রাজউকের নকশাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সাভারে ভবন নির্মাণের অভিযোগ

 

মাহফুজ হাসান, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

রাজউকের নকশাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সাভারে ভবন নির্মাণের অভিযোগ

রাজউকের নকশাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সাভারে নির্মাণাধীন অভিযুক্ত ১০ তলা ভবন।

সাভার : রাজধানী ঢাকাজুড়ে চলে রাজউকের নকশা উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণের মহড়া, আর এবার সে মিছিলে যোগ দিলো সাভারের আরেকটি চাঞ্ছল্যকর ঘটনা। ঘটনাস্থল পৌর এলাকার আরিচা মহাসড়কসংলগ্ন বহুতল ভবন যার নকশা পাশ করা হয় ২০১৫ সালে। রাজধানী উন্নয়ন কতৃপক্ষ ১৩ শতাংশ জমির উপর যে নকশা অনুমোদন করেন, সম্প্রতি নির্মাণকাজ পরিদর্শনে গিয়ে তাঁর সাথে বিস্তর পার্থক্য দেখতে পাওয়া যায়। 

যোগাযোগ করা হলে রাজউকের এক কর্মকর্তা বলেন, ভবন নির্মাণে প্ল্যান মেনে না চলাতে নির্মাণ কাজ বন্ধের জন্য ২২ মে মালিকপক্ষকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু মালিকপক্ষ এতে কর্ণপাত না করায় সাভার থানার মাধ্যমে নোটিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদানপূর্বক সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায় রাজউক আইনের ৩০৭/৩০৯ এবং ৩১০ ধারাকে তোয়াক্কা না করেই ১০ তলা ঐ ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছিল মহাসড়কের পাশে কোন রকমের অনুমোদন না নিয়েই ভবন নির্মাণের কাজ চালানো হচ্ছে। আর সবচেয়ে মারাত্মক অভিযোগটি হল আশেপাশের ভবনগুলোর জন্য কোন জায়গা না রেখেই ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে আর বেসমেন্টেরও নেই কোন অনুমোদন।

ভবন মালিক আব্দুস সালাম গং কিভাবে রাজউকের নির্দেশ উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তা জানতে চাওয়া হলে ঐ কর্মকর্তা জানান, আগে আব্দুস সালামকে সাভার পৌরসভা থেকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়া হলেও রাজউকের নকশার দোহাই দিয়ে তিনি কাজ চালিয়ে গেছেন। এখন সরজমিনে যখন প্রমাণ পাওয়া গেল যে তারা এই নকশাও মানছেন না তখন তাঁদের কাজ বন্ধের সব চেষ্টা করে যাচ্ছে রাজউক।

কিন্তু ২০১৫ সালে পৌরসভার কাছে যখন স্থানীয়ভাবে ভবন প্ল্যান পাশ করার ক্ষমতা আবার ফিরিয়ে দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, তখন থেকে রাজউকের তদারকি খর্ব হচ্ছে।

সাভার পৌরসভার কতৃপক্ষের কাছ থেকে এ ব্যাপারে শোনা গেছে ভিন্ন সুর। তাঁদের মতে রাজউকের প্ল্যান এর কোন কপি তাঁদের কাছে না থাকায় তাঁদের পক্ষেও কাজের তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না। তারা মনে করেন এমতাবস্থায় রাজউকের উচিত যদি নকশাবহির্ভূত কোন নির্মাণকাজ পরিচলনা হয়ে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা।

জানা যায়, কথিত নির্মাণাধানী ভবনটির নির্মাণকাজে জমি জালিয়াতির মাধ্যমে সাভারের ব্যাংক এশিয়ার হেমায়েতপুর শাখার মাধ্যমে প্রায় ৫ কোটি টাকা ঋণ গ্রহন করা হয়েছিল যা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাতে অভিযোগ প্রেরণ করা হয় এবং পুরো বিষয়টি এখন তদন্তনাধীন আছে।

সাভার থানায় যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, মালিকপক্ষকে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে আর সমস্ত বিষয়টি দেখভাল করতে একজন এস আই কে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.