শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৫

সিটিজিবার্তা ২৪ ডটকম 

8925392485_c52bffccb4প্রবারণা পূর্ণিমা  বৌদ্ধদের শ্রেষ্ঠতম সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রবারণা শব্দের অর্থ হল আত্মনিবেদন। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিণী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস ব্যাপী সময়ে বর্ষাব্রত পালন করেন। তখন তারা বিহারে অবস্থান এবং জ্ঞানচর্চা করেন। সে সময়ে তাদের মধ্যে ভুলভ্রান্তি হতে পারে। তাই বর্ষাব্রত পালন শেষে তারা আশ্বিণী পূর্ণিমায় প্রবারণা করে। সেদিনে তারা যদি গোচরে এবং অগোচরে কোন ভুল করে থাকেন তার জন্য জেষ্ঠ ভিক্ষুর কাছে তা জানান এবং তা সংশোধনের আহবান জানান। তেমনিভাবে জ্যেষ্ঠ ভিক্ষুরাও নবীনদের কাছে তাদের ভুলের কথা জানাবেন। এজন্য এটি হলো ভিক্ষুদের আত্নসমর্পন ও আত্ননিবেদনের অনুষ্ঠান। একে কেন্দ্র করেই এ পবিত্র দিনে বৌদ্ধরা উৎসব করে।

বৌদ্ধভিক্ষুদের এ নিয়ম হলেও এটি সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনেও প্রযোজ্য।প্রবারণার পর গৌতমবুদ্ধ ভিক্ষুদের বহুজনের হিতের জন্য দিকে দিকে বের হওয়ার আহবান জানান এবং ধর্মপ্রচারের নির্দেশ দেন। তিনি সেসময় বলেছেন, এমন ধর্ম প্রচার না করতে যা মানবের জন্য হিতকর নয়। সাথে সাথে সত্যকে বরণের কথা এবং লোভকে বর্জনের কথা বলেন। সেজন্য বরণ ও বারণের কারণেও এটা প্রবারণা পূর্ণিমা।

12079670_1638168653126703_291328232330778180_nপ্রবারণাকে বৌদ্ধেরা বলে বড় ছাদাং। এর অর্থ বড় উপোস দিবস। উপোস হলো গৃহীদের চবিবশ ঘণ্টার জন্য অষ্টশীল ব্রত পালন করা। এদিন সকালে বৌদ্ধ নরনারী শুচি শুভ্র হবে, পরিস্কার পোশাকে বৌদ্ধ বিহার সমবেত হয়, বুদ্ধকে পূজা দেয়, ভিক্ষুদের আহার্য দেয়, দান দেয়, অষ্টশীল ও পঞ্চশীল গ্রহণ করে, দুপুরে বিহারে বিহারে ভাবনা হয়, বিকেলে আয়োজিত হয় ধর্মসভা। এতে পন্ডিতজন অংশ নেয়, বৌদ্ধধর্মের মূল বাণীগুলি আলোচিত হয়, রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এদিন ঘরে ঘরে ভাল রান্না হয়, অতিথিদের পায়েস পরিবেশন করা হয়।

দিনের সর্বশ্রেষ্ঠ আকর্ষণ হলো- সন্ধ্যায় ফানুস উড়ানো উৎসব। দেশের বিহারে বিহারে অনেক ফানুস উড়ানো হয়। ফানুস উড়ানোর উদ্দেশ্য হলো আকাশে ভাসমান গৌতমের পবিত্র কেশধাতুকে প্রদীপ দিয়ে বন্দনা করা। এসময় জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নরনারী সমবেত হয় এবং ফানুস উড়ানো উপভোগ করেন। এই তিথিতে বিহার গৃহশীর্ষে আকাশ প্রদীপ জ্বালানো হয়।লক্ষণীয় যে, এদিন সন্ধ্যায় বৌদ্ধেরা পঞ্চশীল গ্রহণ করে এবং বুদ্ধমূর্তির সামনে প্রদীপ ও মোমবাতি জ্বালায়, নবীনেরা প্রবীণদের প্রনাম করে, প্রবীণেরা ছোটদের আশীর্বাদ করে। এই উৎসব মিলনের উৎসব, দূরকে নিকট এবং পরকে আপন করার উৎসব।

 

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.