সিলেটের শিশু সাঈদ হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০১৫

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম   

saidনিউজ ডেস্ক : সিলেটের স্কুলছাত্র শিশু আবু সাঈদকে অপহরণ ও হত্যা মামলায় তিনজনের ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত। সেইসাথে একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হল, নগরীর বিমানবন্দর থানার কনস্টেবল (বরখাস্ত) এবাদুর রহমান পুতুল, র‌্যাবের কথিত সোর্স আতাউর রহমান গেদা, সিলেট জেলা আওয়ামী ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম রাকিব। সিলেট জেলা আওয়ামী ওলামা লীগের প্রচার সম্পাদক মাহিব হোসেন মাসুমকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

মাত্র আট কার্যদিবসে এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে শিশু রাজনের বিচারিক কার্যক্রম ১৭ কার্যদিবসে এবং শিশু রাকিবের বিচারিক কার্যক্রম ১১ কার্যদিবসে সম্পন্ন হয়।

গতকাল বুধবার মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুর রশিদ রায়ের তারিখ ধার্য করেন।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবদুল মালেক জানিয়েছিলেন, গতকাল আদালতে সাঈদ অপহরণ ও হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। বৃহস্পতিবার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। মামলায় ৩৭ জনের মধ্যে ২৮ জন সাক্ষী দেন। ১৭ নভেম্বর সাঈদ অপহরণ ও হত্যা মামলায় ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ গঠন করেন।

গত ১১ মার্চ নগরের শাহ মীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র আবু সাঈদ অপহৃত হয়। পরে অপহরণকারীরা তার পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ঘটনার তিন দিন পর ১৪ মার্চ নগরের ঝরনারপাড় এলাকায় কনস্টেবল (বর্তমানে বরখাস্ত) এবাদুরের বাসা থেকে সাঈদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।  আটক করা হয় এবাদুরকে।  লাশ উদ্ধারের পরপরই পুলিশকে দেওয়া এবাদুরের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ওই রাতেই জেলা ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক এন ইসলাম তালুকদার ওরফে রাকীব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কথিত ‘সোর্স’ হিসেবে পরিচিত গেদা মিয়াকে আটক করে পুলিশ।  এবাদুরের বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জে। ২০১০ সাল থেকে তিনি মহানগর পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সাঈদের পরিবারের সঙ্গে এবাদুর পূর্বপরিচিত ছিলেন। পরদিন এ ঘটনায় সাঈদের বাবা মতিন মিয়ার দায়ের করা মামলায় এ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এবাদুরকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। পরে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এ ঘটনায় জড়িত জেলা ওলামা লীগের প্রচার সম্পাদক মহি হোসেন ওরফে মাসুম পলাতক ছিলেন। হত্যার ঘটনায় প্রায় ছয় মাস পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তাদের মধ্যে বরখাস্ত পুলিশ কনস্টেবল এবাদুর রহমান ওরফে পুতুলকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে। ৮ নভেম্বর আদালত থেকে পলাতক মাসুমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।  ১০ নভেম্বর মাসুম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। ১৭ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার-প্রক্রিয়া শুরু হয়।

 

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.