এই মাত্র:

ভারতীয় রুপি সংকট নিরসনের উদ্যেগ বাংলাদেশ ব্যাংকের

অর্থনীতি ডেস্ক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

বৃহস্পতিবার , ২২ ডিসেম্বর ২০১৬

বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক

ভারতে ৫০০ ও ১০০০ রুপি বাতিল হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের পাশে দাঁড়াতে না পারলেও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) গভর্নরকে অনুরোধ করে একটি চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। ওই চিঠিতে কাস্টম কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে জব্দ হওয়া এবং ব্যাংক ব্যবস্থায় থাকা ৫০০ ও ১০০০ রুপির সব নোট দ্রুত পরিবর্তনের (রূপান্তর) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আরবিআই গর্ভনর উরজিত প্যাটেলকে অনুরোধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজি হাসান বলেন, ‘কাস্টম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করা ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোটগুলো বিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘এই উদ্যোগের সার্থকতা নির্ভর করছে ভারত সরকারের ওপর।’

যদিও এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা সাংবাদিকদেরকে জানিয়েছিলেন, ভারতীয় ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট যাদের কাছে আছে, তাদের জন্য আপাতত কিছুই করার নেই বাংলাদেশ ব্যাংকের।

উল্লেখ্য, জাল ও কালো টাকার বিস্তার রোধে গত ৮ নভেম্বর মধ্যরাত থেকে ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিলের ঘোষণা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারত সরকারের ঘোষণার পর থেকে মুদ্রাবিনিময় প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়াও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছে। বিপাকে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের অনেক ব্যবসায়ীও আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের কাছে থাকা ১২ লাখ ভারতীয় রুপির মধ্যে ৫০০ ও ১০০০ মূল্যমানের রুপি রয়েছে ১১ লাখ। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের কাছে রয়েছে ৪ লাখ রুপি। এছাড়া অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের কাছে ৩ লাখ রুপি এবং বাকি এক লাখ রুপি রয়েছে জনতা ব্যাংকের কাছে। এর আগে গত ৯ নভেম্বর দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের কাছে ভারতীয় রুপি থাকার তথ্য চেয়ে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংকগুলোর কাছে থাকা সব রুপি সোনালী ব্যাংকের কলকাতা শাখার মাধ্যমে এক্সচেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক তাদের কাছে থাকা সব রুপি সোনালী ব্যাংকের কাছে জমা দেয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে কোনও সাড়া মেলেনি। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিভিন্ন সময়ে উদ্ধার হওয়া ভারতীয় রুপি আদালতের মাধ্যমে বাজেয়াপ্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জমা রাখা হয়। এগুলোর মালিক জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বা সরকার।

এদিকে, মোদি সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পোস্ট অফিস ও ভারতের ব্যাংকে গিয়ে এসব মূল্যমানের রুপির নোট পরিবর্তন করা যাবে। তবে যারা এ সময়ের মধ্যে বিশেষ কোনও কারণে পুরনো নোট জমা দিতে পারবে না, তারা জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এসব নোট জমা দিতে পারবেন।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image