ভুয়া সংবাদ রটিয়ে একরাম হত্যার প্লট রচনা

Saturday,15 September 2018

ctgbarta24.com

আমরা তাকে ভুলে গিয়েছি? কেমন আছে তার পরিবার?এই হত্যাকান্ডের জন্য দায়ী কারা?দোষীরা কি বিচারের মুখোমুখি হবে না,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী?
জাতির জনকের তনয়া দেশরত্ন শেখ হাসিনা, আপনি অন্যায়ের সাথে আপোষহীন নেত্রী। আপনি ১৮ কোটি জনতার একমাত্র আশ্রয়স্থল। আপনার উপর আমাদের আত্মবিশ্বাস শতভাগ। আপনার কাছেই আমরা ভাই হত্যার বিচার চাই আজ।

লাখো কোটি মানুষের অন্তরকে কাদিঁয়েছিল টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকান্ড। সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। কিন্তু, আজ সবাই ব্যস্ত নিজের জীবন নিয়ে। কেউ মনে রাখেনি আওয়ামীলীগের নিবেদিত ত্যাগী এই নেতার কথা! আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করে কারা এই হত্যাকান্ডের কলকাঠি নেড়েছিল? প্রশ্ন এখনো রয়ে যায়। ষড়যন্ত্রকারী চক্র এই হত্যার পরিকল্পনা অনেক আগে বুনেছিল। অপেক্ষায় ছিল সুযোগ ও পরিস্থিতির।

বেসরকারি দুইটি টিভির চ্যানেলের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে কাউন্সিলর একরামুলকে প্রচুর সম্পদ ও মাদকের গডফাদার উল্লেখ করে সংবাদ প্রচার করা হয়েছিল। অথচ, মৃত্যুর সময়ও তার ঘরটি ছিল ভাঙাচোরা, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া, বকেয়া ছিল দুই মেয়ের টিউশন ফি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী কোটি টাকা ও বাড়ী ফ্ল্যাট ইত্যাদি তথ্য উপাত্ত প্রকাশ করা হয়েছিল, যা ছিল মনগড়া ও ভূয়া। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে ছিল না কোন মামলা। খোঁজ নিলে জানা যাবে, নিহত একরামুলের পরিবারের বর্তমান অবস্থা, দুঃখ দুর্দশার চিত্র।

বিভ্রান্তি ছড়ানো শুরু হয় ভূয়া নিউজ দিয়ে, শেষ হয় তার মৃত্যুতে। এই জঘন্যতম কাজটি করেছিল কথিত এক সাংবাদিক। নাম ইমরুল কায়েস। বিস্তারিত তদন্ত করলে জানা যাবে, তিনি এস.এস.সি পর্যন্ত পাশ করেননি। অথচ, দেশের বহুল সুনামধন্য একটি টিভি চ্যানেলের কক্সবাজার প্রতিনিধি তিনি।

জননেতা ব্যবসায়ী যেই হোক, টেকনাফের বাসিন্দা হলেই হল, শুধু নিউজ করে দিলে বনে গেল মাদক ব্যবসায়ী? পরিস্থিতি এতো দুঃখজনক যে, টেকনাফের বাসিন্দা হওয়া যেন অভিশাপ আমাদের জন্য।

এসব সাংবাদিক নামধারী ব্যক্তি মাদকের গডফাদারের টাকায় সাধারণ কাউকে মাদক ব্যবসায়ী বানিয়ে দেন। আবার সাধারণ কোন ব্যক্তি/ব্যবসায়ীর কাছে দাবিকৃত লাখ টাকা চাঁদা না পেলেই ভূয়া নিউজ করে বানিয়ে দেন মাদক সম্রাট। এই হল আমাদের পরিস্থিতি ও নিয়তি।

আর এমনই ভিত্তিহীন নিউজের সূত্র ধরে আজ একরামুল মারা গেলেন। কার ইশারায় এসব হচ্ছিল তা সবাই জানেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তিনি সবসময় স্থানীয় সাংসদ আব্দুর রহমান বদি ও তার ঘনিষ্ঠ অনুসারী জাফর চেয়ারম্যানের বিতর্কিত কর্মকান্ডে বিরোধীতা করে আসছিলেন।

মাদকের সমস্ত তালিকায় এমপি ও চেয়ারম্যান পরিবারের সদস্যদের নাম শীর্ষ দশের মধ্যে আছে। তারাই নিয়ন্ত্রণ করছে সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবার পুরো সিণ্ডিকেট। অথচ, তারা নিরাপদ, দিব্য প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ান।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মারা গেলেন অন্যায়ের সাথে আপোষহীন সেই নেতা একরামুল। যাকে নিয়ে সাধারণ মানুষ স্বপ্ন দেখছিল, মাদকমুক্ত টেকনাফ গড়ে তোলার।

শুধু এইটুকু বলবো, নিরীহ ও জনপ্রিয় একজন নেতা যদি এইভাবে মারা যান, তাহলে জনতার হয়ে অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে কে নেতৃত্ব দেওয়ার সাহস রাখবে সীমান্ত এই জনপদে?

কাউন্সিলর একরামুল টেকনাফ আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন পরিবারের সন্তান। যে পরিবার মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছিল। কি ভয়ংকর, কি নির্মম এই হত্যাকান্ড!

কে ধরবে আওয়ামী পরিবারের হয়ে এই অন্যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে পতাকা? রাজনৈতিক সাইনবোর্ড ব্যবহার করে যারা মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, তাদের দুর্গ ভেঙে দিতে কে এগিয়ে আসবে?

একরাম হত্যার জন্য দায়ী জনপ্রতিনিধি নেতা সাংবাদিক যেই হোক, বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে বিচারের সম্মুখীন করা টেকনাফবাসীর গণ দাবিতে পরিণত হয়েছে।

প্রিয় নেত্রী, আপনার উপর আমাদের আস্থা আছে। ঘনিয়ে আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তার আগেই একরামুল হত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হোক। টেকনাফবাসী আপনার নিকট কৃতজ্ঞ থাকবে চিরকাল। জয় বাংলা….

লেখক:
টেকনাফ থেকে…
আশরাফুল ইসলাম।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.