রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা আদায়ের চ্যালেঞ্জ অর্জিত হবে’

বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৫

কে এম হাসনাত

NBR

সিটিজিবার্তা২৪ নিউজ ডেস্ক ঃ  সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কাছে রাজস্ব বাবদ পাওনা রয়েছে ২৩ হাজার কোটি টাকা।

এ টাকা আদায় হলে এযাবত কালের সর্বোচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা আদায়ের চ্যালেঞ্জ সফলভাবে অর্জন হবে বলে দাবি করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান।

শুধু তাই নয় চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। আর এ জন্য এনবিআরের সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারি একযোগে কাজ করছেন বলে তিনি জানান।

বুধবার রাইজিংবিডি’র সঙ্গে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন।

সাধারণত প্রতিবছর রাজস্ব প্রবৃদ্ধির হার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হয়ে থাকে। কিন্তু সরকারের রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চলতি বছরে প্রায় ৩০ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে। এই হার আগের বছরের যে কোন সময়ের চেয়ে উচ্চাভিলাষি এবং আদায় যোগ্য নয় বলে কেউ কেউ অভিমত প্রকাশ করলেও এ লক্ষ্যমাত্রা আদায় যোগ্য বলে দাবি করেছেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-অক্টোবর) এ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম হলেও গতবছরের তুলনায় প্রায় ২০০০ কোটি টাকা বেশি আদায় হয়েছে। অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে আদায় হয়েছে ৩০ হাজার ১২৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে গত বছর আদায় হয়েছিল ২৮ হাজার ২১৯ কোটি টাকা। বছর শেষে এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রাজস্ব পাওনা রয়েছে। এর মধ্যে বিপিসি ও পেট্রোবাংলার কাছে সবেচেয়ে বেশি পাওনা আছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, অর্থ মন্ত্রণালয় ও জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে এসবের নিষ্পত্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে।

সূত্র জানায়, সর্বশেষ এনবিআরে ৩ অক্টোবর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়। এতে বিপিসি’র চারটি বিপণন কোম্পানির কাছে অগ্রিম ভ্যাট বাবদ দুই হাজার ১৮ কোটি টাকা পরিশোধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। এই ভ্যাট যে কোন সময়ে আদায় হবে।

বিপিসি’র অধীন চারটি বিপণন সংস্থা হচ্ছে মেসার্স পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লি.। এসব প্রতিষ্ঠান জুলাই ২০১৩ থেকে জুন ২০১৫ পর্যন্ত জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক ডিজেলের ওপর নির্ধারিত প্রতি লিটার ভ্যাট ও ব্যবসায়ি পর্যায়ে ভ্যাট ৯ দশমিক ৬৮ টাকা হারে নির্ধারণ ও তা ভোক্তাদের কাছ থেকে আদায় করলেও তা যথাযথভাবে পরিশোধ করেনি।

এই টাকা বিপিসির নিজস্ব অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছে। ফলে ট্যাক্স বাবদ ২ হাজার ১৮ কোটি টাকা পাওনা হয়েছে। অন্যদিকে বিপিসি’র কাছে চট্রগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেটের দীর্ঘদিনের ভ্যাট বাবদ মোট ৬০৩ কোটি টাকা আগের পাওনা পড়ে আছে। এই বকেয়া আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জমা করা হবে মর্মে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।

সূত্র জানায়, পেট্রোবাংলার কাছে বৃহৎ করদাতা ইউনিট ভ্যাট প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার দাবিনামা সৃষ্টি হয়। ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিপণন পর্যায়ে পেট্রোবাংলার অধীনে গ্যাস বিতরণকারী কোম্পানিগুলোর উৎপাদনকৃত গ্যাস বিতরণের সময়ে গ্রাহকের কাছে ভ্যাট বাবদ আদায়কৃত প্রায় ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা সরকারী কোষাগারে জমা হয়নি। ফলে এই টাকা এবং ভ্যাট আইন অনুযায়ী সুদ দন্ড বাবদ আরো নয় হাজার ৮০ কোটি টাকা পাওনা হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, রাজস্ব বকেয়ার এবিষয়টি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নজরে আনা হলে তিনি একটি ডিও চিঠি দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ মার্চ তার সভাপতিত্বে একটি সভাও হয়। জ্বালানি উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সভায় যথাযথভাবে কর পরিশোধের সিদ্ধান্ত হলেও এখন পর্যন্ত তা পরিশোধের অপেক্ষায় আছে।

সর্বশেষ গত ৩ অক্টোবর এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এসব টাকা পরিশোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। জ্বালানি মন্ত্রণালয় এই টাকা পরিশোধের আগে বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের বিশেষ টিম কর্তৃক যাচাই করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষযে এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, বছর শেষে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। বকেয়া কর আদায়, আদালতে ঝুলে থাকা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ, বড় ধরনের রাজস্ব ফাঁকি রোধ, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধে তৎপরতা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই অর্জন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন ব্যবসা বান্ধব ও ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টিতে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সম্মানিত ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক ও পারস্পারিক যোগাযোগ স্থাপনে সম্প্রতি এনবিআর নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এতে কর্মকর্তাদের মাঝেও ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে।

সূত্র জানায়, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার প্রায় সাত শতাংশের কম। বৃষ্টি ও নানা জটিলতায় এই ব্যয় কম হয়েছে। ফলে উৎসে কর্তনের ওপর কর ও ভ্যাট আদায় কম হয়েছে। তবে বছর শেষে এডিপি বাস্তবায়নের হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজস্ব আদায়ও বেড়ে যাবে। সাধারণত জুলাই-অক্টোবর মেয়াদে এডিপি বাস্তবায়নের হার কম হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। শুষ্ক মৌসুমে এই কাজ শুরু হলে স্বাভাবিক নিয়মে রাজস্ব আসবে।

একইসঙ্গে অন্যান্য বছরে অক্টোবরে ট্যাক্স রিটার্ন দাখিলের সময় শেষ হয়ে যায়। এবার করদাতাদের অধিকতর সুবিধা দেওয়ার জন্য এই সীমা নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এখনও অনেক করদাতা রিটার্ন দাখিল অপেক্ষায় আছেন। রিটার্নের সময় উত্তীর্ণ হলে রাজস্ব খাতে ট্যাক্স বেড়ে যাবে। তাছাড়া, চলতি মাসে শীতকালীন একটা করমেলা আয়োজনে অর্থমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, অন্যান্য বছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা প্রথম ছয় মাসে কম করে নির্ধারণ করা হতো এবং পরের ছয় মাসে বেশি করে ধরা হতো। কিন্তু বর্তমান বছরে সবাইকে সম্পৃক্ত করার জন্যে এবং মাসভিত্তিক কৃত কর্মের মূল্যায়নের স্বার্থে প্রতি মাসে সমান ভাগে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এতে মনিটরিং বাড়বে, অন্যদিকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। রাজস্ব আদায়ে এনবিআর চলতি অর্থবছরে পূর্বের তুলনায় নজির স্থাপন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সূত্র রাইজিং বিডি

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.