‘রেডিয়েশন’ তেজস্ক্রিয়ার হুমকিতে বাংলাদেশ

সিটিজিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম

শুক্রবার, ২২ এপ্রিল ২০১৬

'রেডিয়েশন' তেজস্ক্রিয়ার হুমকিতে বাংলাদেশ

প্রতীকি ছবি

মোবাইলফোন সারা বিশ্বে তথ্য ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক অনন্য বিপ্লব সাধন করেছে। দৈনন্দিন জীবনে আমাদের মোবাইল ব্যবহার করতেই হবে এটা ছাড়া আমাদের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে অন্যতায়। তবে এর ব্যবহারে আমাদের জীবনের বিশাল এক ক্ষতিকারক দিক রয়েছে।

‘মোবাইল রেডিয়েশন’, ‘ওয়াইফাই রেডিয়েশন’ ও নেটওয়ার্কের জন্য স্থাপিত টাওয়ার রেডিয়েশনের প্রভাবে মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা প্রতিনিয়ত মোবাইল অপারেটর কোম্পানী গুলোর মাত্রাতিরিক্ত বানিজ্যিক মুনাফা লাভে আর দেশে বহুল প্রচলিত পত্র পত্রিকা , ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিজ্ঞাপন ব্যবসা পরস্পর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিধায় জনস্বার্থ বিষয়ে মিডিয়া সরব না হয়ে এ বিষয়ে যথাযথ নীরবতা পালন করে।

মোবাইল ফোনের ব্যবহারে সুফল যেমন পেয়েছি বর্তমানে ‘রেডিয়েশনের’ কুফল ভোগ করছি আমরা তার দ্বিগুণ। আমাদের এর ক্ষতিকর প্রভাবে প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে তা জেনে রাখা ভালো। মোবাইলফোনে কল ইনকামিং-আউটগোয়িংয়ে দীর্ঘ সময় ধরে একনাগাড়ে কথা বলার এক পর্যায়ে মাথায় ব্যাথা থেকে চক্কর দিতে শুরু করে পরবর্তীতে কানও গরম হয়ে যায়। মোবাইলে ‘রেডিয়েশন’ ব্যবহারের ফলে দেশের অগণিত শিশু এখন ‘অটিজমে’ (মানসিক প্রতিবন্ধী) আক্রান্ত হচ্ছে। সমস্যার আর একটি দিক হলো, আমরা যখন ফোনে কথা বলি না, তখনও ওই বিকিরণ আমাদের ক্ষতি করে চলে। মোবাইল অন থাকলেই তাতে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ আসতে থাকে টাওয়ার থেকে। কানে ফোন নিয়ে কথা বলার সময় সেটি মস্তিষ্কের একেবারে কাছে চলে আসে। বিকিরণ প্রবাহিত হতে থাকে শরীরের মধ্যদিয়ে।

রাত ১২টার পর মোবাইল অপারেটরগুলোর নানান রকমের লোভনীয় অফারের কারণে অনেকের সকালে ঘুম থেকে উঠে কাজে মন দিতে সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ায় সমস্যা হচ্ছে অপারেটরগুলোর ইন্টারনেট প্যাকেজ ব্যাবহারের সুযোগের ফলে উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েরাও বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।

‘রেডিয়েশন’ কি? প্রতিটি মৌলিক পদার্থের পরমাণুর ওজন এর নিউক্লিয়াস-এর মধ্যস্থ নিউট্রন ও প্রোটন এর সমষ্টির সমান। যেসব মৌলের পরমাণুর ওজন বেশী (সাধারণতঃ ২০০-এর উপর বা এর কাছা-কাছি) তাদের বলা হয় ভারী মৌল। এসব ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্ত-ভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গত হয়, এই প্রক্রিয়াকে-ই তেজষ্ক্রিয়তা (Radio-activity) বলে। ‘তেজস্ক্রীয় রশ্মি’ বা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এক প্রকার ত্বড়িৎ চুম্বকীয় বিচ্ছুরিত শক্তি । যেন আকাশে বিদ্যুৎ চমকানো অথবা এক মুঠোফোন থেকে অন্য ফোনে কথোপকথন ও বার্তা আদানপ্রদান এ শক্তির মাধ্যমে হয়ে থাকে। সেই শক্তিটিকে ‘রেডিয়েশন’ বলা হয়।

