ভাইকে ‘ফাঁসাতে’ শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা !

শুক্রবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৫

সিটিজিবার্তা২৪.কম

ভাইকে ‘ফাঁসাতে’ শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা !

চট্টগ্রাম : নগরীর ইপিজেড থানার নারিকেল তলার আব্দুস সালামের বাড়ীতে তানিয়া (৮) নামে প্রথম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে ‘ধষর্ণের’ পর হত্যা করে বস্তায় ভরে মরদেহ পুকুরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় ৬০ বছরের এক বৃদ্ধসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বস্তায় ভরা শিশুটির মরদেহের পরণেও কোনো সেলোয়ার ছিলনা আর গোপনাঙ্গে রক্তের দাগ পেয়েছেন সুরতহালকারী পুলিশ কর্তকর্তা। যে পুকুর থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সেই পুকুরের পাশের একটি ভবন থেকে নিহত শিশুটির পরনের সেই সেলোয়ার, সেন্ডেল ও দোকান থেকে কেনা পান উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সকালে স্থানীয় নারিকেল তলার হক সাহেবের পুকুর থেকে বস্তাবন্দি লাশটি উদ্ধার করে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে নগর পুলিশের সহকারি কমিশনার (বন্দর) জাহেদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম তদন্তে নামে।

ওই টিম ঘটনাস্থলের পাশের ‘হক ম্যানসনে’ অভিযান চালিয়ে শিশুটির পরনের সেলোয়ার, স্যান্ডেল ও দোকান থেকে কেনা পান উদ্ধার করেছে। আলামত উদ্ধারের কারণে ওই বাসার মালিক ৬০ বছরের বৃদ্ধ সোলায়মান ফকির, তার ছেলে সাদ্দাম (২০) ও সোলায়মানের ভাই রহমানকে (৪০) আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

এসি জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুটি নিখোঁজের পর তাকে ধর্ষণ করে হত্যা করে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে এটি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি। এঘটনায় তদন্ত করে হক ম্যানসন নামে দুতলা একটি ভবন থেকে তার পরনের সেলোয়ার, স্যান্ডেল ও পান উদ্ধার করা হয়েছে। সেকারনে ওই ঘরের মালিক সোলায়মান ফকির, তার ছেলে ও ভাইকে আটক করা হয়েছে।’

জাহেদুল ইসলাম আরো বলেন, ‘তবে প্রাথমিক তদন্তে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এঘটনার সাথে সম্পৃক্ত হিসেবে সোলায়মান (৬০) নামে যাকে আটক করা হয়েছে। তিনি অনেকটা ভবঘুরে টাইপের লোক। আধ্যাত্মিক ধ্যানে ব্যস্ত সময় কাটান। তাকে এলাকায় সোলায়মান ফকির হিসেবেই চেনে। তিনি দুনিয়াবি চিন্তা থেকে অনেকটা দূরে থাকেন বলে স্থানীয়রা আমাদের জানিয়েছে। এছাড়া দুতলা এই ভবন নিয়ে ভাই ওসমান ও রহমানের সাথে সোলায়মানের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।’

তিনি বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, অন্য জেলার এই শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে সোলায়মানের ঘরে এসব আলমত ফেলে গেছে কেউ। এছাড়া তার ভাই রহমান ও ওসমানও এঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। সেকারণে রহমানকেও আটক করা হয়েছে। ওসমানকে আটকের চেষ্টা চলছে। আমাদের ইন্টারনাল তদন্তে সোলায়মান ফকিরকে ফাঁসাতে ধর্ষণের পর হত্যার বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে সেটি এখনো চূড়ান্তভাবে বলা যাচ্ছেনা বিধায় আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

এরআগে বৃহস্পতিবার বিকেলে নানীর জন্য দোকান থেকে পান আনতে গিয়ে নিখোঁজ হয় তানিয়া (৮) নামে ওই শিশু। এরপর তার খোঁজে এলাকায় মাইকিংও করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। রাতভর তার খোঁজ না মিললেও ভোরে পাশের হক সাহেবের পুকুরে বস্তাভর্তি একটি বস্তু দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পাড়ে এনে খুললে বস্তার ভেতরে নিখোঁজ তানিয়ার লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তানিয়া নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া গ্রামের হাফুল মিয়ার প্রথম কন্যা। সে নারিকেল তলা এলাকায় মামা ইলেকট্রিক মিস্ত্রি সুমন মিয়ার কাছে থাকে। মামা সুমন মিয়া তানিয়াকে স্থানীয় মোহাম্মদীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রনীতে পড়তো। সুত্র বাংলামেইল

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.