আপন শেকড়

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

ইয়ামেন হক

আপন শেকড়

আমি জন্মসূত্রে আমেরিকান নাগরিক, আমার বাবা মা আশির দশকের প্রথম দিকে এদেশে পিএইচডি করার সময় আমার জন্ম। অবশ্য দুই/তিন মাসের মধ্যেই আমি বাংলাদেশে ফিরে যাই, এ লেভেলের পরে ২০০১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকাতে ফিরে আসি।

ভার্সিটি লাইফে ২০০৩ সালের দিকে আমার ডর্মমেট ছিল রায়ান লেহি নামে একটা ছেলে। বিশালদেহী সাদা আমেরিকান, আইরিশ বংশোদ্ভূত। জীবনে আয়ারল্যান্ডে যায়নি, কিন্তু নিজের আইরিশ রক্ত নিয়ে খুবই গর্ব। এটা অবশ্য আমার চেনা বেশীরভাগ আইরিশ আমেরিকানদের মধ্যেই দেখেছি। তারা নিজেদের শেকড় নিয়ে খুবই গর্ববোধ করে।

সেইন্ট প্যাট্রিকস ডে (আয়ারল্যান্ডের প্যাট্রন সেইন্ট) তে সবাই সবুজ রং এর জামাকাপড় পড়ে রাস্তায় নেমে পড়ে উৎসবে মাতে, ইংল্যান্ডের নাম শুনলে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে, ইংল্যান্ডের সবকিছুর সাথে রাজনীতি মেশাতে কার্পণ্যবোধ করে না।

যাই হোক, একদিন ক্লাস শেষে ডর্মে ফিরে দেখি রায়ান খুবই খুশি।

জিজ্ঞেস করলাম ঘটনা কি?

সে বললো অবশেষে সে এবং তার বাবা অফিশিয়ালি আইরিশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে দ্বৈত নাগরিকত্ব পেয়ে গেছে, তাদের আইরিশ পাসপোর্ট হাতে এসে গেছে।

খুব জলদি বাপ-ব্যাটা এখন আয়ারল্যান্ড ঘুরতে যাবে, নিজেদের পূর্বপুরুষদের ভিটেমাটি খুঁজে দেখতে।

এত খুশি, সেদিন রাত্রে আমরা বন্ধু কয়েকজনাকে সে খাওয়াতেই নিয়ে গেল।

২০১৩ সাল। দুই বছর ধরে নিউ ইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটে চিঠি চালাচালি/ফর্ম জমাজমি করে অবশেষে বাংলাদেশী দ্বৈত নাগরিকত্বের সনদপত্র নিজের হাতে পেলাম।

সেদিন বোধহয় অবশেষে বুঝতে পেরেছিলাম এক দশক আগে রায়ানের ঠিক কিরকম অনুভূতি হয়েছিল।

“নিজের শেকড় কখনও ভোলবার নয়। যতই রঙ্গিন পুচ্ছ লাগিয়ে আমরা ময়ূর সাজতে চাই, আপন শেকড়েই মোদের পরিচয়।”

 

লেখক

ইয়ামেন হক- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গঠনমূলক এবং সুখপাঠ্য লেখার জন্য সুপরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের পার্ডূ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি শেষ করে বর্তমানে পেনসিলভেনিয়াতে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.