আন্তর্জাতিক ক্যান্সার রির্সাস সংস্থার মতে, অতিমাত্রায় রেডিয়েশনের কারণে ব্রেইন ক্যান্সার হতে পারে। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন এর মতে, অতিমাত্রায় মোবাইল ব্যবহারে শরীরের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। দীর্ঘক্ষণ কথা বলার কারণে কানের সমস্যা, কানে ঝিমঝিম করা, কানের ভিতরে ব্যথা, ব্রেইনের নিউরনের ক্ষতি, ব্রেনের কোষ দুর্বল হয়ে যেতে পারে।  তাছাড়া আলঝেইমারস, পারকিনসনস, ক্লান্তি , মাথাব্যথা হতে পারে ।

ফিনল্যান্ড বিজ্ঞানী ডেভিস দাবি করেছেন, রেডিয়েশন এর কারণে বুক পকেটে মোবাইল খোলা রাখলে হার্টের ওপর প্রভাব ফেলে। তিনি সারা বিশ্বের কাছে রেডিয়েশনের ক্ষতির দিক তুলে ধরেন তার ‘ডিসকানেক্ট’ দ্যা ট্রুথ এবাউট সেলফোন রেডিয়েশন’ নামের বইতে। আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী। ফলে মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারছে না। শিশুরা এক মিনিট মোবাইল ফোনে কথা বললে ব্রেনে যে কম্পন তৈরি হয়, সে কম্পন স্থির হতে দু’ঘণ্টা সময় লাগে।

এ ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিং রেডিয়েশনের মধ্যে দীর্ঘ সময় চললে মানুষ অকাল বৃদ্ধের সম্মুখীন হতে পারে। ভুগতে হবে দৃষ্টিহীনতায় এবং নানা রকম চর্মরোগে। আক্রান্ত হচ্ছে ক্যান্সার, মস্তিষ্কে ক্যানসার, এ্যাজমা, টিউমার, ব্রেইন টিউমার, ব্লাড ক্যানসার, দৃষ্টিহীনতার মতো নানান জটিল রোগে। কিডনি রোগ, কানের স্মায়ূতন্ত্রের, শ্রবন শক্তি হ্রাস, রক্ত সঞ্চালনের বিঘ্ন, বুক ব্যথা, চর্ম রোগ, ক্যান্সার, হ্যার্ট এট্যাক, চোখের সমস্যা, ব্রেনের অক্ষমতাসহ বিভিন্ন রোগ হতে পারে।

মোবাইল চালু অবস্থায় প্যান্টের পকেটে থাকলে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা কমে যায়, যৌনাঙ্গ চিকন, দূর্বল, শুক্রানু কমে যায়। এ ধরনের ক্ষতিকর তরঙ্গ শুক্রাণুর ওপর প্রভাব ফেলে এবং শুক্রাণুর ঘনত্ব কমিয়ে দিতে পারে। গর্ভবর্তী মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে বেশী মারাত্নক। মোবাইল ফোনের সংস্পর্ষে থাকা প্রতি ৪ জন শিশুর মধ্যে ১ জন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকে। মোবাইল রেডিয়েশনের ফলে মারাত্বক টিউমার সৃষ্টি করে।

ডা. প্রান গোলাপ দত্ত জানায়, প্রতি ১৫ মিনিট একটানা কথায় মাথার তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি বৃদ্ধি পায় এবং ২০ মিনিট ২ ডিগ্রি বৃদ্ধি পায়। যার কারনে কানে ও ব্রেনে সমস্যা হতে পারে।

‘ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার’ ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে যে,  মোবাইলের বিকিরণ ক্ষেত্র বা ‘রেডিওফ্রিকোয়েন্সি ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড’ মানুষের পক্ষে ক্যান্সারের সম্ভাবনা বহনকারী বা ‘কারসিনোজেনিক’ হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন’ জানিয়েছে, সার্বিকভাবে ‘বায়োলজিক্যাল সিস্টেম’, বিশেষত মস্তিষ্কের ওপর মোবাইল ফোনের নেতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে। এ ছাড়া মোবাইল ফোনের বিকিরণ প্রভাবে কোষের অন্যতম উপাদান ডিএনএ ভেঙে যেতে পারে, মস্তিষ্কে গ্লুকোজ বাড়তে পারে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, মোবাইল রেডিয়েশনে টিউমার সৃষ্টি করে এবং প্রতি ১৫ মিনিট একটানা কথায় মাথার তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি বৃদ্ধি পায় এবং ২০ মিনিট ২ ডিগ্রি বৃদ্ধি পায়। যার কারণে কানে ও ব্রেনে সমস্যা হতে পারে।

