যে অভ্যাসগুলো শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য হুমকিস্বরূপ

শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

লাইফ স্টাইল ডেস্ক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

যে অভ্যাসগুলো শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য হুমকিস্বরূপ

ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

দৈনন্দিন জীবনে ব্যস্ততার মাঝে আমরা এমন কিছু কাজ করে থাকি, যা স্বাভাবিক ও আপাতদৃষ্টিতে নিরাপদ মনে হলেও আদতে বেশ ক্ষতিকর। শুধু শারীরিক নয়, মানসিক ক্ষেত্রেও এই কাজগুলো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আমেরিকার টেক্সাস শহরের হিউস্টনে অবস্থিত দ্যা ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস হেলথ সাইন্স সেন্টারের ফ্যামিলি এন্ড কমিউনিটি মেডিসিন এট ম্যাকগভার্ন মেডিকেল স্কুল এর ভাইস চেয়ার ডা. গ্র্যান্ট ফওলার, এমডি জানিয়েছেন এমন কিছু প্রাত্যহিক জীবনের অভ্যাস ও কাজের কথা; যা একজন মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য হুমকিস্বরূপ।

প্রস্রাবের বেগ চেপে রাখা

ডা. গ্র্যান্ট ফওলার বলেন, ‘প্রস্রাবের বেগ অনেক বেশি সময় ধরে চেপে রাখার ফলে ব্লাডারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বেশি জন্মে এবং কিডনির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।’

তিনি জানান, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিডনি, ব্লাডার কিংবা প্রস্টেট সংক্রমণের ক্ষেত্রে প্রধান কারণ প্রস্রাব সঠিক সময়ে না করা। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় এমনটা মোটেও করা উচিত নয়।

প্রতিদিন চার থেকে সাতবার প্রস্রাব করা হলো সুস্থ ও স্বাভবিক শারীরিক কার্যকারিতার লক্ষণ। যদি চারবারের কম প্রস্রাব হয়ে থাকে, তবে বুঝতে হবে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিয়েছে।

অনবরত চুইংগাম চিবানো

অনেকেই মনে করেন, ঘনঘন চুইংগাম চিবানোর ফলে মুখের ভেতরের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং মুখের ভেতরের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে চুইংগাম চিবানোর ফলে চোয়ালের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। ইউনিভার্সিটি অফ পিটসবার্গ স্কুলস অফ হেলথ সাইন্স-এর ফ্যামিলি মেডিসিন ডিপার্টমেন্টের প্রফেসর অ্যান্ড্রিউ ডব্লিউ ম্যাথিসন জানান, প্রয়োজনের তুলনায় চোয়াল বেশি ব্যবহার করা হলে কম বয়সেই আর্থ্রাইটিসের সমস্যাসহ ব্যথার সমস্যা দেখা দেয়।

দাঁতে নখ কাটা

অল্প বয়স্ক থেকে পরিণত বয়স্ক- অনেকের মাঝেই দাঁতে নখ কাটার সমস্যা থাকতে পারে। গ্র্যান্ট ফওলার বলেন, ‘দাঁতে নখ কাটার অভ্যাসের জন্য নখের ভেতরে ও নখের চারপাশের ত্বকের সংক্রমণের সম্ভাবনা দেখা দেয়। কারণ দাঁতের সাহায্যে জীবাণু বেশি ছড়িয়ে থাকে। একইসঙ্গে হাতে থাকা বাইরের ক্ষতিকর জীবাণু ও ভাইরাস মুখের সাহায্যে শরীরে ঢুকে যায়। যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হিসেবে দেখা দিতে পারে।’

শুধু তাই নয়! তিনি জানান, নখ কাটার এই অভ্যাসের ফলে দাঁতে স্থায়ী ক্ষতি তৈরি হয়। এছাড়াও অকারণে দাঁতে নখ কাটার পেছনে বেশ কিছু সাইকোলজিক্যাল কারণ কাজ করে। যা অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার বহিঃপ্রকাশ করে থাকে।

