রায় ও ভাঙ্গন আতঙ্ক বিএনপিতে নাই

Sunday,31 Dec 2017

Ctgbarta24.com

মেজর আখতার ( অবঃ)। ফাইল ছবি

বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে দৈনিক প্রতিদিনে “ রায় ও ভাঙ্গন আতঙ্কে বিএনপি” শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে যা পুরোপুরি সত্য নয় বলে বিএনপির সাধারন নেতাকর্মীরা মনে করে। কারন একটি সাজানো মিথ্যা মামলায় বিতর্কিত রায় দিয়ে সরকার আগামী নির্বাচনকে ঝুকির মধ্যে ফেলবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাল করেই জানে বিএনপি নেতৃ বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করলে সেই নির্বাচন দেশে ও বাইরে কারো কাছেই গ্রহনযোগ্য হবে না। বিএনপি মানেই খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়া ছাড়া কোন বিএনপি নাই। চামচিকা যেমন পাখী না তেমনি বিএনপির কতিপয় নেতারা বিএনপি না। কাজেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পানিতে পরে নাই যে বেগম খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে গিয়ে নিজেকে পানিতে ফেলার ঝুঁকি নিবে।

গত চার বছর বিভিন্ন কৌশলের কারনে প্রধানমন্ত্রী যে দাপটের সঙ্গে দেশ চালিয়েছে ১৮ সনের শেষে এসে তা থাকবে না। ক্ষমতার পরবর্তী ধাপে যেতে হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি গ্রহনযোগ্য নির্বাচন প্রয়োজন এবং তা সম্ভব যদি বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে।
এমতাবস্থায় একটি মিথ্যা মামলার রায় দিয়ে সেই নির্বাচনকে ঝুকির মধ্যে ফেলে দেয়ার পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী নিবেন বলে যারা মনে করেন আমি তাদের দলে নই।
বিএনপির ভাঙ্গন রাজনীতির চলমান প্রক্রিয়া। প্রতিটি রাজনৈতিক দলে বিশেষ করে যখন দল ক্ষমতায় থাকে তখন দলে অনেক সুবিধাবাদীদের অনুপ্রবেশ ঘটে যারা বিরোধী দলে থাকতে চায় না। বিএনপি মুলত একটি প্ল্যাটফরম যেখানে প্রধান নিয়ন্ত্রক হলেন দেশনেতৃ বেগম খালেদা জিয়া। এর বাইরে বিএনপি একটি পরিত্যক্ত ডাষ্টবিন যেখানে শুধু পচা ময়লার ভাগার। সরকারের একটি রিক্রুটিং এজেন্সী তাদের রুটিন কার্যক্রম চালাতে এবং রাজনীতিতে তাদের অবস্থান ধরে রাখতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সুবিধাবাদী অসহীষ্নু রাজনীতিবিদদের লোভ লালসা বা কখনও কখনও ভয়ভীতি দেখিয়ে ঐ সকল অচল নেতাদের সচল রাখার চেষ্টা করে। দেশের ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি প্রতিপক্ষ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভিতরের তাজা খবর জানতে মুখিয়ে থাকে কিন্তু বিরোধী শিবিরের কোন ভাল বা শক্তমান খবর শুনতে তাদের থাকে চরম অনিহা। বিরোধী পক্ষের ভাল খবরে ক্ষমতাসীনেরা অসহিষ্নু হয়ে যায় এবং তখন বিরোধী পক্ষের উপরে বিভিন্ন ধরনের হামলা চালায়। এই জন্য সাধারনত রাজনৈতিক রিক্রুটিং এজেন্সী সরকারের বিরোধী ঘরে বিভিন্ন অশান্তি সৃষ্টি করে নেতিবাচক অবস্থান তৈরী করে যাতে তারা সরকারকে সন্তুষ্ট রাখতে পারে। রিক্রুটিং এজেন্সীর এই খবর তৈরীর প্রক্রিয়ার কারনে রাজনৈতিক গতিপথে ঘুর্নাবত সৃষ্টি হয় এবং দল ভাঙ্গা গড়ার খেলা জমে উঠে। এই খেলা কিন্তু উভয়মুখী এবং এটি সম্পুর্নভাবে রাজনৈতিক রিক্রুটিং এজেন্সীর খেয়াল খুশী এবং তাদের উচ্চাভিলাস মত তবে ফল কোন সময়ই ভাল হয় না। এ ভাবেই অতিতে যেমন কোন শক্তিই ক্ষমতায় স্থায়ীভাবে থাকতে পারে নাই তেমনি ভবিষ্যতেও কেও ঠিকে থাকতে পারবে না। এতে শুধু রাজনৈতিক পরিবেশ কলুষিত এবং রাজনীতিকে কলঙ্কিত করা হয়। তাই সচেতন মানুষ মনে করে রাজনীতিকে স্বাভাবিক গতিতে চলতে দেয়া উচিত এবং নেতা নেতৃদের সময়ের সীমাবদ্ধতাকে মেনে নেয়া উচিত।

যাইহোক রিক্রুটিং এজেন্সী গুলি সব সময় রাজনৈতিক দলগুলির ভারসাম্য নষ্ট করার চেষ্টা চালিয়ে যাবেই তবে এতে আদর্শ বা কর্মসুচী ভিত্তিক রাজনৈতিক দলের সমস্যা হয় না। বরংচ এতে মুল দলের আরো বেশি প্রসার ঘটে এবং রিক্রুটিং এজেন্সীগুলি তাতে ইতিবাচক সহায়তা করে। কিন্তু বিএনপির প্রধানতম সমস্যা হচ্ছে এটি কোন আদর্শগত বা কর্মসুচী ভিত্তিক দল নয় যার ফলে এর ভিতরে অন্ত্রস্রোত অনেক বেশি। এখানে ভাঙ্গন খুব সহজ এবং দ্রুত। কিন্তু বিএনপির সবচেয়ে বড় এসেট হলো এর মধ্যাকর্ষন অর্থাৎ দলের এককেন্দ্রিক নেতৃ বেগম খালেদা জিয়া। তিনি হলেন দলের গ্রীষ্মকালের দুপুরের প্রখর সুর্যের মত যার আশে পাশে কোন অন্ধকার থাকতে পারে না ফলে অন্য কোন আলোর উৎসও সেখানে থাকতে পারে না। যতদিন বেগম খালেদা জিয়া বেঁচে থাকবে ততদিন বিএনপি ভাঙ্গা কোন শক্তির পক্ষেই সম্ভব নয়।

মেজর অব আখতার, সাবেক সংসদ সদস্য।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.