ওয়াই-ফাই রেডিয়েশন:

ওয়াইফাই, ব্লুটুথ তথা ওয়্যারলেস প্রযুক্তির ব্যাবহার বর্তমান যুগে অনেক বেশি । ওয়্যারলেস রাউটার কিংবা ওয়াইফাই মডেম এ ব্যবহার করা হয় এক ধরনের electromagnetic radiation যার সাহায্যে আমরা আমাদের কম্পিউটার এ সংকেত গ্রহন করে থাকি। আমাদের বাসা কিংবা অফিসে বিভিন্ন রকমের ওয়াইফাই বা ওয়্যারলেস রাউটার বা রাউটিং প্রযুক্তি ব্যাবহার করা হয়ে থাকে যা থেকে ভয়ংকর ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন ছড়ায়।

ওয়াগেনিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, ‘ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক থেকে নির্গত রেডিয়েশন বড় বড় গাছের মৃত্যুর কারন হতে পারে।ওয়্যারলেস রাইটারের নিকটে গাছ লাগানো হলে গাছের শাখা ও পাতা ঝরে যায়। ওয়াই-ফাই থেকে নির্গত রেডিয়েশন কেবল গাছের নয় মানুষের শরীরেও প্রভাব ফেলতে পারে।’

গবেষকরা জানিয়েছেন, ‘ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক উৎসের নিকট থাকা গাছগুলোর পাতায় সীসার মতো এক ধরনের উজ্জল প্রলেপ পড়ে। ‘রেডিয়েশন’ এর ফলে গাছের পাতা মারা যায়, ফলে গাছের বৃদ্ধিও কমে যায়। ওয়্যারলেস লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক ই এর জন্য দায়ী।’

নেদারল্যান্ডের শহরে এলাকায় শতকরা ৭০ ভাগ গাছেই রেডিয়েশনজনিত সমস্যা দেখা গেছে।

কিছু কিছু ওয়্যারলেস মডেম এবং যে ফ্রিকয়েন্সি তে রেডিও সিগন্যাল ট্রান্সমিট করা হয় তা একটি মাইক্রোওয়েব ওভেন এ খাবার গরম কিংবা রান্না করার ফ্রিকুয়েন্সির সমপরিমাণ। আপনি যখন আপনার মোবাইল কিংবা পিসি থেকে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক সার্চ করেন তখন আশে পাশের ওয়াইফাই সংযোগগুলোও সংকেতে দেখায়।

কিন্তু এটা কিভাবে দেখায়? আপনি অথবা আপনার প্রতিবেশী যখন সার্চিং করে তখন তরঙ্গ চলাচল করার সময় তার আশে পাশে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি করে যা থেকে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন উৎপন্ন হয়। এই ভাবে এই সকল তরঙ্গ আপনার দেহের ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন ক্যান্সার এবং স্কিন ক্যান্সার এর সৃষ্টি করতে পারে। একটি ওয়্যারলেস রাউটার এর যথোটা নিকটে আপনি থাকবেন আপনার চারদিকে তরঙ্গ তথা রেডিয়েশনের মাত্রা তত বেশি থাকবে এবং আপনি ততবেশি শারীরিক এবং মানসিক ঝুঁকির সম্মুক্ষিন হবেন।

মোবাইল টাওয়ার রেডিয়েশন:

মোবাইল টাওয়ার রেডিয়েশন এক নীরব ঘাতকের নাম। এব্যাপারে বিজ্ঞানীরা বলছেন,  এটি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের চেয়েও বেশী ভয়াবহ এবং তীব্র। মোবাইল টাওয়ার ও তার শক্তিশালী এ্যান্টেনার কাছাকাছি বসবাস করা মারাত্মক ক্ষতিকর। টাওয়ার থেকে নির্গত আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি মানবদেহের সেলগুলোর ওপর মারাত্মক বিষ্ক্রিয়া ঘটায়। এতে দেহে আলাদাভাবে ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিং রেডিয়েশন উৎপন্ন হলে সেলের বিকৃতি ঘটে। দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।

মোবাইল টাওয়ার রেডিয়েশনের কারণে মানুষের টিউমার, আলঝেইমার, ব্রেইন টিউমার, ক্যান্সার, বন্ধ্যাত্ব, নিদ্রাহীনতা, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও গর্ভপাত সহ মারাত্মক রোগসমূহ অকল্পনীয় মাত্রায় বেড়ে গেছে।

