এই মাত্র:

বাংলাদেশের ভূপৃষ্ঠের নীচে বড় ভূমিকম্প, বিপন্ন হতে পারে ১৪ কোটি মানুষের জীবন

মাহাবুবুল করিম, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারি ২০১৭

বাংলাদেশের ভূপৃষ্ঠের নীচে সম্ভবত বড় ধরনের ভূমিকম্প দানা বাঁধছে যা বাংলাদেশ এবং ভারতের পূর্বাঞ্চলের ১৪ কোটি মানুষের জীবন বিপন্ন করে দিতে পারে৷ সাম্প্রতিক এক গবেষণা থেকে জানা গেছে এই তথ্য৷ বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত ও মিয়ানমারে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে সতর্ক করছেন গবেষকরা।

বাংলাদেশের ভূপৃষ্ঠের নীচে বড় ভূমিকম্প, বিপন্ন হতে পারে ১৪ কোটি মানুষের জীবন

বাংলাদেশের ভূপৃষ্ঠের নীচে বড় ভূমিকম্প, বিপন্ন হতে পারে ১৪ কোটি মানুষের জীবন

ভারত ও মিয়ানমার প্লেটের সংযোগ স্থলে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পূর্বাংশ মিয়ানমার প্লেটের মধ্যে, পশ্চিমাংশ ভারত প্লেটের মধ্যে। এমন ভূ-তাত্ত্বিক কাঠামোর মধ্যে ভূমিকম্প হবে এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা। ভূমিকম্প আমাদের দরজায় আঘাত হানতে শুরু করেছে।

দেশের বাইরে কাছাকাছি ও দেশের ভেতরে ভূমিকম্পের উৎস থাকায় যেকোনো সময় বাংলাদেশে ভূমিকম্প হতে পারে। আমাদের ঢাকা একটি অপরিকল্পিত ও জনবহুল নগরী। বড় ধরনের ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ঢাকার অবস্থান ভূমিকম্পের উৎস থেকে ৫০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে হলে ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক হতে পারে।

গত বছর তিনটা ভূমিকম্পের কেন্দ্র স্থল ছিল দেশের ভেতর। এর মধ্যে গত ৯ জানুয়ারি ৩ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে, এর কেন্দ্র ছিল ভৈরব বাজার। এ ছাড়া গত ৮ এপ্রিল ৪ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এর কেন্দ্র ছিল বাগেরহাটের শরণখোলা এবং ২৭ জুন সকাল ৬টা ২৭ মিনিটে মানিকছড়ি থেকে ২৭ কি:মি দূরে ১০ কিলোমিটার মাটির গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিহয়। রিখটার স্কেলে এটি ৪ দশমিক ৭ মাত্রা ছিল এর পরিমাপ।

দুপুর ৩টা ১০ মিনিট। ৩ জানুয়ারি ২০১৭। আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলাদেশ। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি জায়গায় ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। উৎপত্তিস্থল ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার লনতারাইয়ের দক্ষিণ মাছমারা এলাকায়। রিখটার স্কেলে এর পরিমাপ ছিল ৫ দশমিক ৩ মাত্রা।

ভোর ৫টা ৭ মিনিট। ৪ জানুয়ারি ২০১৬। কেঁপে উঠলো সারা বাংলাদেশ। ভূমিকম্পের রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ৬.৮ তীব্রতা দেখা যায়। ঢাকা শহরের দালানগুলো কেঁপে-উঠলো। ঢাকা শহরের অধিবাসীরা প্রায় সকলে রাস্তায় নেমে পড়েছেন। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভারতের মনিপুরে। আতঙ্কে কয়েক জনের মৃত্যু এবং বিভিন্ন স্থানে আহত হন অনেকেই। ঢাকা থেকে ৩৫২ কিলোমিটার দূরে এই উৎপত্তিস্থল ছিল। ভারতের পূর্বাঞ্চল রাজ্য মনিপুরেও হতাহত হয়েছে।

সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিট। ১৩ এপ্রিল ২০১৬। প্রতিবেশীদেশ মায়ানমারের মাটির ১৩৪ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্প হওয়ায় বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা থেকে অনেকটা বেঁচে গিয়েছে। যদি তা অন্যান্য ভূমিকম্পগুলোর মতো ৫০ থেকে ৫৪ কিলোমিটার গভীরে হতো তাহলে ব্যাপক ক্ষতি হতো। তবে অনেক গভীরে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হওয়ায় বন্দর নগরী থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরত্বে রাজধানী ঢাকাও ঝাঁকুনি খেয়েছে। কম গভীরতায় হলে এতো দূরে ঝাঁকুনি যেতো না।

বিকেল ৪টা ৩৮মিনিট। ২৪ আগস্ট ২০১৬। ঢাকাসহ সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত। এর উৎপত্তিস্থল প্রতিবেশি দেশ মিয়ানমারের ভূপৃষ্ঠ থেকে ৫৮ কিলোমিটার গভীরে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮।

বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরের একদল গবেষকের এ ধরনের গবেষণার তথ্য নেচার জিওসায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

২০০৪ সালে যে ফল্ট লাইনের ভূমিকম্পে সৃষ্ট সুনামিতে ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল, সেই একই ফল্ট লাইনে নতুন এই ভূমিকম্পের আশংকা দেখছেন গবেষকরা।

তাদের আশংকা, যেহেতু এখানে গত ৪০০ বছর ধরে শক্তি সঞ্চয় হচ্ছে, ফলে তা যে কোনো সময় রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার মতো শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প তৈরি করতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেমন ভূমিকম্প ঘটলে তা এ অঞ্চলের ১৪ কোটি মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে।

ওই প্রতিবেদনে জানায়, এখনই বাংলাদেশ বড় ভূমিকম্পে কেঁপে উঠবে এমন কথা বলা না গেলেও দুটি গতিশীল ভূগাঠনিক প্লেট পরস্পরের ওপর চেপে বসতে থাকায় সেখানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের শক্তি জমা হচ্ছে।

গবেষক দলের প্রধান নিউ ইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ববিদ মাইকেল স্টেকলার রয়টার্সকে বলেন, ওই ধরনের ভূমিকম্প কবে ঘটতে পারে, সে পূর্বাভাস আরও গবেষণা না করে দেয়া সম্ভব নয়।

ভারতের পূর্ব অংশ ও বাংলাদেশের যে অঞ্চল সম্ভাব্য সেই ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র হতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, তার ১০০ কিলোমিটার ব্যাসের মধ্যে প্রায় ১৪ কোটি মানুষের বসবাস।

বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ ও অন্যতম দরিদ্র এই অঞ্চলে এ ধরনের একটি ভূমিকম্প মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

তেমন কোনো ভূমিকম্প হলে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা ভবন, ভারী শিল্প, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং গ্যাস ক্ষেত্রগুলো ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে বলে গবেষকরা আশংকা করছেন।

গবেষক দলের অন্যতম সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার এক বিবৃতিতে বলেছেন, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় ১৯ কিলোমিটার গভীর পলি জমে বাংলাদেশের যে ভূ-খণ্ড তৈরি হয়েছে, তা সেই ভূমিকম্পের প্রভাবে জেলাটিনের মত কেঁপে উঠতে পারে এবং কিছু কিছু জায়গায় তরলে পরিণত হয়ে গ্রাস করতে পারে ইমারত, রাস্তাঘাট আর মানুষের বসতি।

তাদের গবেষণায় প্রায় ৬২ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকাকে এই ভূমিকম্পের ঝুঁকির আওতায় বলা হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী !

