এই মাত্র:

বিচারপতির স্বাক্ষর জালিয়াতি করেও শেষ রক্ষা হয়নি ইয়াবা ব্যবসায়ী তৈয়ুবের

শনিবার,১২ আগস্ট ২০১৭

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম :বিচারপতির স্বাক্ষর জালিয়াতি করে কারাগার মুক্ত ইয়াবা মামলার আসামী টেকনাফ যুবদল নেতা তৈয়ুব উল্লাহকে পুনরায় কারাগারে পাঠালো আদালত।

গত ৮ আগষ্ট সকালে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের একটি টিম কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার নিজ বাড়ী থেকে তাকেসহ ভাই হেলালকে আটক করা হয়। পরে ৯ আগষ্ট আটক তৈয়ুব উল্লাহকে ঢাকা স্পেশাল সেশন জজ আদালত (৪) এ সোর্পদ করা হয়। গত মাস দেড়েক আগে তৈয়ুব উল্লাহ জামিন জালিয়াতির মাধ্যমে কারাগার হতে বের হন।

খোজঁ নিয়ে যানা যায়, গত ৭ জানুয়ারি ঢাকা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি টিম মতিঝিল ও গাজীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ টেকনাফ উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও সাবরাং পানছড়ি পাড়া এলাকার মো. ইউনুছের ছেলে মোঃ তৈয়ুব উল্লাহ, পটুয়াখালীর (বর্তমানে কক্সবাজার কলাতলীর বাসিন্দা) ওবায়দুল ও শ্রী সঞ্চয় সাহাকে আটক করা হয়। আটকের ছয় মাস পর তৈয়ুব উল্লাহ হাইকোর্টের আদেশ জালিয়াতি করে থেকে জামিনে বেরিয়ে আসে।

পরে বিষয়টি অবগত হয়ে বিচারপ্রতি মো: শওকত হোসেন ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ২৪ নং বেঞ্জের এক আদেশের প্রেক্ষিতে তৈয়ুব ও ভাই হেলালকে আটক করে বুধবার আদালতে স্বশরীরে হাজির হন টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো: মাইন উদ্দিন খান। এ সময় তৈয়ুবের কক্সবাজারের আইনজীবি সেলিমুল মোস্তফা, আইনজীবি সহকারী ইমান হোসেন স্বশরীরে আদালতে হাজির ছিলেন। আদালতের জিঞ্জাসাবাদে মামলার আসামী তৈয়ব উল্লাহকে জামিনে মুক্ত করার জন্য তার ভাই হেলাল উদ্দিন এডভোকেট সেলিমুল মোস্তফাকে ৫ লাখ টাকা প্রদানের কথা উল্লেখ করে। তবে এডভোকেট সেলিমুল মোস্তফা এতো টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে হাইকোর্টের আইনজীবি আনিসুর মাওয়াকে ৫০ হাজার টাকা জামিন নেওয়া বাবদ প্রদান করা হয়েছে বলে জানান।

সম্প্রতি ইয়াবা মামলায় বিচারপতির স্বাক্ষর জালিয়াতি করে আসামী জামিনের অভিযোগে নানা বিষয় উঠে আসে। গত ২০১৬ সালের ২৬ জুন রাজধানীর খিলগাঁও থেকে পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ উখিয়া বালুখালী এলাকার বকতার আহমেদ ও নুরুল আলম টিটোকে আটক করে। এই মামলাটি ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-৬ এ বিচারাধীন অবস্থায় আসামি বকতার ওই মামলায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু জামিন আবেদনটি শুনানি না হওয়ার পরও বেঞ্চ কর্মকর্তা রফিকুল হাইকোর্টের দুজন বিচারপতির স্বাক্ষর জাল করে জামিন আদেশ প্রস্তুত করেন। ওই ভুয়া জামিন আদেশ বিচারিক আদালতে দাখিল করলে আসামি বকতার কারাগার থেকে মুক্তি পান।

এর কিছু দিন যেতে না যেতে একই মামলার অপর আসামি নুরুল আলম টিটোও হাইকোটে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানিতে মূল আসামি বকতারের জামিন পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয় তখনই এই ভয়াবহ জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। এরপরই রফিকুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেন হাইকোট। ওই নির্দেশের পরই সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাইকোর্টের বেঞ্চ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামকে চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশ জারি করেন। একইসঙ্গে অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ সব ইয়াবা মামলার বিষয় খতিয়ে দেখতে গিয়ে ধরা পড়ে টেকনাফের যুবদল নেতা মোঃ তৈয়ুব উল্লাহর জামিন জালিয়তি। এরপর হাইকোর্টের এক আদেশের ফলে ইয়াবা মামলার আসামী তৈয়ুব উল্লাহ ও সহযোগী ভাইকে আটক করতে মাঠে নামে পুলিশ। শুধু তাই নয় তার সহোদর হেলাল উদ্দিনকেও আটক করে আদালতে সোর্পদ করে হাইকোর্টে স্বশরীরে টেকনাফ মডেল থানার ওসিকে হাজির হতে বলে।

এর প্রেক্ষিতে গত ৮ আগষ্ট সকালে টেকনাফ মডেল থানার ওসি মাইন উদ্দিন খানের নেতৃত্বে এসআই মাহির খানসহ একদল পুলিশ কক্সবাজার শহরের কলাতলীর গইওম তলী এলাকার নিজ বাসভবন থেকে তৈয়ুব উল্লাহসহ ভাইকে আটক করা হয়। পরে কৌশলে ভাই হেলাল উদ্দিনকে আটক করে পুলশ। ধৃতদের সাথে নিয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি হাজির হন হাইকোর্টে।

টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মাইন উদ্দিন খান সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জালিয়াতির মাধ্যমে ইয়াবা মামলায় মুক্ত হওয়া টেকনাফের তৈয়ুব উল্লাহর জামিন বাতিল করে হাইর্কোট। এ প্রেক্ষিতে তাকে আটক করে ঢাকা সেশন জজ আদালতে সোর্পদ করে বিষয়টি স্বশ্বরীরে উপস্থিত হয়ে মাননীয় হাইর্কোটকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, টেকনাফ উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব তৈয়ুব উল্লাহ একজন চিহ্নিত ইয়াবা গডফাডার। টেকনাফে বন্ধুক যুদ্ধে কয়েকজন ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হওয়ার পর সে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে গিয়ে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যায়। ওই সময় ঢাকায় র‌্যাবের হাতে ইয়াবাসহ গ্রেফতার হন তৈয়ুব। পরে জামিনে বেরিয়ে এসে তার শ্বাশুর বাড়ি কক্সবাজার হওয়ার সুবাদে সেখানে অবস্থান করে আবারো ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যান।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image