এছাড়াও এর “রেডিয়েশন” আমাদের ব্রেইনের ভেতরে প্রবেশ করে ডিএনএ ভেঙ্গে মারাত্মক ক্ষতি সাধন করতে পারে। বিকিরণের জেরে শরীরে ডিএনএ-র পুনর্বিন্যাস ও ক্রোমোজমের ক্ষয়ের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। দেহের নার্ভের সেল নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং মানুষ পারকিনসন্স, আলঝেইমারস প্রভৃতি শিরাঘটিত দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে।’

এর ফলে ভবিষ্যতে দেশে ‘একটি বিকলাঙ্গ, মেধাশূন্য ও অকেজো প্রজন্ম সৃষ্টি হতে পারে’। এইসব রোগের বাহ্যিক লক্ষণ হল শরীরে ঝিম ঝিম ভাব হওয়া, মাথাব্যথা, হজমের ক্ষমতা কমে যাওয়া, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, অবসাদ, বিষণ্ণতা, অহেতুক ভয় করা এবং কাজে অমনোযোগী হওয়া, স্মরণশক্তি কমে যাওয়া ও ভুলে যাওয়া।

“বিশেষজ্ঞদের হিসাব মতে যেসব প্রতিষ্ঠানের ছাদে বা কাছাকাছিতে টাওয়ার বসানো হয়েছে, তার বিকিরণের কুপ্রভাবে এখনকার শিশুরা ২০ বছর পরে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে।”

‘উন্নত দেশে মোবাইল টাওয়ারগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং আবাসিক এলাকা থেকে বহুদূরে অবস্থিত। অথচ কৃষি নির্ভর অর্থনীতির বাংলাদেশে চিত্র উল্টা। মোবাইল টাওয়ার রেডিয়েশনের নেতিবাচক প্রভাব নিকট ভবিষ্যতে ফসল উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা সর্বোপুরি জীবন ও জীবিকায় ভয়াবহ বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে মোবাইল টাওয়ার থেকে আরেক টাওয়ারের সংযোগ হয় মেগনেটের মাধ্যমে। এটির সাথে আকাশের বজ্রপাতের একটা সম্পর্ক রয়েছে। যার কারনে সাম্প্রতিক সময়ে বজ্রপাতে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। মোবাইল টাওয়ার জীববৈচিত্র্যে জিনগত পরিবর্তন ঘটাচ্ছে।

পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। টাওয়ারের আশপাশের গাছপালা মড়কের শিকার হচ্ছে অথবা ফলন কম হচ্ছে। মাটির জৈবশক্তিও নষ্ট করছে। টাওয়ারের বিকিরণের ফলে পশু-পক্ষী ও জীবজগতের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

এক জরিপে দেখা গেছে, ‘মোবাইল টাওয়ারের ইএমআর এর প্রভাবে বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ (নারিকেল জিঞ্জিরা নামে পরিচিত) সেন্টমার্টিনদ্বীপে নারিকেল গাছে ডাবের উৎপাদন কমে যাওয়া, অকালে ঝরে যাওয়া, অধিকাংশ ডাব-নারিকেলে পানি না থাকা, আকারে ছোট হওয়া সহ অনেক গাছ মারা যাচ্ছে।’

‘মোবাইল টাওয়ার থেকে নির্গত ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক রেডিয়েশন (ইএমআর) ঘটিত ইলেক্ট্রো স্মোগ এতই মারাত্মক যে এটি পশু, পাখি, পোকামাকড় এমনকি মানুষের বায়োলজিক্যাল সিস্টেমকে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছে।’

যুক্তরাষ্ট্রে এক গবেষণায় দেখা গেছে যে,  গত কয়েক বছরে মৌমাছি সংখ্যা প্রতিনিয়ত মারাত্মক হারে কমে যাচ্ছে। যার কারণ হিসেবে তড়িৎ চুম্বকীয় রেডিয়েশন (ইএমআর) বৃদ্ধি জনিত দূষণকে দায়ী করা হয়েছে।

পিঁপড়ার উপর গবেষণায় দেখা গেছে,  ইএমআর এ উন্মুক্ত পিপড়া তাদের ঘ্রাণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি এবং স্মৃতিশক্তি কয়েক ঘন্টার মধ্যে হারিয়ে ফেলে (কেমার্ট, ২০১২)। আলফোসনো বালমোরি (২০০৫ সালে) প্রমাণ করেন, ইএমআর এর প্রভাবে চড়ুই, ঘুঘু, সারস, দোয়েল এবং অন্যান্য প্রজাতির পাখির বাসা এবং স্থান পরিত্যাগ, পাখা কমে যাওয়া এবং গমন ক্ষমতা কমে যায়।