পৃথিবীতে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে থাকা দুইটি শহরের মধ্যে একটি হলো বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা । অর্থাৎ যে কোনো সময়েই বড় রকমের ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পের কবলে পড়তে যাচ্ছে। বলা যায় বাংলাদেশের দিকে শিগগিরই ধেয়ে আসছে প্রাণ ও সম্পদসংহারী প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প।

বিশেষজ্ঞদের মতে !

বাংলাদেশে ভূ-অভ্যন্তরে ভূ-চ্যুতির কারণে যেকোনো সময় আঘাত হানতে পারে উঁচুমাত্রার প্রবল ভূমিকম্প। ভারত ও মিয়ানমারও আছে ঠিক এরকম ঝুঁকিতে আছে। ফলে ওই দুই দেশে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে বাংলাদেশের।

বিপর্যয় এড়ানোর উপায় জরুরী !

গত দুই দশক ধরেই দেশে ভূমিকম্প ঝুঁকির বিষয়টি আলোচনা হচ্ছে। যদিও এ প্রাকৃতিক বিপর্যয় এড়ানোর কোনো উপায় নেই, তবু সঠিক প্রস্তুতির মাধ্যমে কমিয়ে আনা সম্ভব ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ কি সেই পথে আছে?

ধ্বংসস্তুুপের আশংকা !

অপরিকল্পিত নগরায়ন, ভবন নির্মাণ, জলাশয় ভরাটসহ বিভিন্ন কার্যক্রম এ ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে। যেসব ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, তার বেশিরভাগই ভূমিকম্প সহনীয় নয়। শুধু কাগজের মধ্যেই আইন সীমাবদ্ধ থাকায় এ সমস্যা আরও ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প হলে পুরো নগরই পরিণত হবে ধ্বংসস্তূপে।

ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মতে !

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ভূ-অভ্যন্তরে তিনটি বড় ধরনের ভূ-চ্যুতি রয়েছে।

বুয়েট এর গবেষণা অনুযায়ী !

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুযায়ী, এই ভূ-চ্যুতির কারণে বাংলাদেশের ৪৩ শতাংশ এলাকা উচ্চমাত্রার ঝুঁকিতে রয়েছে, যাকে বলা হচ্ছে জোন-১, ৪১ শতাংশ এলাকা; মধ্যম (জোন-২) এবং ১৬ শতাংশ এলাকা নিম্ন ঝুঁকিতে (জোন-৩) রয়েছে। জোন-১-এ রয়েছে সিলেট, ময়মনসিংহ, কুড়িগ্রামসহ কয়েকটি জেলা। জোন-২-এ পড়েছে রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় তিন শহর। খুলনা ও বরিশালের অবস্থান জোন-৩ এ।

‘ঢাকা ও চট্টগ্রামে অনেক ভবন পুকুর ও জলাশয় ভরাট করে সুউচ্চ বহুতল ভবন গড়ে তোলা হয়েছে। বড় আকারের ভূমিকম্প হলে এসব মাটির ওপর গড়ে তোলা ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর চট্টগ্রামের ভূ-অভ্যন্তরে নরম মাটির পরিমাণ বেশি থাকায় তা আরও বেশি আতঙ্কের কারণ হতে পারে।’

অধ্যাপক হুমায়ুন আকতারের মতে !

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার জানান, টাঙ্গাইলের মধুপুর চ্যুতি, সিলেটের ডাওকি চ্যুতি, সীতাকুন্ড–টেকনাফ চ্যুতি এবং উত্তর আন্দামান-টেকনাফ সাবডাকশন জোন সক্রিয় হওয়ায় ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ।

ড. মেহেদী আনসারীর মত !

