বিদেশি নিবন্ধন আইন, ২০১৪ বিল সংসদে উত্থাপন

বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৫

সিটিজিবার্তা ২৪ ডটকম

 

songsod_0স্টাফ রিপোর্টার : আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদসহ জঙ্গিবাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে দেশে বিদেশিদের প্রবেশের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন সেলে নিবন্ধনের বিধান রেখে বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের জন্য ‘বিদেশি নিবন্ধন আইন, ২০১৪’ বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে দশম জাতীয় সংসদের ৮ম অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলম।

বিলে বলা আছে, বাংলাদেশের সার্বভৌম ভূখন্ডের বাহিরে জন্মগ্রহণকারী অন্য কোনো দেশের যে কোনো বয়সের নারী বা পুরুষ নাগরিককে বা বাংলাদেশের সার্বভৌম ভূখন্ডে জন্মগ্রহণকারী কিন্তু অন্য দেশের একক নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন এমন যে কোনো বয়সের নারী বা পুরুষ নাগরিককে বিদেশি অর্থে গণ্য করা হবে।

এই আইনটি বাংলাদেশে আগমনেচ্ছু ও অবস্থানকারী যে কোনো বিদেশি নাগরিকের জন্য প্রযোজ্য হবে বলেও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের যে কোনো স্থল, নৌ, সমুদ্র এবং বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিবন্ধন করতে হবে। এছাড়া বিদেশি কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য চাকরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশি কোনো ব্যক্তি/সংস্থার সম্পাদিত কোনো লিখিত চুক্তি বা সম্মতিপত্র, বাংলাদেশের সাথে অপর কোনো রাষ্ট্রের সম্পাদিত কোনো লিখিত চুক্তি বা সম্মতি বা আমন্ত্রণপত্র থাকতে হবে।

বিলের তিন দফায় বলা আছে, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বিদেশি নিবন্ধন সেল নামে একটি নিবন্ধন সেল থাকবে এবং এই সেল মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব অর্গানোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত জনবলের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে।

নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পর্কে বলা আছে, সরকার তফসিলে বর্ণিত তথ্য সম্বলিত মেশিন রিডেবল নিবন্ধন ফরম প্রস্তুত করবে। এছাড়া বাংলাদেশে আগমনে ইচ্ছুক প্রত্যেক নাগরিককে ভিসা ফরমের সাথে সংযুক্ত  নিবন্ধন ফরম পূরণ করতে হবে। এই নিবন্ধন ফরম বিধি দ্বারা, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, দেশে-বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোতে এবং বাংলাদেশের বিমান-নৌ-স্থল ও সমুদ্র বন্দরে ব্যবহার ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বিলের ৬ ধারায় বলা হয়েছে, প্রচলিত অন্য কোনো আইনে যাহা থাকুক না কেন, নিবন্ধন ফরমে মিথ্যা তথ্য প্রদান করে বাংলাদেশে প্রবেশ শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। এছাড়া মিথ্যা তথ্য প্রদান করে বাংলাদেশে প্রবেশের ঘটনায় কোনো চুক্তিবন্ধ বাংলাদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এর সংশ্লিষ্টতা থাকলে ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একই অপরাধে অপরাধী বলে গণ্য হবেন।

মিথ্যা তথ্য প্রদানে শাস্তি হিসেবে বলা আছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ধারা ৬ এর কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে তিনি বা ওই প্রতিষ্ঠান এই আইনের অধীনে অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে এবং এই অপরাধের জন্য তিনি বা অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনুর্ধ্ব এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন; অনাদায়ে অনুর্ধ্ব এক মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এছাড়া অপরাধে সহযোগিতার কারণে অভিযুক্ত সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরকারের কালো তালিকাভুক্ত হবেন এবং একই অপরাধ পুন:সংঘঠনের কারণে ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক লাইসেন্স (যদি থাকে) বাতিলযোগ্য হবে।

এদিকে দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণকারী যে কোনো নারী বা পুরুষের ক্ষেত্রে এই আইনের কোনো ধারা প্রযোজ্য হবে না বলেও বিলের ৯ দফায় উল্লেখ রয়েছে। বিলের ১০ দফায় বলা আছে, এই আইনে যাহা কিছুই উল্লেখ থাকুক না কেন, যদি সংঘটিত অপরাধ তদন্তকালে অর্থপাচার, রাষ্ট্রদ্রোহীতা ও সন্ত্রাসবাদের মতো গুরুতর অপরাধের কোনো উপাদান বা আলামত এর উপস্থিতি প্রতীয়মান হয়, সেই ক্ষেত্রে এই আইনের পাশাপাশি প্রচলিত আইনের প্রয়োগ বাধাগ্রস্থ হবে না।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলম বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর লাখ লাখ বিদেশির আগমন ঘটে। কেউ আসেন ভ্রমণের জন্য, ব্যবসার জন্য, কর্মসংস্থানের জন্য, বিনোদনের জন্য, কেউ আসেন, সামাজিক-রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক প্রয়োজনে। কিন্তু আইনী সীমাবন্ধতার কারণে আমাদের দেশে এই আগমন-বর্হিঃগমনের সঠিক হিসাব সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা এখনো সম্ভব হয়ে উঠেনি। যার ফলে বাংলাদেশে একদিকে যেমন-মুদ্রা পাচার, মাদক পাচারসহ নারী ও শিশু পাচারের মত আর্থ সামাজিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে তেমনি রয়েছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদসহ জঙ্গিবাদের মত নিরাপত্তা ঝুঁকিতে।

তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক আভ্রন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে দেশে বিদেশিদের আগমন ও বর্হিগমনের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের এ কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্তে প্রয়োজন যুগোপযোগী আইনী কাঠামো। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিদেশিদের আগরমন ও বর্হি:গমন এর তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজ সুনিশ্চিতকল্পে প্রণয়নে ‘বিদেশি নিবন্ধন আইন, ২০১৪’ নামক খসড়া বিলটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.