ব্রেকিং নিউজ:
Search

বঙ্গবন্ধু বনাম শেখ হাসিনা: রিভার্স গেইমারের টার্গেট?

জহিরুল হক বাপ্পি  ।  সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

বঙ্গবন্ধু বনাম শেখ হাসিনা: রিভার্স গেইমারের টার্গেট?

জহিরুল হক বাপ্পি

এখন আন্তরিক ভাবেই চাই শুধূ ভর্তি পরীক্ষা বা এস.এস.সি, এইচ.এইচ.সি না সকল শ্রেণীর প্রশ্নপত্র ফাঁস হোক। ফাঁস হোক। ফাঁস হোক। এতে সুবিধা, পোলাপাইন পড়ালেখা কম করবে। বাপ-মাও একটু কম মনোযোগী হবে পুলাপাইনের বিষয়ে। শুধূ পরীক্ষার আগে ব্যাস্ত ও সফল ভাবে প্রশ্ন যোগাড় করতে হবে। কু-শিক্ষা, অশিক্ষা, বিকৃত কবিতা, বিকৃতি ইতিহাস, কৌশলী সাম্প্রদায়িক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে না এটা সুবিধা। এর চেয়ে খেলাধূলা করবে, কম্পিউটারে সময় বেশি দিবে, পুকুরে-নদীতে সাঁতরাবে, পাখির বাসা খুজে বেড়াবে, হাস মুরগী, কুকুর বিলাই নিয়ে খেলা করবে, এতে শরীর ভালো থাকবে, জীবনের জন্য, মানুষের জন্য মমতা বাড়বে, প্রকৃতির জন্য ভালোবাসা বাড়বে, টেকনোলজীর সাথে পরিচিত হবে।

আমরা বাঙালিরা কি আবার পরাস্ত হতে চলেছি। অথবা নতুন আরেক ষড়যন্ত্রের মূখোমূখী এ সরল জাতি?! এ সূক্ষ কৌশল ধরার মত গরলতা এ জাতির নেই। আমাদের সাংস্কৃতিক বিকাশ বন্ধ ছিল বিএনপি-জামাত আমলে। সেটা চলছে না। আমাদের একাডেমীক শিক্ষাতো সেই ৭৫ থেকেই বাঙালিয়ানার বিপরীত। সেই শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আমরা বাঙালিরা এখন বাংলাদেশী হয়ে গেছি। ২০১৬ এর ক্যারিকুলাম আমাদের কোন দিকে নিয়ে যাবে তা কৌশলী জয়ী কালো মাকড়সারাই জানে। তাদের জাল এখন পর্যন্ত ভালো কাজ দিয়েছে।

হুমায়ুন আজাদের “আদর্শ ছেলে” চমৎকার শিক্ষনীয় কবিতা। এখানে ধর্মীয় কোন বিষয়ই নেই। কবিতাটি বাদ দেওয়া হয়েছে। আহা! তৃতীয় শ্রেণীর পাঠ্য বইয়ে কবি জীবনান্দ দাশের জননী কবি কুসুমকুমারী দাশের বিখ্যাত “আদর্শ ছেলে” কবিতাটির প্রথম লাইনই বিকৃত করে হয়েছে। আবার এডিটও করা হয়েছে শেষ দিকের কয়টি লাইন ।

শেষের দিকের কয়টি বাক্য ফেলে দিয়ে একেবারে শেষ দুই লাইন আবার রাখা হয়েছে। কবিতাটি দীর্ঘ নয়। কোন দরকারই ছিল না, কিছু লাইন ফেলে দেওয়ার।  তার সাথে কবিতার মাঝখানে কয়েকটি শব্দও পরিবর্তন করা হয়েছে। যাইহোক দেশের লক্ষ্য লক্ষ্য তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী সারা জীবনের জন্য একটি ভুল কবিতা শিখবে। অবশ্য এতে একটা সুবিধাও আছে, হয়তো বা শিক্ষা বিভাগ ইচ্ছাকৃত ভাবেই কাজটি করেছে। এখন ভুলের দোহাই দিয়ে কবিতাটি পড়ানো সহজেই বন্ধ করে দেওয়া যাবে। মালাউন কবির কবিতা কেন মুসলমান বাংলাদেশে পড়ানো হবে?!

আলাদা কাটি-গুটি করে সেটা পড়ানো বন্ধ করার দরকার নাই এখন আর। প্রিন্টিং মিসটেক। গত বই মেলায় একটি সংগঠন মেলায় হিন্দু তথা মালাউনদের বই মেলায় নিষিদ্ধের দাবী জানিয়ে ছিল। এটা ছিল আমার ভাবনা! কিন্তু ভুল ভাঙ্গলো কর্তাদের বয়ান শুনে। এটি বাংলা একাডেমীর সাথে আলোচনা করে শিক্ষা বিভাগ করেছে। বাহ। বাহ। অসভ্যতা, অর্বাচীনতা, অহম, স্বেচ্ছাচারিতার এত বড় উদাহরণ একসাথে কমই পাওয়া যায়। বিষয়টা বেআইনিও বটে! ইন্টেলেকচ্যুয়েল কপিরাইট বলে একটি আইন আছে। একজন কবির সাথে আলোচনা না করে তার লেখা কখনও পরিবর্তন করা যায় না। তারপর দেহত্যাগ করা অমর কবি। কি ভাবে সম্ভব?!

“আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে হবে”

এটা এখন আর কবিতা নেই, শ্লোক হয়ে গেছে। অমর কাব্যগাঁথা। অমর সব হয় না। হয় গুটি কয়েক। সেই লাইনগুলো পরিবর্তণ করার কথা কি ভাবে চিন্তা করা যায়?!!

