সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছেন মায়ানমারের সেনাপ্রধান

Monday,18 Sep 2017

Ctgbarta24.com

রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যা বন্ধ করতে ব্যর্থতার জন্য যখন অং সান সু চি ব্যাপক নিন্দার সম্মুখীন, তখন মায়ানমারের সামরিক কমান্ডার এই ইস্যুতে দেশবাসীকে আরো ঐক্যবদ্ধ হতে আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাখাইনের রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যাযজ্ঞকে যদি কেউ থামাতে পারেন, সেটি হচ্ছে দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং। জাতিসংঘ ইতোমধ্য এই হত্যাযজ্ঞকে ‘পাঠ্যপুস্তকের জাতিগত নিধন’ বলে মন্তব্য করেছে।

রোহিঙ্গা সঙ্কট আন্তর্জাতিক সমালোচনার পরও ৬১ বছর বয়সী এই জেনারেল বলেছেন যে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের কোনো ভিত্তি নেই। ১ মিলিয়নেও বেশি রোহিঙ্গা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাখাইনে বসবাস করে আসছেন।

মায়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধদের মধ্যে রোহিঙ্গা বিরোধী মনোভাব ব্যাপকভাবে দেখা যায়। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা তার এই মন্তব্য বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গিকেই প্রতিফলিত করেছে।

মায়ানমার এই সেনাপ্রধান তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে শনিবার এক পোস্টে বলেন, ‘তারা রোহিঙ্গা হিসেবে স্বীকৃতি দাবি করছে; যা মায়ানমারে জাতিগত গোষ্ঠী হিসেবে কখনো ছিল না।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাঙালি ইস্যু আমাদের জাতীয় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং সত্য প্রতিষ্ঠা করতে আমাদেরকে একত্রিত হতে হবে।’ তার এই আহ্বান সহিংসতাকে আরো উসকে দেয়া হচ্ছে।

রাখাইনের চলমান সহিংসতা থেকে বাঁচতে গত তিন সপ্তাহে ৪ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এই শরণার্থী সঙ্কট বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোকে মানবিক সঙ্কটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচার-বর্হিভূত হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, শিশু হত্যা, শিরশ্ছেদ এবং গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়ার অভিযোগ করেছে সাহায্য সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আগে সংস্থাটির মহাসচিব এন্টোনিও গুতেরেস বলেন, এটাই মায়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির শেষ সুযোগ। এরমধ্যে তিনি সহিংসতা বন্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন না করলে এবং মায়ানমারের সেনাবাহিনী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ না করলে তাদের পরিণতি হবে ভয়ঙ্কর।

রবিবার বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে গুতেরেস বলেন, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে রাখাইনে যে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ চলছে, তা এখনই বন্ধ করা না গেলে বিপর্যয় সত্যিই ভয়ঙ্কর রূপ নেবে।

তিনি আরো বলেন,মায়ানমারের সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের মুখে রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত যাওয়ার সুযোগ অবশ্যই দিতে হবে।

লেখক: লিন্ডসে মারদো

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.