বাস্তব ‘মৎসকন্যা’ জন্ম দিলো এক মা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

রোববার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৭

বাস্তব 'মৎসকন্যা' জন্ম দিলো এক মা

ভারতের পশ্চিম বঙ্গের কলকাতায় সরকারী চিত্তরঞ্জন দেব হাসপাতালে জন্ম নেওয়া বাস্তব ‘মৎসকন্যা’। ছবি: ডেইলি মেইল

অবিকল রূপকথার ‘মৎস্যকন্যা’র মতো দেখতে শিশুটি জন্ম নেওয়ার ঘণ্টা চারেকের মাথায় আবারো ফিরে যায় না ফেরার দেশে। মুসকুরা বিবি নামের এক মা একটি মৎস্য কন্যার জন্ম দিয়েছিলো। কিন্তু তাকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। পুরো ঘটনাটি ভীষণ হৃদয় বিদারক। ভারতের পশ্চিম বঙ্গের কলকাতায় বসবাসকারী ২৩ বছর বয়সী মুসকুরা এবং তার স্বামী দুজনই পেশায় দরিদ্র শ্রমিক।

তাই অভাবের তাড়নায় শিশুটির জন্মের আগ পর্যন্ত তারা কোনো আলট্রাসনোগ্রাফি কিংবা কোনো ভালো মাতৃত্ব জনিত চিকিৎসা করাতে পারেনি।

কলকাতায় অবস্থিত সরকারি চিত্তরঞ্জন দেব সদন হাসপাতালে গত বুধবার (৬ ডিসেম্বর) শিশুটির জন্মের পর চিকিৎসকরা ঐ নবজাতকের লিঙ্গ সনাক্ত করতে ব্যর্থ হন।

মারমেইড

বাস্তব ‘মৎসকন্যা’ জন্ম দিলো এক মা

কারণ শিশুটির অপুষ্টিহীনতার কারণে অনেকটাই অপরিপক্ক ভাবে জন্ম নেয়। তাছাড়া পা জোড়া একসঙ্গে আটকে থাকার জন্যও শিশুটির লিঙ্গ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: সুদীপ্ত সাহা বলেছেন,  ‘আগে কখনোই আমি এমন শিশুর দেখা পাইনি। এটি দেশের প্রথম সিরনোমেলিয়া এবং দেশের দ্বিতীয়টি।’

তিনি বলেন, ‘শরীরের ঊর্ধ্ব অংশে শিশুর স্বাভাবিক গঠন ছিল কিন্তু কোমরের নীচে তার পা একসাথে নিখুঁত ছিল। নীচের অংশটি সম্পূর্ণরূপে বিকশিত হয়নি।’

সুদীপ্ত সাহা আরো বলেন, ‘আমরা মেডিকেলের পড়ার সময়ে শিখেছি যে মায়ের গর্ভকালীন সময়ে আল্ট্রাসাউন্ড সোনাফাগোনিত হয়নি। সেই মা থেকে শিশুর সঠিক পুষ্টি এবং অনুপযুক্ত রক্ত ​​সঞ্চালনের অভাব ভ্রূণে এই ধরনের অস্বাভাবিকতা তৈরি করতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত এইসব শিশু বেঁচে থাকে না। ‘

উল্লেখ্য, গত বুধবারের ঐ নবজাতক শিশুটি ভারতের দ্বিতীয় বারের মত জন্ম’ নেওয়া কথিত মৎস্য শিশু। গত বছর (২০১৬ সাল) ভারতের উত্তর প্রদেশে জন্ম নিয়েছিলো ভারতের প্রথম মৎস্য শিশু। তবে ঐ শিশুটিও জন্মের মিনিট দশেকের মধ্যে মৃত্যুবরণ করে।

সূত্র: ডেইলি মেইল।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.