অবশ্য পাকিস্তান এবং জিয়ার আমলে এমন কিছু বিষয় আছে। সুদূর প্রসারি ফল, যা এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি। তখন নজরুলের অনেক কবিতার শব্দ পরিবর্তন করা হয়েছে ইসলামি ভাব আনার জন্য। এবার ভিন্ন একটা দিকে নজর দিয়ে আবার পুরানো প্রসঙ্গে আসছি। গণজাগরণের প্রথম দিকে নাস্তিক আখ্যা দিয়ে ব্লগার হত্যা শুরু হলো। বিষয়টাকে এক ধরনের সাবলীল, জনগনকে অভ্যস্ত করার পর একে একে লেখক, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, প্রকাশক, থেকে এম.পিকে পর্যন্ত খুন করলো ক’দিন আগে। সাইকোলজিক্যাল গেইম।

জনগন এ নিয়ে মাথা ঘামাবে না অভ্যস্ততার কারণে, যাদেরকে নিকাশ করা দরকার তারা নিকাশ হবে, আতংকিত হবে, দেশ ছেড়ে যাবে। কৌশলটা “অভ্যস্ততা”। এবার মূল প্রসঙ্গে আসি: দুই একটি কবিতা, দুই একটি ভাব, পরিবর্তন করতে করতে এরা কি আরো বড় পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে?!!!

যে গল্পের নাম “মানুষের জন্য ভালোবাসা” সেই গল্পের নাম হবে “মুমিন ভাইয়ের জন্য ভালোবাসা”। লেখক তালিকায় এরপর কি একে একে যোগ হবে কাসেম-বিন-আবুবকর, বান্না, বিতকৃত যতকিছু? বিভ্রান্ত করার কি সূক্ষ কৌশল। এক বই ভর্তি শুধূ বিদেশী গল্পের অনুবাদ। বিদেশী গল্প বিদেশী ধরে নিলাম ইংরেজীই, তা ইংরেজীতে পোক্ত করে ইংরেজী গল্প বোঝার পরিবর্তে অনুবাদ সাহিত্যে উৎসাহ দেওয়া কেন?

“শোন মানুষ হে ভাই, সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই” লাইনটি বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের কবি চণ্ডীদাসের লেখা। এ লাইনটিও হয়তো একদিন এমন হবে “”শোন মানুষ হে ভাই, সবার উপরে মুসলাম সত্য তাহার উপরে নাই” (প্রিন্টিং মিসটেক)। তদন্ত কমিটি।

এর ভিতর কোটি শিক্ষার্থীর মগজে ঢুকে যাবে। গ্রাম, মফস্বলে শ্লোকে ঢুকে যাবে। আহা। আহা। অনলাইন, সচেতন অভিভাবক মহল ও-তে ওড়না নিয়ে সমলোচনা করছেন খুব। কে জানে কালো মাকড়সারা একদিন “হে তে হেজাব-না পরিলে আজাব” জাতীয় শিক্ষা ব্যাবস্থার দিকে যাচ্ছে।

“শিক্ষা দিয়ে গড়বো দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ”

রির্ভাস গেইমের সরল উদাহরণ যারা বুঝবে। প্রথমে চিন্তা করেন অনেকে এটি দেখে প্রধাণমন্ত্রীর প্রতি বিরক্ত হবেন । আবার আমাদের প্রচলিত শ্লোগান “বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ”।

এ ইস্যুতে এ গেইমাররা দুই এক বছরের মধ্যেই বির্তক তুলবে- আসলে দেশকার? ঐ বিরক্ত গ্রুপকে আরও বিরক্ত করে তুলবে সহজ চা দোকানের আড্ডায়। আর বইয়ের ভিতর শেখ হাসিনার নাম দেখতে দেখতে শিশুদের কাছে বঙ্গবন্ধুর নাম কিছুটা হলেও চাপা পড়বে। “জয় বাংলা” শ্লোগানকে এভাবেই চাপা দেওয়া হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু বঙ্গবন্ধুই । এমন যদি কেউ ভাবেন তারা শেখ হাসিনার প্রতি ভালোবাসা থেকে এমন করছেন। ভুল করবেন আপনারা। ভেবে দেখুন। কি চমৎকার রিভার্স গেইম। কাটা দিয়ে কাটা তোলার মতো। বাবার বিরুদ্ধে কন্যাকে দাঁড় করিয়ে দু’জনকেই চাপা দেওয়া। বাঙালিয়ানা ধ্বংসের চেষ্টা এবারের পাঠ্যসূচীতে। আবার রাজনৈতিক ভাবে একটি গ্রুপ প্রধানমন্ত্রীকে দোষী করবেন এ বিষয়ে।

কেউ কেউ প্রচার চালাবে – আওয়ামী লীগ ইসলামি করণ করছে, সব দায় শেখ হাসিনার। শেখ হাসিনা দুর্বল হওয়া মানে বর্তমানে ঘুরে বাঙালিয়ানার ফিরে যাবার চেষ্টায়রত বাঙালির দুর্বল হওয়া। সব দিক দিয়েই সেই ষড়যন্ত্রীদের লাভ।

এ বিষয়েও কি মানণীয় প্রধান মন্ত্রীর দৃষ্টি দিতে হবে?!!

বঙ্গবন্ধু বনাম শেখ হাসিনা: রিভার্স গেইমারের টার্গেট?

জহিরুল হক বাপ্পি

(জহিরুল হক বাপ্পি – ব্লগার, অনলাইন একটিভিস্ট ও মুক্ত চলচ্চিত্র নির্মাতা)




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


CAPTCHA Image
Reload Image