নিয়মিত দাঁত ব্রাশ ও ফ্লসিং না করা

অনেকেই ভেবে থাকেন- একদিন কিংবা একবেলা দাঁত না মাজলে কিংবা ফ্লসিং না করলে তেমন কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু ডা. গ্র্যান্ট ফওলার বলেন, ‘অনিয়মিত দাঁত মাজা-ফ্লসিং করা দাঁত ও মুখের ভেতরের অসুখের প্রধান কারণ। বিশেষ করে দাঁতের মাড়িতে সংক্রমণসহ দাঁত ক্ষয়, দাঁতের গোঁড়ার রক্তপাতসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দেওয়ার অন্যতম মূল কারণ হলো অকারণে দাঁত না মাজা।’

দাঁতের ও মাড়ির যেকোনো ধরনের সংক্রমণ, প্রদাহ, রক্তপাত এড়াতে চাইলে প্রতিদিন দুইবার দাঁত মাজা আবশ্যিক।

সারাদিন কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকা

অ্যামেরিকান অপ্টোমেট্রিক অ্যাসোসিয়েশন-এর তথ্যানুসারে, সাত ঘণ্টার অধিক সময় কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের রেটিনায় মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব দেখা দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে গ্র্যান্ট ফওলার ‘২০-২০-২০’ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেন। এই নিয়মানুসারে প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য বিরতি নিতে হবে এবং ২০ ফিট দূরত্বে থাকা কোনো বস্তুর দিকে তাকাতে হবে।

তিনি বলেন, ‘এই নিয়ম মেনে চললে চোখের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব কম পড়বে এবং চোখের ভেতর শুষ্কভাব দেখা দেওয়া অথবা কোনো সমস্যা তৈরি হবার সম্ভবনা কমে যাবে।’

লম্বা সময়ের জন্য একই স্থানে বসে থাকা

একই স্থানে অনেক লম্বা সময়ের জন্য বসে থাকার ফলে শুধু শারীরিক ক্ষেত্রে নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে থাকে। একইসঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেওয়ার ফলে আচরণগত বেশ কিছু অস্বাভাবিকতা তৈরি হয়। অন্যদিকে শারীরিক ক্ষেত্রে ওজন বৃদ্ধি পাওয়া, ডায়াবেটিসের সমস্যা দেখা দেওয়া, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা তৈরি হওয়াসহ নানান ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে।

ঝুঁকে কাজ করা

বসে থাকা অবস্থায় অথবা দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় সামনের দিকে ঝুঁকে কাজ করার ফলে পুরো শরীরের ওপরে নেতিবাচক ও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে বলে জানান ডা. গ্র্যান্ট ফওলার। তিনি জানান, মানুষের মাথার ওজন বেশি হওয়ায় সামনের দিকে ঝুঁকে বা কুঁজো হয়ে কাজ করার ফলে ঘাড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। যার ফলে মাথাব্যথা, মেরুদণ্ডে ব্যথা দেখা দিয়ে থাকে। এমনকি সোজা হয়ে বসে কাজ না করার ফলে খাদ্য পরিপাকেও সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে।

এক কাঁধের ওপর অতিরিক্ত ভারী ব্যাগ বহন করা

ব্যাকপ্যাকের ক্ষেত্রে ভার বেশি হলেও দুই কাঁধ সমানভাবে ভার বহন করে থাকে বলে ঘাড়ের ওপর বাড়তি কোনো চাপ সৃষ্টি হয় না। তবে ভারী ব্যাগ এক কাঁধের ওপর বহন করলে সেক্ষেত্রে কাঁধ ভারের সমতা রক্ষা করতে পারে না। যার ফলে কাঁধ ও ঘাড়সহ হাতের পেছনের অংশেও সূচালো ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে। অ্যামেরিকান কাইরোপেট্রিক অ্যাসোসিয়েশন-এর তথ্যানুসারে শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ভারী ব্যাগ বহন করা একেকবারেই নিরাপদ নয়।

রাতে দেরী করে ঘুমানো

সঠিক নিয়ম মেনে রাতে ঘুমিয়ে পড়া ও সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের জন্য নিঃসন্দেহে উপকারী। তবে অকারণে অথবা কাজের ব্যস্ততার জন্য গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকার অভ্যাস শারীরিকভাবে নানান ধরনের ক্ষতির কারণ হিসেবে দেখা দেয়। রাতে জেগে থাকার জন্য ক্যাফেইন গ্রহণ করা ঘুমের স্বাভাবিক নিয়মে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে থাকে।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.