এই মাত্র:

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ‘দেশপ্রেম’ হবে আপনাদের মূলমন্ত্র

মেরিন ক্যাডেটদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবান

শনিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬

'ডটবাংলা ডোমেইন বাংলাদেশের বিজয়'
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ মেরিন ক্যাডেটদের উদ্দেশে বলেছেন, কর্মস্থলের অভিজ্ঞতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগিয়ে মক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশপ্রেম হবে আপনাদের মূলমন্ত্র ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছেলে-মেয়েদের উপর আমার আস্থা রয়েছে। দেশে-বিদেশে যেখানেই কাজ কর-‘দেশপ্রেম’ হবে আপনাদের মূলমন্ত্র।’ বাসস

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর শিক্ষা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা বলতে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না, যখন কাজে নামবেন এবং বাস্তবধর্মী শিক্ষা লাভ করবেন সে শিক্ষাটাই দেশের কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন এবং দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে চেষ্টা করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা যেন প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে লড়াইয়ে টিকে থাকতে পারে সেজন্য আমরা শিক্ষার বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নিয়েছি।

কাজেই আজকে আপনারা যে সব ক্যাডেটরা সনদ নিয়ে যাচ্ছেন তারাও দেশের মান-মর্যাদা রক্ষা করে স্ব-স্ব কর্মস্থানে এগিয়ে যাবেন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সেটাই আমি কামনা করি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশ মেরিন একাডেমী (চট্টগ্রাম) এর ৫১ তম ব্যাচের গ্রাজুয়েশন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেেেন্সর মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে নৌপরিবহন মন্ত্রী মো. শাজাহান খান এবং মেরিন একাডেমীর কমান্ড্যান্ট সাজিদ হোসেন মেরিন একাডেমী প্রান্ত থেকে বক্তৃতা করেন। নেীপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোক মাধব রায় অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ‘দেশপ্রেম’ হবে আপনাদের মূলমন্ত্র

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু,প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ও ইকবাল সোবহান চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীকে মেরিন একাডেমীর বিদায়ী ক্যাডেটরা বর্নাঢ্য কুচকাওয়াজের মাধ্যমে সালাম জানায়। প্রধানমন্ত্রী সালাম গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে মেরিন একাডেমীর কর্মকান্ড নিয়ে একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যেসব ক্যাডেটরা তাদের গ্রাজুয়েশন কোর্স সম্পন্ন করেছে তাদেরকে আমি একটি কথাই বলব দেশে হোক বিদেশেই হোক স্ব-স্ব কর্মস্থানে নিজ দেশের মান, সন্মান বজায় রেখে চলতে হবে।

আমাদের ছেলে-মেয়েরা অনেক বেশি মেধাবী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটু সুযোগ পেলে সেই যোগ্যতার স্বাক্ষর তারা জতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাখতে পারেন। কাজেই তাদের সেই সুযোগটা করে দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমী আন্তর্জাতিক সমুদ্রগামী জাহাজ পরিচালনার জন্য সুদক্ষ মেরিন ক্যাডেট ও অফিসার তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন একটি প্রতিষ্ঠান।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর মার্চেন্ট মেরিন অফিসার ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ার তৈরীতে এই প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৬২ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হলেও স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা এটিকে স্বয়ং সম্পূর্ণ ও আধুনিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তোলেন। তিনি ‘ডেভলপমেন্ট অব মেরিন একাডেমী’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খাতে সম্ভাবনার কথা ভেবে ২০১১ সালে ৪৫ ব্যাচের গ্রাজুয়টদের প্যারেডে উপস্থিত হয়ে আমি ‘ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলাম। ২০১৩ সনে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি’ নামে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে। খুব শীঘ্রই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস চট্রগ্রামের বাকলিয়াতে স্থাপিত হবে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থাওে আরো প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী হড়ে তোলার জন্য আরো ট্রেনিং একাডেমী গড়ে তোলা উদ্যোগ নিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমী ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি’ এর অধিভূক্ত প্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে বিশ্ব জুড়ে ওয়ার্ল্ড মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির থাকা ১৪ টি শাখার মধ্যে অন্যতম। ২০১১ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ২০১৫ সনে সিঙ্গাপুর পোর্ট অথরিটির প্রশিক্ষণ শাখা থেকে প্রশিক্ষণ-মান স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

এই একাডেমীর কমাড্যান্ট ‘চার্টার্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ার’ সাজিদ হোসেন ২০১৩ সালে ‘ওয়ার্ল্ড মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির’ বোর্ড অব গভর্নর্সে একজন গভর্নর নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তাকে অভিনন্দন জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজয়ের এই মাসেই বাংলাদেশ মেরিন একাডেমী আন্তর্জাতিক মান সূচক আইএসও ৯০০১ : ২০১৫ সনদ অর্জন করেছে। ইতিমধ্যে তিনটি ব্যাচে ৪৮ জন মেয়ে একাডেমীতে এবং বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের সমুদ্রগামী জাহাজে ধাপে ধাপে প্রশিক্ষন সমাপ্ত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের সময় বিভিন্ন সমুদ্ধ চুক্তি অনুস্বাক্ষরেরর প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, আমার সরকারের সময় ২০০০ সালে বাংলাদেশ ‘ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন’ এর হোয়াইট লিস্টভূক্ত হয়। ২০০১ সালে আমরা সরকারে থাকার সময় জাতিসংঘের ‘ল অব দি সী কনভেশন’-এ অনুস্বাক্ষর করেছি। সেই পথ ধরে ২০০৯ আন্তর্জাতির আদালতে আইনী লড়াই শুরু করি। তারপর ২০১৪ সালে আমরা ‘সমুদ্র বিজয়’ করি।

বর্তমান বিশ্ব প্রতিযোগিতামূলক এবং আমাদের মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদের আরো দক্ষ হবার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সাল থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন বছর মেয়াদী ডিগ্রী পাস কোর্সকে ৪ বছর মেয়াদী অনার্স কোর্সে উন্নত করা হয়েছে। এতে সমুদ্র বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ লাভ আরো সহজ হবে।

সমুদ্রচারী হিসাবে এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসাবে ক্যাডেটদের সর্বত্র দেশের সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে মর্যাদার সঙ্গে তুলে ধরতে এবং তার রাজনৈতিক অঙ্গকার ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ এ বং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image