চবি ভূতত্ত্ববিশেষজ্ঞ ড. মেহেদী আনসারী বলছেন, বন্দর নগরী চট্টগ্রামের পাশ দিয়ে একটি ফল্ট লাইন সিলেটের উত্তরপাশ দিয়ে শিলং হয়ে মেঘালয় পর্যন্ত বিস্তৃত। গত কয়েক বছর ধরে এই ফল্ট লাইনটি সক্রিয় এবং ২০০ থেকে ২৫০ বছরের ইতিহাসে এই অঞ্চলে একটি বড় ভূমিকম্প অপেক্ষায় রয়েছে। ১৮৯৭ সালে ৮ দশমিক ৭ রিখটার স্কেলের গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়াক এবং ১৮৫৮ সালে ৭ দশমিক ৯ রিখটার স্কেলের মায়ানমারের আরাকান ভূমিকম্পের পর এখন যে কোনো সময়ে একই মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প হতে পারে।

সিডিএমপির প্রতিবেদনে বলছে !

সরকারের সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির (সিডিএমপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকায় রাতের বেলায় ৭ থেকে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ৯০ হাজার মানুষ হতাহত হবেন। দিনের বেলায় হতাহত হবেন ৭০ হাজার। ঢাকা মহানগরে তিন লাখ ২৬ হাজার ভবনের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, এর ৭২ হাজার সম্পূর্ণ ধ্বংস হবে। ঢাকা মহানগরীর ৬৫ শতাংশ ভবন জলাশয় ভরাট করে বালুমাটির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে, যা মাত্র ৬ মাত্রার ভূমিকম্পও সহনীয় নয়। রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিমে জলাশয় ভরাট করে গড়ে ওঠা ভবনগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ গিয়ে দাড়াবে !

দেশের ১০০ থেকে ১৫০ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল হলে কী পরিমাণ ক্ষতি হতে পারত, তা কল্পনাও করা যাবে না। শুধু ঢাকায় ভূমিকম্পে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হবে। সারাদেশে ক্ষতির পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। মহাখালী ফ্লাইওভার ছাড়া আর কোনো ফ্লাইওভারই ভূমিকম্প সহনীয় নয়।

আন্তর্জাতিক ভূতত্ত্ববিদ বিশেষজ্ঞরা বলছে !

অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ভূতত্ত্ববিদ ফিল কামিনস সম্প্রতি ন্যাচার জার্নালে লিখেছেন, যেকোনো সময় বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিকম্প হতে পারে, যার উৎপত্তিস্থল হবে বঙ্গোপসাগর। এতে তিন দেশে ১০ লাখ মানুষ হতাহত হতে পারেন। ২০০৭ সালে জাতিসংঘের বুলেটিনে জানানো হয়, ইরানের রাজধানী তেহরান ও ঢাকা সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকা শহর। আসামে সর্বশেষ ১৯৫০ সালে ৮ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।

ডাওকি ফাটলের কারণে !

দেশের ভেতরে ডাওকি ফাটলের কারণে ১৮৯৭ সালে ৮ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে ভারত ও বাংলাদেশের এক হাজার ৫৪২ জন নিহত হন। এর মধ্যে ঢাকার ১০ জনসহ বাংলাদেশের মোট ৫৪২ জন ছিলেন। এর আগে ১৮৬৯ সালে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এবং ১৮৮৫ সালে মধুপুর-বগুড়া ভূ-চ্যুতিতে ৭ মাত্রার ও ১৯৩০ সালে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ১৮৮৫ সালের ভূমিকম্পেই যমুনা নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যায়।

বড় ভূমিকম্পের শঙ্কা !

১৮৯৭ সালে হাইতিতে একটি বড় মাত্রার ভূমিকম্পের পর সম্প্রতি আরো শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে। আর সেই হিসেবে মায়ানমারে ১৮৫৮ ও ১৯১২ সালে বড় মাত্রার ভূমিকম্পের পর বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে বড় মাত্রার ভূমিকম্প শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। সাধারণত ১১০ থেকে ১৩০ বছর পর পর বড় ধরনের ভূমিকম্প ঘটে। ভূকম্পনের জন্য শক্তি সঞ্চার করতে ভূ-অভ্যন্তরে সাধারণত এ সময় লাগে। বাংলাদেশে তিনটি বড় ভূমিকম্প হয়েছে শত বছর আগে।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image