‘রাশিয়ায় এক গবেষণায় দেখা গেছে,  ডিম ফুটানোর সময়ে জিএসএম ফোনের কাছে উন্মুক্ত শতকরা ৭৫ ভাগ মুরগির ভ্রুণ নষ্ট হয়ে যায় এবং মোবাইল টাওয়ারের পাশের পাখির বাসা থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে পাখি বাসা ত্যাগ করে এবং ডিম থেকে বাচ্চা ফুটেনা।’

প্যারাগুপোলাস এবং মার্গারিটিস বিজ্ঞানীদ্বয় প্রমাণ করেন যে,  ‘ডিজিটাল জিএসএম ফোনের কাছে উন্মুক্ত ফ্রুট ফাইয়ের প্রায় ৫০ ভাগ পর্যন্ত প্রজননের ক্ষমতা কমে যায়। পুরুষ ও মহিলা পোকা উভয়েকেই প্রতিদিন ৬ মিনিট করে রেডিয়েশনে উন্মুক্ত রাখলে ৪-৫ দিনেই যদি ৫০ ভাগ প্রজনন ক্ষমতা কমে যায়।’

‘আলফোসনো বালমোরি ২০০৬ সালে সর্বপ্রথম মাইক্রোওয়েভ রেডিয়েশনের প্রভাবে ব্যাঙের নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার যোগসূত্র একটি নিবন্ধে তুলে ধরেন। ইএমআর ব্যাঙাচির চলনে অক্ষমতা, অসমবৃদ্ধি এবং ঊচ্চ মৃত্যুহার (৯০%) ঘটাতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে যে, ইএমআর এর প্রভাবে মাছ এবং বাঁদুর নাটকীয় ভাবে মারা যাচ্ছে। দুগ্ধবতী গাভীর দুধ উৎপাদন কমে যায়, স্বতঃস্ফূর্ত গর্ভপাতসহ প্রজনন স্বাস্থ্যের মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। মোবাইল টাওয়ারে পাশে অবস্থানকারী গাভীর শতকরা ৩২ ভাগ বাছুরই চোখের ছানি পড়া সমস্যায় ভোগে (হাসিগ, ২০১২)। ইএমআর উত্তাপ সৃষ্টির জন্য দায়ী। যার ফলে মাটিতে বসবাসকারী পোকামাকড় ও অণুজীব সমূহ মারা যায়। যা বাস্তুচক্রে বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে। রেডিয়েশনের প্রভাবে ব্যাসিলাস সাবটিলিস, মাইকোব্যাকটেরিয়াম ধ্বংস হয়ে যায় (বরিক এবং ফগার্টি, ১৯৬৭)।

‘ইএমআর এর প্রভাবে সুগার ফারমেন্টেশনের সময় ইকোলাই এর বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হয় বিশেষ করে জীবিত কোষের সংখ্যা কমে যায়। গাছপালা, ফসল, শাকসবজিতে তড়িৎ চুম্বকীয় রেডিয়েশনের নানা নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে।’

উল্লেখ্য, ‘১৯৯৩ সালে বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের ব্যবহার চালু হওয়ার পর ১৯৯৬ সাল থেকে রেডিয়েশনের ক্ষতিকর প্রভাবগুলো প্রতিনিয়ত হজম করছি। মোবাইল সংযোগ চালু থাকলে বিরতিহীনভাবে কথা বলার শেষ যেমন নাই তার সাথে শেষ নেই ইন্টারনেটের ব্যাবহারেও। বিশ্বের অন্য কোন দেশে মোবাইলে আমাদের মতো এত্ত কথা বলা এবং ইন্টারনেটে অলস সময় অতিবাহিত অন্য কোথাও হয় কিনা জানা নেই তবে এসএমএস এর ব্যবহার বেশী হয়ে থাকে।’

আমাদের দেশের মোবাইল কোম্পানীগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় এসএমএসের উপর নূন্যতম চার্জ নির্ধারণ করে দিলে অনেক কাজ ম্যাসেজ আদান প্রদানে সম্পন্ন করা সম্ভব হতো।

লেখক

মাহাবুবুল করিম

প্রকাশক : Ctgbarta24.com

ইমেইল : ctgbarta24.com@gmail.com

মোবাইল : ০১৮৩২৭৩৭৩৫০

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.