বাঙালির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্যই আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় নঈম উদ্দিন চৌধুরী

চট্টগ্রাম , সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮

বাঙালির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্যই আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের অন্যতম সহ সভাপতি আলহাজ্ব নঈম উদ্দিন চৌধুরী সভাপতির বক্তব্যে বলেছেন- ৪৭ সালে বাঙালিদের একচেটিয়া ভোটে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু অল্প কয়েকদিনের মাথায় তৎকালীন বাঙালির রাজনৈতিক নেতৃত্ব উপলব্ধি করেন যে, পাকিস্তান নামক অবৈজ্ঞানিক রাষ্ট্র কাঠামোয় বাঙালির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি সম্ভব নয়। এ লক্ষ্য অর্জনে বাঙালিদের শক্তিশালী একটি রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে তোলার তাগিদ থেকেই ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে আওয়ামীলীগের জন্ম হয়। ঐ সময়ে মাওলানা ভাসানী সভাপতি, শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক ও কারাবন্দী শেখ মুজিবুর রহমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন।

তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুর সুদক্ষ নেতৃত্বে ধাপে ধাপে নানান ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগকে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত করেন। আওয়ামীলীগের জন্মের ঠিকুজীর মধ্যেই বাঙালির স্বাধীন সত্তা অভূদয়ের ইঙ্গিত মেলে। বাঙালির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্যই আওয়ামীলীগের জন্ম হয়েছিল। আজ বিকেলে দারুল ফজল মার্কেটস্থ দলীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন বলেন, ৬৫ সালের পাক্-ভারত যুদ্ধের পর তাসখন্দ চুক্তিতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান স্বাক্ষর করলে পাকিস্থান ফুঁসে উঠে। ১৯৬৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে বিরোধী দল একটি রাজনৈতিক কনভেনশন আহ্বান করলে শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার সম্বলিত ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবী উত্থাপন করেন।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু বলেন বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে উদীপ্ত করে ৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়ের মধ্য দিয়ে আওয়ামীলীগের বিজয় এবং এই বিজয়কে বানচাল করার চেষ্টা করা হলে ৬দফা ১দফায় রূপান্তরিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। আজকের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের ফসল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এই বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী, আলহাজ্ব বদিউল আলম, আলহাজ্ব এম এ রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, আইন সম্পাদক এড. ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব এম এ জাফর, কামরুল হাসান ভুলু, এড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সালাউদ্দিন ইবনে আহমেদ, মো: আবুল বশর, মহানগর ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর। সভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য হাজী মো; হোসেন, ইঞ্জি: মানস রক্ষিত, জোবাইরা নার্গিস খান, দেবাশীষ গুহ বুলবুল, দিদারুল আলম চৌধুরী, শহিদুল আলম, কার্যনির্বাহী সদস্য নুরুল আবছার মিয়া, সৈয়দ আমিনুল হক, আহমেদ ইলিয়াছ, মহব্বত আলী খান, সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, অমল মিত্র, নেছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, হাজী বেলাল আহমেদ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের হাজী আবুল হাশেম বাবুল, আবদুল মান্নান, এম এ হান্নান, মোহাম্মদ ইয়াকুব, মো: গিয়াস উদ্দিন, আতিকুর রহমান, হাজী মো: ইউনুছ, শেখ সরওয়ার্দী, সৈয়দ মো: জাকারিয়া, ফয়েজ উল্লাহ বাহাদুর সেলিম রেজা, আশফাক আহমেদ, মো: ইকবাল চৌধুরী, সেলিম রেজা, মো: জসিম উদ্দিন, মো: আসিফ খান, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু প্রমুখ।

সভার শুরুতে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যবধি বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ৭৫‘র ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারসহ সকল নেতাকর্মীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন অধ্যপাক মাসুম চৌধুরী। এছাড়া দিবসটি পালন উপলক্ষে সকালে দারুল ফজল মার্কেটস্থ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও সংগঠনের দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.