এই ফাইন টিউন ব্যাপারটা একমাত্র সৃষ্টি কর্তা থাকলেই সম্ভব। টিপিক্যালী তাদের লজিক এভাবে যায়

১। এই যে প্যারামিটার গুলোর একটা বাউন্ডারী কন্ডিশন এবং ফিজিক্‌স এর ল এটা এগুলো এভাবে না হলে কার্বন বেইসড লাইফ কোথাও অবশ্যই ফর্ম করতো না

২। এবং এই ইউনিভার্স কার্বন বেইসড লাইফ দিয়েই গঠিত।

এই কারনে আরগুমেন্টটা এভাবে দাড় করানো যায় যে

৩। যেই ইউনিভার্সটা দেখছি সেটা ঠিক হঠাৎ করে যদি এসেও থাকে সেটা কেউ একজন ঘটিয়েছে। এখন এটা একটা সার্কুলার লজিক হতে পারে কারন আমি বলতে পারি অন্য কোন ইন্টেলিজেন্ট প্রানী হয়তো এটা তৈরী করেছে। এটাও ঠিক আছে কিন্তু সেই প্রানী কে তৈরী করেছে? এভাবে যদি আমরা শুরুর সময়ে যাই তাহলে দেখবো একজন সৃষ্টিকর্তা আছে যিনি এই সব কিছু শুরু করেছেন।

তাই যেটা দাড়াল সেটা হলো সৃষ্টিকর্তা বলে কেউ একজন অবশ্যই আছে।

“ইগোর – এথিয়েস্ট লজিক”

এই আরগুমেন্টটা যারা থিয়েস্ট তাদের খুব প্রিয় এবং এটা বেশ শক্ত একটা আরগুমেন্ট যদি খেয়াল করেন। কারন এটা যে ঠিক না সেটা প্রমান করা কিন্তু বেশ কষ্টের। এভাবে ভাবতে পারেন। ধরেন একটা স্কুল আছে। একজন থিয়েস্ট একটা স্কুল ছুটির পর বললো যে স্কুল তালা মারা যাবেনা কারন স্কুলের ভিতরে সে একটা বাচ্চা দেখেছে। তার জন্য এটা বলা সহজ। সে হয়তো দেখেছে বা দেখেনি। হয়তো বাচ্চাটা আগেই বেড়িয়ে গেছে। অথবা সে হয়তো কারো কাছ থেকে শুনেছে বা সে এটা বিশ্বাস করে। কিন্তু আর একজন যিনি এথিয়েস্ট, উনি যদি প্রমান করতে চান যে স্কুলের ভিতরে আসলে কোন বাচ্চা নেই তাহলে কিন্তু ওনাকে প্রচণ্ড পরিশ্রম করতে হবে। স্কুলের সবগুলো ক্লাস তো খুজতেই হবে এমনকি বাথরুম, লকার রুম পর্যন্ত সব দেখতে হবে। কারন এথিয়েস্ট যদি সব না দেখে এসে তাহলে থিয়েস্ট বলতে থাকতেই পারে যে “না, আমি জানি বাচ্চাটা স্কুলের ভিতরে আছে”। তো এখন এটা ইউনিভার্সের ক্ষেত্রে অ্যাপ্লাই করেন। আমাদের জ্ঞান বিজ্ঞান তো এতো দূর এখনও যায়নি যে কেউ প্রতিটা গালাক্স্যী সার্চ করে বলতে পারবে যে সৃষ্টিকর্তাকে কোথাও পাওয়া যায়নি বা তার কোথাও কোন প্রমান নেই কারন সব তো খুজে এখনও দেখা হয়নি। তাই এথিয়েস্টদের জন্য সৃষ্টিকর্তা যে নেই এটা প্রমান করতে একটু কষ্ট হয়ে যায় এবং তাদের খুব প্রিসাইস লজিক দিতে হয় জিততে হলে। মানে আবার এই রকম না যে মারামারি করে। পরস্পরের প্রতি রেসপেক্ট রেখে একটা একাডেমিক সেটিং এ ষ্কলারী ডিসকাশন আর কি। যেটা সভ্য মানুষের কাজ।

এখন আগে যেমন বলেছি, এথিয়েস্টদের জন্য কোন কিছু প্রমান করতে হলে খুব কঠিন জিনিশের ভিতর দিয়ে যেতে হয়। এই কারনে, এটার কোন শর্ট কাট নেই। আমি চেষ্টা করেছি নীচে যত সহজ ভাবে বলা যায় কিন্তু এর চেয়ে সহজ ভাবে কীভাবে বলতে হয় আমার জানা নেই।

১ এবং ২ নাম্বার আরগুমেন্ট থেকে আসলে ৩ নাম্বার কনক্লুশন আপনি ড্র করেন। এখন এই ১ এবং ২ নাম্বার বেসিক্যালী বলছে যে যদি ভ্যালু গুলো একটু অন্য রকম হতো তাহলে ইউনিভার্স এক্সিষ্ট করতো না। খেয়াল করেন এটা থিয়েস্টরা বলছেনা তারা কোন প্লাটফর্মে এগুলো বলছে। অর্থাৎ এটা কি একটা লজিক্যাল না কনসেপচুয়াল না ফিজিক্যাল পসিবিলিটি? খেয়াল করলে দেখবেন এটা আসলে একটা লজিক্যাল পসিবিলিটি হবার সম্ভবনা বেশী কারন এই ভ্যালু গুলো তো যে কোন একটা নাম্বারই নিতে পারত। তা নেয়নি। তাই লজিক্যাল ধরে আগানোই সবচেয়ে প্রমিসিং অপশন। আমরা সেই কারনে এটাতেই ফোকাস করি।

