ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রত্যাহার লতিফের, ভুলের দায় শিকার গ্রাফিক্স ডিজাইনারের

সিটিজিবার্তা২৪.কম ।।

ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রত্যাহার লতিফের, ভুলের দায় শিকার গ্রাফিক্স ডিজাইনারের

চট্টগ্রাম : গত শনিবার ৬ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির ঘটনাকে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের একটি চক্রের ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করলেও এম এ লতিফ গতকাল রোববার বললেন, ‘আমার আগের ধারণা ভুল ছিল। মহানগর আওয়ামী লীগের একাংশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আমি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। এ কাজ ডিজাইনাররা করেছে। যাদের দিয়ে এসব ফেস্টুন বানানো হয়েছে তারা ছবির রেজ্যুলেশন বাড়াতে আমার শরীরের সাথে বঙ্গবন্ধুর মাথা সংযুক্ত করেছে।’ এজন্য সেই ডিজাইনারকে সংবাদকর্মীদের সামনে হাজির করেন এবং ডিজাইনার তার নিজের ভুল স্বীকারও করেন। কিন্তু মুজিব কোর্ট পরা ভালো রেজ্যুলেশনের এমপি লতিফের একটি ছবি সরবরাহ করেছে চেম্বারের এক কর্মকর্তা।

গতকাল আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে এম এ লতিফ বলেন, ‘গতকাল (শনিবার) আমি বলেছিলাম বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করবো। আমি তাদেরকে এখন আপনাদের (সংবাদকর্মীদের) সামনে উপস্তাপন করেছি এখন আপনারা তাদের কাছ থেকে আপনারা সঠিক সংবাদটি জেনে নিন।’

এসময় পাশে থাকা ডিজাইনারকে দেখিয়ে দেন এম এ লতিফ। আন্দরকিল্লার হায়দার প্রিন্টার্সে গ্রাফিকস ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন কবির হোসেন বাবু। ঢাকার বাসিন্দা বাবু বলেন, ‘৫ ফুট বাই ১০ ফুট সাইজের ব্যানার-ফেস্টুন বানাতে বঙ্গবন্ধুর যে রেজ্যুলেশনের ছবি দরকার ছিল তা পাওয়া যাচ্ছিল না। তখন বিষয়টি চেম্বার কর্মকর্তা রাজীব দাশকে জানালে তিনি আমাকে মুজিব কোর্ট পরা এমপি সাহেবের একটি ছবি দেন। আমি সেই ছবিতে বঙ্গবন্ধুর মাথা যুক্ত করে প্রিন্ট করেছি।’

কিন’ প্রিন্টের আগে এ ছবি এমপি লতিফ দেখেছেন কি না সংবাদকর্মীদের এ প্রশ্নের জবাবে কবির হোসেন বাবু বলেন, ‘ না, এমপি স্যার দেখেননি। তিনি ব্যস্ত থাকায় দেখার সময় পাননি। এ ভুলটি সম্পূর্ণ আমার।’

এ বিষয়ে চেম্বারের কর্মকর্তা রাজীব দাশকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি চেম্বারের ব্যানার-ফেস্টুনসহ সব ধরনের প্রিন্টের কাজ তদারকি করেছি। ডিজাইনারের কাছ থেকে আমার কাছে মুজিব কোর্ট পরা ভালো রেজ্যুলেশনের একটি ছবি চাওয়া হয়েছিল। আমার কাছে স্যারের (এমপি লতিফের) মুজিব কোর্ট পরা ভালো রেজ্যুলেশনের একটি ছবি ছিল। আমি সেই ছবিটি ডিজাইনারকে দিয়ে দেই। আর এসব প্রিন্টের কোনো প্রুফ দেখেননি স্যার ( এমপি লতিফ)।’

লতিফের সাথে জামায়াতী কানেকশন রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে এমপি লতিফ বলেন, ‘আমি নির্বাচনে অংশ নেয়ার আগ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলাম না। এখন কেউ যদি কোনোকিছু রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে না পারে তখন তাকে কোনো না কোনো ব্র্যান্ডে ব্র্যান্ডিং করা হয়। যদি আমার সাথে জামায়াতী কানেকশনের কিংবা অতীতে কখনো জামায়াতের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম প্রমাণ করতে পারে তাহলে আমি এখন এখান থেকে চলে যাব এবং সব দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াব। প্রকৃতপক্ষে কখনো বলা হয় জামায়াতী কানেকশন রয়েছে আবার কখনো আমাকে ধরে চুমো খায়, সব কাজতো এক জায়গা থেকে হচ্ছে।’

তার বিরুদ্ধে দায়ের করা আদালতের মামলা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে এমপি লতিফ বলেন, ‘মামলা চলবে মামলার গতিতে। দলীয় ফোরামে বিষয়টি নিয়ে যে সিদ্ধান্ত হবে আমি তা মেনে চলবো।’

আমি তো নিলামে উঠে গেলাম

লতিফের ছবি ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করেছে ডিজাইনার। এতে লতিফ সেই ডিজাইনারের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন কি না প্রশ্ন করা হলে এমপি লতিফ বলেন, ‘আমার মানহানি হয়েছে মানে? আমিতো জাতির কাছে নিলাম হয়ে গেছি। আর এক বিষয়ে মামলা তো একটা হয়ে থাকে। একাধিক মামলা হলেও শাস্তি একবার হবে। তাই দ্বিতীয়বার মামলা করার কোনো ইচ্ছে নেই।’

এর আগে গতকাল সিটিজিবার্তা২৪ডটকম ও চট্টগ্রামের সর্বাধিক পাঠকের পত্রিকা সুপ্রভাত বাংলাদেশে ‘বাংলা মেইলের অনুসন্ধান-এমপি লতিপের তদারকিতেই সেই ফেস্টুন’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। আর এ সংবাদের প্রেক্ষিতে এমপি লতিফ গতকাল তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ডিজাইনার, প্রিন্টার্সের মালিক হায়দার আলী ও চেম্বারের কর্মকর্তা রাজীব দাশকে মিডিয়ার সামনে হাজির করেন।

উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি আগ্রাবাদে চিটাগং চেম্বার অভ কমার্স আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে স্থানীয় সরকারদলীয় সংসদ সদস্য বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি দিয়ে ব্যানার ও ফেস্টুন প্রকাশ করেন এবং তা প্রধান সড়কের উভয়পাশে লাগানো হয়। সেই ফেস্টুনে পুরো শরীর এমপি লতিফের এবং মাথা বঙ্গবন্ধুর। বঙ্গবন্ধুর মাথা কেটে নিয়ে ফটোশপের মাধ্যমে লতিফের শরীরে বসিয়ে দিয়ে ফেস্টুনটি প্রিন্ট করা হয়েছিল। গত শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এমপি লতিফ স্বীকার করেন যে বঙ্গবন্ধুর মাথার নিচের শরীরের ছবিটি তার। গত ৩ ফেব্রুয়ারি সিটিজিবার্তা২৪ডটকম সহ দেশের বিভিন্ন মিডিয়ায় এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সারাদেশে শোরগোল পড়ে যায়। এ নিয়ে আদালতে হাজার কোটি টাকার দুইটি মামলাও হয়।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.