ষড়যন্ত্রের প্রমাণ জাতির সামনে দিন, নয় বক্তব্য প্রত্যাহার করুন- খালেদাকে কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

বৃহস্পতিবার , ২৯ ডিসেম্বর ২০১৬

ষড়যন্ত্রের প্রমাণ জাতির সামনে দিন, নয় বক্তব্য প্রত্যাহার করুন- খালেদাকে কাদের

ষড়যন্ত্রের প্রমাণ জাতির সামনে দিন, নয় বক্তব্য প্রত্যাহার করুন- খালেদাকে কাদের

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কোথায় ষড়যন্ত্র হয়েছে, তা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জাতির সামনে প্রমাণ করতে বললেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, ‘আপনি ষড়যন্ত্রের তথ্য-প্রমাণ নিয়ে জাতির সামনে উপস্থাপন করুন। অন্যথায় আপনার এই অন্ধকারের যে ঢিল ছোড়া মন্তব্য, তা প্রত্যাহার করুন। হয় প্রমাণ দিতে হবে, নয় প্রত্যাহার করতে হবে।’

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে এক যৌথসভায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা সফল করতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ঢাকার আশপাশের জেলা ও উপজেলা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং সেখানকার স্থানীয় সাংসদদের যৌথসভা হয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে আমরা একটা ঐতিহাসিক নির্বাচন করেছি। অবাধ, সুষ্ঠু এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করেছি। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন কমিশন এখানে স্বাধীন ও কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দলীয় সরকারের অধীনে এ দেশে যে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, এটা অনেকের কাছে ছিল অবিশ্বাস্য। সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।’

নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনকে পর্যবেক্ষক, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষ—সবাই একবাক্যে প্রশংসা করেছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও নজিরবিহীন নির্বাচন বলেও অনেকে অভিহিত করেছেন। আমরা ভাবলাম, এই নির্বাচন নিয়ে ফখরুল সাহেব ও রিজভী সাহেব বলার জন্য বলেছেন। শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও সমালোচনায় অবতীর্ণ হলেন। তিনি (খালেদা জিয়া) বললেন, ওপরে ফিটফাট ভেতরে ষড়যন্ত্র। কোথায় ষড়যন্ত্র, কিসের ষড়যন্ত্র, কীভাবে ষড়যন্ত্র হলো?’

জেলা পরিষদ নির্বাচন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক—বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই জবাব আমাদের কাছে আছে। সংবিধানের কথা বলবেন না। আপনারাই সংবিধান রক্তাক্ত ও পদদলিত করেছেন। কোন সংবিধানের বলে জিয়াউর রহমান এ দেশের রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন, আমরা জানতে চাই। সুতরাং আপনাদের মুখে সংবিধানের কথা শুনলে মনে হয়, ভূতের মুখে রাম নাম।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘১৯৯৬ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার পর জেলা পরিষদ আইন করেছিলাম। তা পাস হয় ২০০০ সালে। এরপর বিএনপি ক্ষমতায় আসে। তৎকালীন বিএনপি সরকারের আইনমন্ত্রী ছিলেন মওদুদ আহমদ। এই আইনটা যদি সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে কেন আপনারা সংশোধন করলেন না, বাতিল করলেন না, বাস্তবায়নও করলেন না? আমি জানতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘যেভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভোটে রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার নির্বাচিত হন, ঠিক একই প্রক্রিয়ায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।’

যৌথসভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আইনবিষয়ক সম্পাদক আবদুল মতিন খসরু, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান চৌধুরী প্রমুখ। এ ছাড়া মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার, মহানগর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং জেলাগুলোর স্থানীয় সাংসদেরা যৌথসভায় উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.