যে কারনে ধরাছোঁয়ার বাহিরে মাদকের গডফাদাররা

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম নিউজ ডেস্ক

শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

যে কারনে ধরাছোঁয়ার বাহিরে মাদকের গডফাদাররা

মাদকের অনেক গডফাদার চিহ্নিত করা সম্ভব হলেও সঙ্গে মাদক না থাকার কারণে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয় না বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ। নিজেদের নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও অনেক আসামিকে জেল হাজতে ঢুকালেও তারা বের হয়ে আবার মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়াচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আজ শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মাদক ব্যবসার অনেক গডফাদারকে চিহ্নিত করতে পারলেও তাদের সঙ্গে মাদক না থাকায় আমরা গ্রেপ্তার করতে পারি না। এছাড়া চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হলেও তারা কিছুদিন পর বের হয়ে আসে। তাদের কোনেভাবেই ধরে রাখা যায় না।

নারায়ণগঞ্জের হরিপুরে ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান

‘‘নানা সীমাদ্ধতায় মাদক নির্মূল আমাদের একার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে সারাদেশে আমাদের মোট ১ হাজার ৭শ’ ৬ জনবল কর্মরত, এর মধ্যে অপারেশনাল কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত ১ হাজার ১শ’ ৯১ জন এবং আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে ২শ ৩৬ জন কর্মরত আছেন’, বলেন জামালা উদ্দিন আহমেদ।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে লোকবল নিয়োগের জন্য ৮ হাজার ৫শ’ ৫ জনের একটি কাঠামো তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সেটি পাশ হলে লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। লোকবল বৃদ্ধি পেলে জেলা পর্যায়ে কাজের গতি আরো বাড়বে।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, চানখারপুল, গেন্ডারিয়া, টিটিপাড়া, খিলগাঁও, পুরানা পল্টন, ভাটারা, মতিঝিল, আরামবাগ, যাত্রাবাড়ী, দক্ষিণ বনশ্রী, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, তেজঁগাও রেলওয়ে বস্তি, গুলশান, উত্তরা, বেড়িবাঁধ এবং গাবতলী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এই অভিযানে মোট ৩৬ জন আসামীকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলো- কামাল, শরিফ, মাজুম খা, নাইম মিয়া, মিজানুর রহমান, রুবেল গাজী, কাওসার, সাইদ খান, আনোয়ার হোসেন খোকা, সিফাত, বিপ্লব, মানিক, রায়হান, তামিম হোসেন, মনি রানি বিশ্বাস, মফিজ ও জহিরুল ইসলাম।

নারায়ণগঞ্জের হরিপুরে ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান

নারায়ণগঞ্জের হরিপুরে ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান

এই অভিযানে ইয়াবা ১ হাজার ৯শ ৬৫ পিস, গাঁজা ২ কেজি ৬শ’ ৪০ গ্রাম, ফেনসিডিল ৫ বোতল, বিদেশি মদ ৭ বোতল, বিয়ার ৫ ক্যান, ১টি পিস্তল ও ৮ রাউন্ড গুলি, মোবাইল ফোন ৩টি এবং নগদ সাড়ে ৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরো জানান,  মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে তিন দিনব্যাপী বিশেষ সাঁড়াশী অভিযানে আটক ৩৬ জনের মধ্যে ১৭ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় ১৩ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর মাদকাসক্ত ১০ শিশুসহ মোট ১৯ জনকে চিহ্নিত করে তাদের চিকিৎসার জন্য মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.