ভোট যেখানেই পড়ুক, চেয়ারম্যান হবেন নুর আলম

নির্বাচনের দিন ভোট যেখানেই পড়ুক, চেয়ারম্যান হবেন একজনই। তিনি হলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নুর আলম। এমন প্রচারণায় সরব হয়ে উঠেছে ইউনিয়নের হাট-বাজার থেকে শুরু করে ছোট-বড় চায়ের দোকানগুলো

শুক্রবার, ১১ মার্চ ২০১৬ ০৫:২২ ঘন্টা

জেলা সংবাদদাতা, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

ভোট যেখানেই পড়ুক, চেয়ারম্যান হবেন নুরুল আলম

ইউপি নির্বাচন কমিশন লগো

রংপুর : ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দিন ভোটারদের দেওয়া ভোট যেখানেই পড়ুক, চেয়ারম্যান হবেন একজনই। তিনি হলেন- আওয়ামী লীগ সমর্থিত নুর আলম। এমন প্রচারণায় সরব হয়ে উঠেছে সমগ্র ইউনিয়নের হাট-বাজার থেকে শুরু করে ছোট-বড় চায়ের দোকানগুলো। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নুর আলমের সমর্থকরা আগাম জয়ের ইঙ্গিত দিয়েই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থীরা।

এদিকে দীর্ঘ ১৪ বছর পর নির্বাচন হতে যাচ্ছে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ১নং কল্যাণী ইউনিয়ন পরিষদে। নির্বাচনকে ঘিরে এরই মধ্যে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। তবে নির্বাচন যতোই ঘনিয়ে আসছে ততোই এক ভিন্ন মাত্রার শঙ্কা তাড়া করছে ভোটারদের। ভারী হচ্ছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অন্যসব চেয়ারম্যান প্রার্থীদের অভিযোগের পাল্লা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী নুর আলম ও তার সমর্থকরা।

নির্বাচনে অংশ নেয়া বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্য দলের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ভালো মানুষ- এমন মন্তব্য করে নূর আলম বলেন, ‘কল্যাণী ইউনিয়নে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ নেই। এখানে সব দলের প্রার্থী চান সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন হোক।’

সব প্রার্থীই ভোটারদের ওপর নির্ভরশীল দাবি করে তিনি বলেন, ‘একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তারাই মিথ্যা অভিযোগ প্রচার করে ভোটারদের কেন্দ্র বিমুখ করার পায়তারা করছে।’

তবে ভিন্ন কথা বলেছেন ধানের শীষের প্রার্থী জিকরুল আমিন। তিনি বলেন, ‘ভোটের ফলাফল আগেই শুনতে পাচ্ছি। নৌকার সমর্থকরা বলে বেড়াচ্ছেন, নির্বাচনে ভোট যেখানেই পড়ুক, জয়ী হবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী।’

জিকরুল আমিন বলেন, ‘এই ইউনিয়নে প্রায় এক যুগের বেশি সময় পর নির্বাচন হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ভোট দেয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। কিন্তু নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে।’

বিএনপির এই প্রার্থী আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচনকে ঘিরেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী নুর আলমের ভাই পুলিশ সদস্য তরিকুল ইসলাম শফিকুলকে গাইবান্ধা থেকে রংপুর কোতোয়ালি থানায় আনা হয়েছে। তিনি প্রায়ই নির্বাচনী এলাকায় এসে তার ভাইয়ের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষ নানা কথা বলছে।’

এ সময় বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে খতিয়ে দেখার দাবিও জানান তিনি।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী জলিল সরকার বলেন, ‘ভোটের ফলাফল তো আগেই প্রচার করা হচ্ছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থি। এখানকার সাধারণ মানুষ ও ভোটাররা খুবই শান্তি প্রিয়। কেউ ভোট ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে জনগণ শুধু প্রতিহতই করবে না, এ নিয়ে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়বে।’

সরকারি দলের প্রার্থী নুর আলম ক্ষমতা ও টাকার বলে নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছেন অভিযোগ করে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী আবু তাহের বাংলামেইলকে বলেন, ‘ভোটের আগে এ অবস্থা চলতে থাকলে সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রে যাবে না। যা সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা।’

তবে কোনো গুজবে কান না দিতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রংপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম মাহাতাব উদ্দিন বলেন, ‘কেউই আমাকে লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যেকোনো মূল্যে সুষ্ঠু নির্বাচন করা হবে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা রির্টানিং অফিসার এটিএম সেলিম বলেন, ‘আগামী ২২ মার্চ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই ইউনিয়নে ১৭ হাজার ১৭ জন ভোটার ১০টি কেন্দ্রে ৪২টি বুথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।’

উল্লেখ্য, রংপুরের ৭৬টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রথম ধাপে শুধুমাত্র পীরগাছা উপজেলার ১নং কল্যানী ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.