আমি কোন ডিটেইল সেট বা প্রব্যাবিলিটী থিউরী তে যাবনা কারন ওতো দূরে যাবার দরকার নাই আমাদের কিন্তু ছোট্ট একটা লজিক দিয়েই আসলে একটা শক্ত ডিফেন্ড দেয়া যায়। আমি চেষ্টা করবো খুব সহজে এটা লেখার জন্য যাতে আমার আবছা আইডিয়াটা আপনিও পেতে পারেন। মনে করেন কার্বন বেইসড লাইফ ফর্ম করতে হলে স্ট্রং ফোর্সের (যেটাকে রিপ্রেজেন্ট করলাম K বলে) ভ্যালু হতে হবে X। এখন এই X এর একটা খুব ন্যারো রেন্জ আছে। খুবই ন্যারো। ধরেন এই X এর ভ্যালুর একটা বাউন্ডারী কন্ডিশন আছে এই দুটো হলো (X-Y, X+Z)। এখানে Y এবং Z হলো খুব খুব ছোট দুটো নাম্বার এবং X মুলত স্ট্রং ফোর্সের যে ভ্যালু K তার সমান। কোয়ান্টিফাই করতে চাইলে এভাবে ভাবতে পারেন। এই X এর ভ্যালুটা থাকবে ৪.৯ থেকে ৫.১ এর ভিতরে কোন একটা নাম্বার। এখন খুব স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন হচ্ছে এখানে আপনি ধরেই নিয়েছেন যে K এর ভ্যালু এর ভিতর অবশ্যই আছে। এখন K এর ভ্যালুতো ০ থেকে ইনফিনিটির ভিতর যে কোন একটা হতেই পারত। তাহলে এটা অবশ্যই এই বাউন্ডারী কন্ডিশনের ভিতর কোন ভাবেই থাকতো না। তাই লজিক্যালি K এই বাউন্ডারীর ভিতরে থাকার প্রব্যাবিলিটী খুব কম। এবং যেহেতু আমাদের জানা নেই কেন K = X হবে, তাই সমস্ত K এর ভ্যালুকে একুয়্যালি লাইকলি ধরা যায়, অর্থাৎ এটা আমাদের এই K এর প্রব্যাবিলিটী যে খুব কম এটা ভ্যালিড প্রমান করে। এখন কেউ যদি ডিজাইনার হয় তাহলে তার প্রতিটা কাজের শুরুতেই একটা শক্ত লজিক থাকবে যেটা দিয়ে সে ডিজাইন ভ্যালিড করবে। এখানে তো কোন লজিকই কাজ করেনি। এখানে জাস্ট আপনার মনে হয়েছে এটাই ঠিক এবং এটাই কাজ করছে। তাহলে আপনি কিভাবে বলেন যে সৃষ্টিকর্তা বলে কেউ আছেন এবং উনি আমাদের এই লজিক বের করার বুদ্ধি দিয়েছেন। কারন আপনার লজিকটাই একটা ফলস প্রব্যাবিলিটীর উপরে দাঁড়ানো। তাহলে কি সৃষ্টিকর্তা এক্সিষ্ট করতে পারে বা এই ইউনিভার্স কি আসলেই কেউ ক্রিয়েট করেছে না এটা বিশ্বাস করা উচিত। এটা আসলে আর একটু গেলে আরও ভালো করে প্রমান করা যায় যে K এর ভ্যালু এই বাউন্ডারীর ভিতর থাকার প্রব্যাবিলিটী হচ্ছে জিরো। সো এই ফাইন টিউন আরগুমেন্ট যেটা বলা হচ্ছে সেটা মোস্ট লজিক্যালী সত্যি না এমনকি এটাকে ইম্পসিবল ও বলা যায়।

“আমি এবং আমার মেয়ে বনাম থিয়েস্ট এবং এথিয়েস্ট জীবন”

আমার মেয়ের কিছু চ্যালেন্জ আছে যেটা তার এই ছোট্ট শরীরটাতে বয়ে বেড়াতে হয় এবং হবে। সময়ের সাথে সাথে ভালো হবে কিন্তু একটা রেশ থেকেই যাবে বলে আমার ধারনা। এক সময় সৃষ্টিকর্তার উপরে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলাম। তারপর আবার ফিরে আসলো আস্তে আস্তে কারন আরও তো খারাপ হতে পারত। কতো সুবিধা বঞ্চিত শিশু আরও কতো খারাপ অবস্থায় থাকে। তাই যার যা বিশ্বাস তা নিয়ে থাকুক আমি শুধু সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ থাকব আমাকে বন্ধুর মতো একটা মানুষকে পাশে পাইয়ে দেবার জন্য। আমি শুধু খুশী থাকব কারন সৃষ্টিকর্তা আমাকে আমার মেয়ের হাত ধরে হাটার মতো আনন্দ পাবার সুযোগ করে দিয়েছেন। ভালো থাকবেন সবাই।

 

লেখক: মোঃ আরিফুজ্জামান (সুমন) পেশায় একজন প্রকৌশলী এবং অবসর সময়ে ফিজিক্যাল কসমোলজী নিয়ে পড়তে ভালবাসেন। সুবিধাবঞ্চিত শিশু এবং গর্ভবতী মায়েদের অধিকার আদায়ে যুক্ত থাকতে পছন্দ করেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


CAPTCHA Image
Reload Image