মিতু হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে সাবেক শিবির নেতা আটক

রাশেদুল করিম, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

বুধবার, ৮ জুন ২০১৬

মিতু হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে সাবেক শিবির নেতা আটক

পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকান্ডের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার অভিযোগে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে আটক সাবেক শিবির নেতা আবু নছর গুন্নু।

চট্টগ্রাম : পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকান্ডের সময় ঘটনাস্থলে সাবেক ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা আবু নছর গুন্নু (৪০) উপস্থিত ছিল, এমন তথ্যের ভিত্তিতে হাটহাজারী থেকে তাকে আটক করা হয়েছে। তবে আটক হওয়া আবু নছর (৪০) উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত কিনা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

মিতু হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার কারণে তার সঙ্গে খুনিদের কোন যোগসূত্র আছে কিনা সেটা জানতে আবু নছরকে রিমাণ্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য।

তিনি সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজের তথ্য এবং সোর্সের মাধ্যমে আমরা কিছু তথ্য পেয়েছি। আবু নাছের গুন্নু হত্যাকাণ্ডের সময় সেখানে ছিল এমন অনুমান ও তথ্য আমাদের আছে। সেজন্য তাকে আটক করেছি। মিতু হত্যাকান্ড মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে রিমাণ্ডে নেয়া হবে।

পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু আক্তারের খুনের তদন্তের অগ্রগতি জানাতে বুধবার (০৮ জুন) সংবাদ সম্মেলন করেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য।  এসময় নগর গোয়েন্দা ‍পুলিশের উপ কমিশনার মোকতার আহমেদও ছিলেন।

তবে সংবাদ সম্মেলনে মিতু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার যোগসূত্রের বিষয়টি পরিস্কার করেনি সিএমপি।  শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতেই তাকে আটক করার কথা জানিয়েছিল সিএমপি।

সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে থাকত আবু নছর গুন্নু। দেশে ফিরে সে মাজারে খাদেমগিরি শুরু করে। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে বলেও জানান তিনি।

‘আবু নছর গুন্নুর বাড়ি হাটহাজারী উপজেলার পশ্চিম ফরহাদাবাদ গ্রামে। সে একসময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। পরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে’, বলেন তিনি।

দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, আবু নছর ১৯৯৫ সালে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে চলে যান।  ২০০৯ সালে তিনি ফিরে আসেন। একসময়ের শিবির নেতা দেশে ফিরে হঠাৎ মাজারপন্থী হয়ে যান। সে সীতাকুণ্ড থানার অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলার আসামি।

আবু নছর মাজারের খাদেম কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঠিক খাদেম নয়, মাজারের রক্ষণাবেক্ষণে আছেন তিনি। জামায়াত-শিবির হলেও আড়াল নেয়ার জন্য আশ্রয় নিয়েছিল সে।’

হত্যায় সরাসরি তিন জন অংশ নিলেও এতে জড়িত আরও অনেকে। হত্যার সময় কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকা ও মিশন সম্পন্নের পর মোটরসাইকেলের পেছনে মাইক্রোবাসটির চলে যাওয়াকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। ওই মাইক্রোবাসে খুনিদের সহযোগীরা অবস্থান করছিল বলেও সন্দেহ করছেন তারা।

দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, “মিতু কখন বের হবেন, মোটরসাইকেলে করে যারা পালাবে তাদের ‘ব্যাক আপের’ জন একটা গ্রুপ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেশ কয়েকজন সমন্বিতভাবে অংশ নিয়েছে হত্যায়।”

হত্যাকাণ্ডের রহস্য নিয়ে পুলিশ এখনও অন্ধকারে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, আমরা এখনও অন্ধকারে আছি। আলোর অপেক্ষায় আছি। আলো খুঁজছি।

তিনি বলেন, কিছুই ডিপলি (গভীরভাবে) বলার সময় এখনও আসেনি।  আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে অনুমান এবং কিছু তথ্যের ভিত্তিতে কার্যক্রম চালাচ্ছি।

সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা যখন মিতুকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করছিল, তখন জিইসি মোড়ের দিকে কিছুটা অদূরে দাঁড়িয়ে ছিল একটি কালো মাইক্রোবাস। মিতুর মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতকরা মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যাওয়ার ১০ সেকেন্ডের মাথায় ঘটনাস্থলে আসে মাইক্রোবাসটি। পাঁচ সেকেন্ডের মতো ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে আস্তে আস্তে চলা শুরু করে মাইক্রোবাসটি।

পরে গোলপাহাড় মোড়ের দিকে চলে যায় ওই মাইক্রোবাস। কালো কাচের এ মাইক্রোর চালকের আসনের পাশের জানালাটা খোলা ছিল। অন্যসব জানালা বন্ধ ছিল। এ কারণেই গোয়েন্দারা মাইক্রোবাসের যাত্রীর সঙ্গে এ খুনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে।

সূত্রমতে, নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার মোকতার আহমেদের নেতৃত্বে একটি টিম রাতভর হাটহাজারীর ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের সরকারহাটে আবু নছরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। কি তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটকের পর মিতু হত্যা মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে সে বিষয়ে খোলাসা করে কিছু বলেননি মোকতার আহমেদও।

গত সোমবার (৬ জুন) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সিএমপি কমিশনার মো. ইকবাল বাহার জানান, মিতু হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি (চট্টমেট্রো-ল-১২-৯৮০৭) শুলকবহর বড় গ্যারেজ এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এটি দিনভর সেখানে রাস্তার পাশে পড়ে থাকার পর রাতেও কেউ নিতে না আসায় সেটি জব্দ করা হয়।

পরে অনুসন্ধান করে জানা যায়, সেটিই হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল। খুনিরা ওই এলাকায় মোটরসাইকেল রেখে নিরাপদে পালিয়ে যায়। পুরো এলাকাটি জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত। এজন্য এ ঘটনার সঙ্গে শিবিরের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সন্দেহের কথা জানা ইকবাল বাহার।

তিনি বলেন, ‘আমরা আগের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে দেখেছি শিবিরের একটি অংশ পর্যায়ক্রমে জেএমবিতে যোগ দেয়। এ কারণেই হত্যাকাণ্ডে জেএমবির সঙ্গে শিবিরও জড়িত ছিল কি না সেটা আমরা খতিয়ে দেখছি।’

গত রবিবার (৫ জুন) সকালে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় নগরীর জিইসি এলাকার আর নিজাম রোডে দুর্বৃত্তদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত ও গুলিতে নিহত হন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম ‍মিতু। প্রকাশ্য দিবালোকে একজন পুলিশ সুপারের স্ত্রী খুন হওয়ার ঘটনা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে সারা দেশে।

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম/ জেএ / আরকে/ এমকে

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.